উত্তর সাগর ও ইংলিশ চ্যানেলের যুক্তরাজ্যে উপকূলে ফ্রন্টেক্সের কার্যক্রম পরিচালনায় একট বিশেষ বিমান সরবারহ করে ডেনমার্ক। ছবি: ডেনমার্ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
উত্তর সাগর ও ইংলিশ চ্যানেলের যুক্তরাজ্যে উপকূলে ফ্রন্টেক্সের কার্যক্রম পরিচালনায় একট বিশেষ বিমান সরবারহ করে ডেনমার্ক। ছবি: ডেনমার্ক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

২০২৭ সালের মধ্যে সীমান্ত এবং উপকূলরক্ষী স্থায়ী কর্মীদের সংখ্যা ১০ হাজারে বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইইউ বহিঃসীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ফ্রন্টেক্স)৷ এনজিও স্টেটওয়াচ জানিয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে সীমান্তে "প্রাণঘাতী এবং প্রাণঘাতী নয়"–এমন অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে ফ্রন্টেক্স৷

২১ এপ্রিল প্রকাশিত একটি সংবাদবিজ্ঞপ্তিতে এনজিও স্টেটওয়াচ জানিয়েছে, ‘‘ইউরোপীয় বহিঃসীমান্ত নজরদারি সংস্থা (ফ্রন্টেক্স) ২০২৩ সালে সংস্থাটির সীমান্ত এবং উপকূলরক্ষীদের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জামে “প্রাণঘাতী এবং প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র” ব্যবহারের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করছে৷’’

এ ব্যাপারে গত ১৮ মার্চ ফ্রন্টেক্স পরিচালনা পর্ষদের নেয়া একটি সিদ্ধান্তের একটি কপির কথা উল্লেখ করেছে এনজিওটি৷ গৃহীত সিদ্ধান্তের নথিটিতে ফ্রন্টেক্স এজেন্টদের ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং স্থাপনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হয়েছে৷ নথিটিতে মূলত ফ্রন্টেক্সের প্রয়োজনীয় মৌলিক সরঞ্জামের ন্যূনতম সংখ্যার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে৷ সেখানে ২০২৩ সালের জন্য “প্রাণঘাতী এবং প্রাণঘাতী নয় এমন” অস্ত্র এবং গোলা-বারুদ ব্যবহারের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ রয়েছে৷

 স্টেটওয়াচ তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানায়, ফ্রন্টেক্সের অস্ত্রের তালিকা বৃদ্ধির ফলে সংস্থাটির বাজেট বেড়েছে৷

 বিভিন্ন অস্ত্রসহ সরঞ্জামের জন্য দরপত্র আহ্বান করা ফ্রন্টেক্সের জন্য একটি অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত৷ কারণ ইইউর-এর সংস্থাটি মূলত গঠিত হয়েছিল সদস্যা রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ বাহিনীর সমন্বয়ে৷ তবে ২০১৯ সাল থেকে এটির শক্তিবৃদ্ধি শুরু হয়েছে৷

আরও পড়ুন>>সীমান্ত নজরদারিতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে ইইউ

বর্তমানে এটিকে একটি স্থায়ী বাহিনীতে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন৷ ২০২৭ সালের মধ্যে সীমান্ত এবং উপকূলরক্ষী বাহিনীর নিজস্ব কর্মী সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে ফ্রন্টেক্স৷তাদের নিজস্ব ইউরোপীয় ইউনিফর্ম এবং অস্ত্র থাকবে৷ এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে সংস্থাটি বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার জন্য একটি দরপত্র আহ্বান করেছিল৷এই দরপত্রটি থেকে এজেন্সিটির বিভিন্ন প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও সরঞ্জামের একটি ধারণা পেয়েছিল এনজিও ও অভিবাসন সংস্থাগুলি৷ 

শেঙ্গেন জোনের বহিঃসীমান্তে ( বিমানবন্দর, স্থল সীমান্ত, বিভিন্ন চেকপয়েন্টে ও সমুদ্রে) দায়িত্ব পালন করা ফ্রন্টেক্স এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় হালকা অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো দরপত্রে আহ্বান করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷

পড়ুন>>অভিবাসীদের পুশব্যাক ও নির্যাতনই এখন গ্রিসের নীতি: অ্যামনেস্টি

এই দরপত্রগুলো এবং নতুন পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে করতে ২০২১ -২০২৭ অর্থবছরের জন্য এর জন্য ৫১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা (৫.৬ বিলিয়ন ইউরোর ) বাজেটের অনুরোধ করেছে ফ্রন্টেক্স৷ যা অন্যান্য সমস্ত ইইউ এজেন্সিগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ৷

নানা অভিযোগ ফ্রন্টেক্সের বিরুদ্ধে

 ফ্রন্টেক্সের এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নের অবকাঠামো নির্মাণে ইইউ এবং তার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সরকারি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে৷ এর ফলে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উপর অতিরিক্ত বোঝা তৈরি হবে, এই বিতর্ক সত্ত্বেও ফ্রন্টেক্সকে শক্তিশালী করা হচ্ছে৷

পড়ুন>>অবৈধ ‘পুশব্যাকের’ ঘটনা লুকিয়েছেন ফ্রন্টেক্সের কর্মকর্তারা: প্রতিবেদন

২০২১ সালের মে মাসে, ফ্রন্টেক্সের বিরুদ্ধে ইইউ-এর আদালতে একটি নজিরবিহীন মামলা দায়ের করা হয়েছিল৷ একটি এনজিওর সাহায্যে দুই আশ্রয়প্রার্থী অভিযোগ করেছিলেন, তারা গ্রিসের লেসবস দ্বীপে পৌঁছানোর পর ফ্রন্টেক্স এজেন্টরা তাদেরকে জোর করে ‘পুশব্যাক’ করেছিলেন৷

 ফ্রন্টেক্স গঠনের পর ১৭ বছরের ইতিহাসে এটি ছিল প্রথম মামলা ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ৷ ফ্রন্টেক্সের নানান বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের উপর কাজ করা এনজিও ফ্রন্ট-লেক্স জানিয়েছে, ‘‘প্রতিষ্ঠার পর থেকেই হাজারো বিতর্ক থাকলেও এখনও কোনো ঘটনায় বিচারের আওতায় আনা হয়নি এজেন্সিটিকে৷’’

আরও পড়ুন>>ইউরোপে আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ ফ্রন্টেক্স

২০২২ সালের মার্চ মাসেও এজেন্সির বিরুদ্ধে একই ইউরোপীয় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন একজন সিরীয় আশ্রয়প্রার্থী৷ এই মামলায়ও ফ্রন্টেক্সের বিরুদ্ধে গ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক পুশব্যাকে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছিল৷

 

 

এমএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন