ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের মত, অভিবাসীরা নৃশংস অত্যাচারের শিকার হন৷ ছবি: আনা পান্টেলিয়া/এমএসএফ
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারসের মত, অভিবাসীরা নৃশংস অত্যাচারের শিকার হন৷ ছবি: আনা পান্টেলিয়া/এমএসএফ

মধ্য ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের উদ্ধার অভিযান চলছে৷ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এপ্রিল মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত চার হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে৷

২৪ এপ্রিল ভূমধ্যসাগরে উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং ও জিও ব্যারেন্টস দুটি আলাদা অভিযানে ১৭০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে৷ আইওএম-এর সম্প্রতি প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালের ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছোট নৌকায় চেপে আসা চার হাজার ১৩ জন ব্যক্তিকে লিবিয়ার উপকূল থেকে আটক করা হয়েছিল৷ তাদের উত্তর আফ্রিকার দেশটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ লিবিয়ায় ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১২২ জন ছিল নাবালক আশ্রয়প্রার্থী৷

আইওএম জানাচ্ছে, ২০২২ সালে মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় ৯৫ জন মানুষ জলে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন৷ ৩৮১ জনের এখনো খোঁজ মেলেনি৷ ২০২১ সালে ৩২ হাজার ৪২৫ জনকে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছিল৷

সমুদ্রে একাধিক মৃত্যু

উত্তর-মধ্য আফ্রিকার দেশ (লিবিয়া বা টিউনিসিয়া) থেকে মধ্য-ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা পেরিয়ে দক্ষিণ-মধ্য ইউরোপে (বিশেষ করে ইটালি) আসার রাস্তাটি বেশ বিপজ্জনক৷ অনেক সময়ই নৌকা উল্টে অভিবাসীদের মৃত্যু ঘটে৷ টিউনিসিয়ার সমুদ্র উপকূলরক্ষীরা রোববার ভূমধ্যসাগরে এক নৌকাডুবির ঘটনায় ১৭ জন অভিবাসীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে৷

লিবিয়ার উপকূলেও ৩৫ জন অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায় গত সপ্তাহে৷ এর মধ্যে ছয় জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজ মেলেনি৷ আইওএম জানিয়েছে, কী কারণে অভিবাসী নৌকা ডুবে গিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়৷

ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর সময় মৃত অভিবাসী৷ লিবিয়ার খোমসের সৈকতের ছবিটি তুলেছেন হামজা-আল-আহমার (আনাদলু এজেন্সি)
ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর সময় মৃত অভিবাসী৷ লিবিয়ার খোমসের সৈকতের ছবিটি তুলেছেন হামজা-আল-আহমার (আনাদলু এজেন্সি)

চলতি বছরে লিবিয়ার উপকূলে একাধিক দুর্ঘটনার খবর এসেছে৷ যেসব নৌকায় করে অভিবাসীরা যাত্রা করেন সেগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ৷ শীতকালে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রির নীচে নেমে যায়৷ প্রবল ঠান্ডা সহ্য করতে না পেরেও অনেকে প্রাণ হারান৷ আইওএম জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় এই ধরনের দুঃখজনক ঘটনা যাতে না ঘটে, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে৷ ওই বিবৃতিতে জোরদার তল্লাশি, উদ্ধারকারী দলের সংখ্যা বাড়ানো এবং নিরাপদে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে৷

লিবিয়ায় অত্যাচার

অনেক অভিবাসী নৌকা ইটালি বা মাল্টার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই আটকে দেওয়া হয়৷ প্রায়ই লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনীকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইটালি সমর্থন করে, জানিয়েছে আইওএম৷ নারী, শিশুসহ অভিবাসীদের অনেককে আটকে রেখে পরে লিবিয়ায় ফেরত পাঠায় উপকূল রক্ষী বাহিনী৷

আটক কেন্দ্রগুলি বেশ অপরিচ্ছন্ন, এ কথাও জানিয়েছে তারা৷ মানবাধিকার গোষ্ঠীর দেয়া রিপোর্ট এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, অভিবাসীরা এই সব আটক কেন্দ্রে মারধর, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ একাধিক নির্যাতনের শিকার হন৷ হত্যার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে৷

আরকেসি/কেএম

 

অন্যান্য প্রতিবেদন