১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুটি ভাগে বিভক্ত: উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে রয়েছে। দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। ছবি: ফ্লিকার
১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুটি ভাগে বিভক্ত: উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে রয়েছে। দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। ছবি: ফ্লিকার

প্রতি বছর বাংলাদেশ, ভারত, ক্যামেরুনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিপুল সংখ্যক আশ্রয়প্রার্থী সাইপ্রাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য আবেদন করেন৷ ২০১৯ সাল থেকে ব্যাপক হারে অভিবাসীদের আগমনের ফলে আশ্রয়ের অধিকার সম্পর্কিত আইন সংশোধন করে সাইপ্রাস সরকার৷ সাইপ্রাসে আশ্রয় আবেদনের সর্বশেষ তথ্য ইনফোমাইগ্রেন্টসের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো৷

মূলত সিরিয়া, বাংলাদেশ, ভারত, ক্যামেরুন, ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআরসি) ও নাইজেরিয়া থেকে হাজারো অভিবাসী ইউরোপীয় ইউনিয়নে (দ্বীপের দক্ষিণ অংশ, গ্রিক অংশ) প্রবেশের জন্য ছোট দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসকে বেছে নেয়৷

 ১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুই ভাগে বিভক্ত, উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে রয়েছে৷ তবে এই অংশটি তুরস্ক ছাড়া অন্য কোনও দেশ দ্বারা স্বীকৃত নয়৷ দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ৷

রাজধানী নিকোসিয়া তে তুর্কি সাইপ্রাস ও ইউরোপীয় সাইপ্রাস'কে পার্থ্ক্যকারী সবুজ লাইন। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
রাজধানী নিকোসিয়া তে তুর্কি সাইপ্রাস ও ইউরোপীয় সাইপ্রাস'কে পার্থ্ক্যকারী সবুজ লাইন। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস


তবে দুটি দেশেরই রাজধানী হচ্ছে নিকোসিয়া শহর৷ আলাদা করার জন্য শহরের অভ্যন্তরে একটি সীমানা বা (সবুজ রেখা) দেয়া হয়েছে৷ মূলত দক্ষিণ অংশে প্রবেশই লক্ষ্য থাকে অভিবাসীদের৷

পড়ুন>> তীব্র অভিবাসন সংকটে টালমাটাল সাইপ্রাস

অতীতে সাইপ্রাসে আসা অভিবাসীরা প্রাথমিকভাবে আশ্রয় আবেদন করে সেখানে বসবাস করতে পারলেও ২০১৯ সাল থেকে অভিবাসী স্রোতের কারণে আশ্রয় আইনে ব্যাপক পরিবর্তন করেছে দ্বীপরাষ্ট্র৷ বর্তমানে সেখানে কীভাবে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে হয় এবং একজন আশ্রয়প্রার্থী কী কী পাবেন তা জেনে নেওয়া যাক৷

 ১। আশ্রয় আবেদন নথিভুক্ত করা

 দক্ষিণ সাইপ্রাস অর্থাৎ ইউরোপীয় অংশে পৌঁছানো একজন অভিবাসীকে সরার আগে আশ্রয় আবেদন করতে দ্বীপের একমাত্র আশ্রয় নথিভুক্ত কেন্দ্র ‘পুরনারা’তে যেতে হবে৷ এটি রাজধানী নিকোসিয়া থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে কোকিনোট্রিমিথিয়া নামক ছোট একটি শহরে অবস্থিত৷ অবশ্য বর্তমানে কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য সংক্রমণ এড়াতে সকল নতুন আসা অভিবাসীদের কয়েক দিনের জন্য কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়৷

আশ্রয় আবেদন নিবন্ধনের জন্য দ্বীপের একমাত্র আশ্রয় নিবন্ধন কেন্দ্র ‘পুরনারা’। ছবি: শরিফ বিবি/ইনফোমাইগ্রেন্টস
আশ্রয় আবেদন নিবন্ধনের জন্য দ্বীপের একমাত্র আশ্রয় নিবন্ধন কেন্দ্র ‘পুরনারা’। ছবি: শরিফ বিবি/ইনফোমাইগ্রেন্টস


এই কোয়ারেন্টিন সময়কাল শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ডাকা হবে এবং বেশ কয়েকটি আবেদন সংক্রান্ত ফর্ম পূরণ করার জন্য দেয়া হবে৷ কী কারণে সাইপ্রাসে আশ্রয় আবেদন করতে চান সেসব কারণ জানতে চাওয়া হবে৷ কোনো আবেদনকারী ইতিপূর্বে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে আশ্রয় আবেদন করেছেন কি না জানাতে হবে৷ আঙুলের ছাপ দিতে হবে৷ পরিবারের কোনো সদস্য ইউরোপের কোথাও থাকলে সেটি স্পষ্ট করে বলা উচিত৷ কারণ সেক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে ডাবলিন বিধিমালার আওতায় ওই দেশে যাওয়ার সুযোগ দেয়া হতে পারে৷

 এ ব্যাপারে কোনো ভুল তথ্য দিলে অথবা অতীতে কোন ইইউভুক্ত দেশে আশ্রয় আবেদন করে থাকলে সেটি যাচাইয়ের জন্য আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করে সেটি ইউরোপের কেন্দ্রীয় ডাটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোনো দেশে পরিবারের কেউ থাকলে, অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলতে হবে৷ ফলে ডাবলিন নিয়মের আওতায় তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার অনুমতি মিলতে পারে৷

আরও পড়ুন>> অভিবাসন সমস্যায় জর্জরিত সাইপ্রাসের পাশে ইইউ

আইন অনুযায়ী এই আবেদন ৭২ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করার বিষয়টি বলা থাকলেও বর্তমানে সেখানে অবস্থানরত অভিবাসীরা জানিয়েছেন ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও তাদের আশ্রয় আবেদন নিবন্ধনের কপি দেয়া হয়নি৷ এই পরিস্থিতিতে অনেক আশ্রয়প্রার্থী ছয় মাস ধরে শোচনীয় অবস্থায় আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন৷যদিও আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিদিন খাদ্য বিতরণ করা হয়৷ কিন্তু সেখানে স্বাস্থ্যবিধি, থাকার জায়গা এবং অন্যান্য পরিষেবার অভাব প্রকট৷

২০২১ সালের মে মাস থেকে আশ্রয় আবেদনের প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য ২৯টি নিরাপদ দেশের তালিকা করেছে সাইপ্রাস৷ এই ২৯ টি দেশ থেকে আসা নাগরিকদের আশ্রয় আবেদনগুলোকে সাধারণত ‘ভিত্তিহীন’ হিসাবে বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ৷ উদাহরণস্বরূপ এই তালিকায় রয়েছে মিশর, নাইজেরিয়া, গাম্বিয়া, ঘানা, সেনেগাল, বেনিন বা টোগো ইত্যাদি৷ সব দেশের আবেদনকারীরা যদি প্রমাণ করতে না পারেন যে তাদের জীবন নিজের দেশে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সেক্ষেত্রে তাদের আবেদনগুলি অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করা হবে৷

 ২।আশ্রয় আবেদন জমার রেজিস্ট্রেশন নম্বর

 ৭২ দিন নিয়ম থাকলেও লম্বা সময় পরে একজন ব্যক্তির আবেদন সম্পূর্ণ বলে জানানো হলে আশ্রয়প্রার্থীকে একটি নথি দেয়া হয়৷ যেটি মূলত আশ্রয় আবেদনের পরের ধাপের মূল্যায়ন সফলভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে সেটির প্রমাণপত্র৷

এই নথিতে একজন আবেদনকারীর সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া থাকে৷ এটি দেখালে সাইপ্রাসে চলাফেরার ক্ষেত্রে পুলিশ একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করব না৷ এছাড়া পরবর্তীতে একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর আবেদনকারীকে আরেকটি নথি দেয়া হবে৷ যেটির নাম অ্যালিয়েন্স রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (এআরসি), যার উপরে একটি রেজিস্ট্রেশন নম্বর থাকবে৷

 মূলত এই ধাপের পর একজন আশ্রয়প্রার্থীকে ‘পৌরনা’ আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়৷ তবে আশ্রয়কেন্দ্র ত্যাগ করার আগে অবশ্যই একজন আশ্রয়প্রার্থীকে সাইপ্রাসে কোথায়, কার বাসায় থাকবেন এরকম একটি বৈধ ঠিকানা দিতে হবে৷

 ৩। সাইপ্রাসে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে বসবাস

 উপরোক্ত প্রক্রিয়া শেষে কর্তৃপক্ষ আশ্রয়প্রার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ না করা পর্যন্ত অবশ্যই অপেক্ষা করতে হবে৷ সাধারণত আশ্রয়প্রার্থীদের নিকোসিয়ার অ্যাসাইলাম সার্ভিসের সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়৷ যেখানে মূলত আশ্রয় আবেদন গ্রহণ করে শরণার্থী মর্যাদা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়৷ ইংরেজিতে পরিচালিত এই সাক্ষাৎকারে সময় একজন আশ্রয়প্রার্থীকে সাইপ্রাসে আসার কারণ সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্যের জন্য বিশদ জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে৷

 তবে, ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ পেতে বর্তমানে সাইপ্রাসে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যাপক ধৈর্য ধরতে হচ্ছে৷ যদিও সরকারি পদ্ধতি অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদানের সময় থেকে সর্বাধিক দুই মাসের মধ্যে ডাকার কথা৷ কিন্তু এটি তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় নেয়৷সুতরাং, কর্তৃপক্ষ একজন ব্যক্তিকে তলব করার আগে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে৷

 ৪।আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকার কী কী

 

ভাতা

আশ্রয় আবেদনের সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষাকালীন সময়ে একজন আশ্রয়প্রার্থী কর্তৃপক্ষ থেকে সাহায্য একটি চেকের মাধ্যমে ২৬১ ইউরোর মাসিক ভাতা পেয়ে পাবেন৷ তবে এক্ষেত্রে একজন আশ্রয়প্রার্থীর অবশ্যই একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে৷ সাইপ্রাসে সকল প্রকার সামাজিক পরিষেবা পেতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাধ্যতামূলক৷

 অভিবাসী আগমনের বেড়ে যাওয়ায় অনেক সময় আশ্রয়প্রার্থীদের মাসিক ভাতা দেরিতে আসে৷ অনেক আশ্রয়প্রার্থী তাঁর প্রথম মাসের আশ্রয় ভাতা পেতে অপেক্ষায় থাকতে থাকতে নিঃস্ব হয়ে যেতে পারেন৷

 এই ভাতা দিয়েই একজন ব্যক্তিকে সাইপ্রাসে থাকা, খাওয়া এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হবে৷ ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো সাইপ্রাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত কোনো বাসস্থান নেই৷ শুধুমাত্র দক্ষিণে কোফিনু নামক একটি কেন্দ্রে পরিবার এবং একক নারীদের থাকার জন্য একটি স্থায়ী আবাসন রয়েছে, যেখানে জায়গা পাওয়া বেশ কঠিন৷

 কর্মসংস্থান

 সকল আশ্রয়প্রার্থী তাদের আবেদন জমা দেওয়ার এক মাস পর থেকে কাজ করার জন্য অনুমতি পেয়ে থাকেন৷ তবে চাইলের যে কোনো খাতে কাজ করার সুযোগ নেই৷ সাইপ্রাসের আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থীরা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু কাজে যোগ দিতে পারেন৷ এগুলি হল–কৃষি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গাড়ির গ্যারেজের কর্মচারী র কাজ, বিভিন্ন পরিষেবার ব্যবস্থা (বিশেষ করে পরিবার এবং খাদ্য সরবরাহকর্মী) এবং পর্যটন সম্পর্কিত অবকাঠামোগুলোতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়৷

 উদাহরণস্বরূপ, সাইপ্রাসে কৃষি বা গবাদি পশু পালনে কাজ করা একজন শ্রমিক প্রতি মাসে প্রায় ৪৫৫ ইউরো ব ৪৫ হাজার টাকা সমমানের বেতন পেয়ে থাকেন৷ আশ্রয়প্রার্থীদের চাকরির আবেদনের জন্য ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পাবলিক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস অনলাইন সিস্টেমে নাম নথিভুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷

 তবে আশ্রয়প্রার্থীদের মনে রাখতে হবে, একবার কেউ কাজে যোগ দিলে সেক্ষেত্রে আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে মাসিক ভাতা বাতিল করা হবে৷ এমনকি, কাজ চলে গেলেও আর সরকারি ভাতা পেতে অসুবিধা হবে৷ 

একজন আশ্রয়প্রার্থী যদি কর্মহীন থাকেন, তাহলে দেশটির বাকি চাকুরিপ্রার্থীদের মতো তাকেও কাজ খোঁজার জন্য ও অন্যান্য সহায়তা পেতে পাবলিক এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস দ্বারা পরিচালিত পরিষেবাতে অনলাইনে বিষয়টি জানাতে হবে৷

 স্বাস্থ্য

 সাইপ্রাসে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতো কোনো নির্দিষ্ট জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ছিল না৷ বর্তমানে সাইপ্রাসের সাধারণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ‘গেসি’ বলা হয়৷ এই সামাজিক ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবাগুলো শুধুমাত্র শরণার্থী ও ভরতুকি-সুরক্ষা প্রাপ্ত ব্যক্তি ও বৈধ অভিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত৷ আশ্রয়প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা বা শরণার্থী মর্যাদা না পাওয়া পর্যন্ত ‘গেসি’ পরিষেবা থেকে সুবিধা পাবেন না৷

 সুতরাং একজন আশ্রয়প্রার্থীর বিনামূল্যে সার্বজনীন স্বাস্থ্যপরিষেবা পাওয়া অসম্ভব৷ আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অন্য একটি ব্যবস্থা আছে যেটি বেশ জটিল৷ এক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে অবশ্যই এআরসি বা অ্যালিয়েন কার্ডের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জমা দিতে হবে৷ একবার অনুরোধ যাচাই করা হলে, একটি হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য এক বছর মেয়াদি একটি কার্ড আবেদনকারীকে ডাকযোগে পাঠানো হয়৷ এই কার্ড দিয়ে একজন আশ্রয়প্রার্থী এক বছর পর্যন্ত নির্দিষ্ট হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন৷ 

 তবে এক্ষেত্রে কেউ চাকুরিরত হলে আয় অনুসারে চিকিৎসাবাবদ একটি খরচ দিতে হবে৷

 ৫। আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তের পর 

 যদি কারো আশ্রয়ের আবেদন গৃহীত হয়, সেক্ষেত্রে হয় তিনি শরণার্থী মর্যাদা পাবেন যার আওতায় তিন বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য কার্ড অথবা ভরতুকি-সুরক্ষার আওতায় এক বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য রেসিডেন্ট কার্ড দেয়া হবে৷ যদি কারো আবেদন আশ্রয় পরিষেবা দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হয়, সেক্ষত্রে তিনি চাইলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন৷

 আবেদন প্রত্যাখ্যানের তারিখের ৩০ দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য প্রশাসনিক আদালত বা আইপিএসিতে আপিল করতে হবে৷ সম্প্রতি এই আইপিসি তৈরি হয়েছে৷

সমন পেলে আশ্রয়প্রার্থীর জন্য একজন নিবন্ধিত আইনজীবী নেয়া জরুরি৷ আইনি প্রতিনিধি ছাড়া আদালতে শুনানিতে উপস্থিত হওয়া সম্ভব, কিন্তু এনজিও-গুলির মতে, আইনজীবী ছাড়া আপিলে আশ্রয় আবেদনের সাফল্যের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত৷

 সাইপ্রাসের অ্যাসাইলাম সার্ভিস অনুসারে, ২০২১ সালে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার দাঁড়িয়েছে ৮১.৪ শতাংশে৷

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) প্রদত্ত তথ্য অনুসারে গত ২০ বছর ধরে এই হারই দ্বীপরাষ্ট্রটিতে প্রয়োগ করা হয়েছে৷

যদি আশ্রয় আদালত বা আইপিএসি কোনো আপিল আবেদন গ্রহণ করে, তাহলে অ্যাসাইলাম সার্ভিসের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে৷ আদালত অ্যাসাইলাম সার্ভিসকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আশ্রয় পরিষেবাতে ফেরত পাঠাতে পারে অথবা সরাসরি শরণার্থী মর্যাদা বা সহায়ক সুরক্ষা প্রদান করতে পারে৷

 আশ্রয় আদালত বা আইপিএসি প্রদত্ত যে কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৪ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সুযোগ রয়েছে৷ তবে পরিশেষে সব আইনি উপায় অনুসরণ করেও কেউ শরণার্থী মর্যাদা পেতে ব্যর্থ হলে একজন আশ্রয়প্রার্থীকে দ্বীপটি ছেড়ে যেতে হবে৷

 

আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আশ্রয়প্রার্থীদের দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত লিমনেসের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট
আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আশ্রয়প্রার্থীদের দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত লিমনেসের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ছবি: সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইট


প্রত্যাখানের পর থেকেই একজন আশ্রয়প্রার্থীকে অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে বিবেচনা করে আটককেন্দ্রে রাখা হতে পারে৷ এছাড়া আশ্রয়প্রার্থীর নিজ দেশ তাকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকার করলেও এটি ঘটতে পারে৷ বর্তমানে, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের যে সব নাগরিকের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে তাদেরকে দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত লিমনেসের অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়৷


এমআইআই/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন