আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মিছিল৷ শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে গত বছর এ আন্দোলনটি হয়েছিল৷ ফাইল ছবি৷ রোমি ফার্নান্দেজ, নুর ফটো৷
আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে মিছিল৷ শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে গত বছর এ আন্দোলনটি হয়েছিল৷ ফাইল ছবি৷ রোমি ফার্নান্দেজ, নুর ফটো৷

আফগানিস্তের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এমন বিবেচনায় কয়েকশ আফগানের আশ্রয় আবেদন বাতিল করেছে বেলজিয়াম সরকার৷

গত মার্চ মাসে বেলজিয়ামের কমিশনার জেনারেল ফর রিফিউজি দপ্তর আশ্রয়প্রদান বিষয়ে মোট এক হাজার নয়শ ২৫টি সিদ্ধান্ত প্রদান করে৷ এর মধ্যে প্রায় ১৫শ আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়, যার এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় পাঁচশ জন আফগান নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ভিআরটি৷   

সংবাদ মাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন  সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ গত বছরের অক্টোবরে তালেবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজার হাজার আফগান নাগরিক দেশ ত্যাগ করেন এবং ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয়ের আবেদন করেন৷

বেলজিয়াম সরকারের আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন বাতিলের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে৷তবে সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বেলজিয়ামের রিফিউজি দপ্তরের কমিশনার জেনারেল ডির্ক ফান ডেন বুল্ক বলেন, ‘‘গত কয়েক মাস ধরে আমরা আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেছি৷ দেশটিতে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে তবে নির্বিচারের সহিংসতা ঘটছে বিষয়টি এমন নয়৷

তিনি বলেন, সবাই যে তালেবানদের সহিংসতার শিকার তা নয়৷ শুধু কিছু কিছু মানুষ তাদের লক্ষ্যবস্তু৷      

আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ে ধীর গতি

গত বছরে আগস্ট মাসে বেলজিয়ামের আশ্রয় ও অভিবাসনমন্ত্রী সামি মাহদি বলেন, কোনো আশ্রয়প্রার্থীর নিরাপত্তা যদি তার দেশে ঝুঁকিপূর্ণ হয় তবে তাকে ফেরত পাঠানো হবে না৷ সেই সাথে তিনি আরো বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে তা দৈনিক বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে৷   

তবে এমন ঘোষণার পরও কর্তৃপক্ষ শুধু তাদের আবেদনই পর্যালোচনা করছিল যাদের নিরাপত্তার উপর সরাসরি হুমকি ছিল৷ এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী কিংবা যারা আগের আফগান সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল বা আফগানিস্তানে পশ্চিমের দেশগুলোর কার্যক্রমে সহায়তা করেছিল৷  

তবে আফগানিস্তান থেকে আসা অন্যান্য আবেদন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া গত মার্চ পর্যন্ত স্থগিত ছিল৷ গত অক্টোবর থেকে আশ্রয় আবেদন গ্রহণ এবং যাচাই বাছাই করতে গিয়ে মারাত্মক জটিলতায় ভুগছিল বেলজিয়াম সরকার৷ এসময় আশ্রয়ের আশায় শত শত অভিবাসী মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন৷ তাদের অনেককের প্রাথমিক আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে রাস্তায়ও দিন কাটাতে হয়েছে৷ এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সম্প্রতি ইউক্রেন থেকে শরণার্থী আসা শুরু হওয়ার পর এ সংকট আরো এ সংকট আরো বেড়েছে৷ 

আরআর/এফএস   


 

অন্যান্য প্রতিবেদন