মানবিক উদ্ধার জাহাজ ওশান ভাইকিং এর সাহায্যে এই নৌকায় থাকা অভিবাসীদের মধ্য ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়। ছবি: এসওএস মেডিটেরিয়ানে
মানবিক উদ্ধার জাহাজ ওশান ভাইকিং এর সাহায্যে এই নৌকায় থাকা অভিবাসীদের মধ্য ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা হয়। ছবি: এসওএস মেডিটেরিয়ানে

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং ও জিও ব্যারেন্টস দুটি আলাদা অভিযানে ১৭০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। অপরদিকে একই সময়ে লিবিয়ার মিসরাতা সমুদ্র সৈকত থেকে ইউরোপ অভিমুখে রওনা দিতে যাওয়া ৫০০ অভিবাসীকে আটক করে কর্তৃপক্ষ। আটক হওয়াদের বেশিরভাগই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানা গেছে।

শীতের পর থেকেই অব্যাহত রয়েছে মধ্য ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার অভিযান।

২৪ এপ্রিল রোববার অভিবাসন সংস্থা এসওএস মেডিটেরিয়ানের উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং লিবিয়া উপকূল থেকে একটি অস্থায়ী নৌকায় থাকা ৭০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে।

অভিবাসীদের নৌকাটির চারদিকে লিবিয়া কোস্টগার্ডের একটি টহল নৌকা ঘুরতে থাকলে অভিবাসীদের মধ্যে আতংকিত হয়ে পড়ে বলে দাবি উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস সোসাইটি এবং রেড ক্রিসেন্টের সহায়তায় নৌকাটিতে থাকা ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্কসহসহ সব যাত্রীকে উদ্ধার করে ওশান ভাইকিং। 


এর আগের দিন ২৩ এপ্রিল শনিবার ফরাসি এনজিও ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) এর মানবিক উদ্ধার জাহাজ জিও ব্যারেন্টস লিবিয়ার উপকূলের নিকটে আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ১০১ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে। বেঁচে যাওয়াদের মধ্যে চারটি শিশু এবং একজন গর্ভবতী নারীও ছিলেন।


জিও ব্যারেন্টসের এই ঘটনার আরও কয়েক ঘন্টা পরে লিবিয়া উপকূলে একটি পরিত্যক্ত নৌকা ভাসতে দেখে এমএসএফ। এনজিওটির মতে, ঘটনা থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই নৌকাটি লিবিয়া কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হয়েছিল এবং অভিবাসীদের পরবর্তীতে ত্রিপোলিতে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছিল।

আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের হিসেব অনুসারে, চলতি বছরের শুরু থেকে অস্থায়ী নৌকায় ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে মধ্য-ভূমধ্যসাগরে কমপক্ষে ৫১১ জন অভিবাসী মারা গেছে।  

২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ২৪ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় সলিল সমাধি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সৈকত থেকে আটক ৫০০ এর বেশি অভিবাসী

অপরদিকে, অন্য একটি ঘটনায় রোববার লিবিয়ার একটি সৈকত থেকে ইউরোপ অভিমুখে যাত্রার প্রস্তুতি নেয়া ৫৪২ জন অভিবাসীকে আটক করে ত্রিপোলিতে নিরাপত্তা হেফাজতে পাঠিয়েছে লিবিয়া কোস্টগার্ড।

লিবিয়ার রাজধানী থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিসরাতা সমুদ্র সৈকতের অবস্থান। ছবি: গুগল ম্যাপ
লিবিয়ার রাজধানী থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মিসরাতা সমুদ্র সৈকতের অবস্থান। ছবি: গুগল ম্যাপ


সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, আটক হওয়া অভিবাসীরা লিবিয়ার পশ্চিম উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। রাজধানী থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে মিসরাতার একটি সমুদ্র সৈকতের কাছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবাই বিভিন্ন অস্থায়ী নৌকায় চড়ে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। 

এএফপির একজন ফটোগ্রাফারের মতে, আটক হওয়া অভিবাসীদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি।  

লিবিয়ার কর্মকর্তা জানিয়েছে, “তাদেরকে একই দিনে বাসে করে ত্রিপোলির কাছে একটি আটক কেন্দ্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত না পাঠানো পর্যন্ত এই আটককেন্দ্রে রেখে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হবে।”

লিবিয়ার বিভিন্ন সমুদ্র সৈকতে এবং সমুদ্র থেকে অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করে প্রায়শই নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিবাসীদের কারাগার অথবা আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়। 

ত্রিপোলিতে তারিক আল-সিক্কার কারাগার, রাজধানীর দক্ষিণে শারাহ জাওইয়া, দক্ষিণ-পশ্চিমে জিনতান কারাগারের মতো আটককেন্দ্রের সংখ্যা দেশটিতে প্রচুর। এছাড়াও স্থানীয় মিলিশিয়া এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিচালিত অনেক গোপন কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে বসবাসের অবস্থা শোচনীয়। 


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন