স্ট্রবেরি খামারে কাজ চলছে৷ ছবি-ডিডাব্লিউ
স্ট্রবেরি খামারে কাজ চলছে৷ ছবি-ডিডাব্লিউ

স্ট্রবেরি নামে একটি স্টার্ট-আপের প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে মিলানের বেরি খামারে ৭৩ জন বিদেশি শ্রমিককে শোষণের অভিযোগ উঠেছে৷ ১৩ জুলাই এই মামলার প্রথম শুনানি হওয়ার কথা৷

ইটালির উত্তরে মিলান শহরে স্ট্রবেরি নামে একটি স্টার্ট আপ তৈরি করেন গুগলিয়েলমো স্টাগনো ডি আলকন্ট্রেস৷ ইটালির অন্যতম অভিজাত বোক্কোনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বছর চৌত্রিশের আলকন্ট্রেস৷ স্ট্রবেরি হল একটি ফটোভোলটাইক গ্রিনহাউস৷ ঘিরে রাখা এই জায়গায় তাপমাত্রা, আর্দ্রতা এবং অন্যান্য পরিবেশগত সুবিধা রাখা হয়, যা ফসল ফলতে সাহায্য করে৷ এই খামারেই বিদেশি শ্রমিকদের শোষণের অভিযোগ উঠেছে৷

অভিযোগ উঠেছে, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, রাস্পবেরি এবং ব্ল্যাকবেরি চাষ এবং ফসল কাটার কাজে বিদেশি নাগরিকদের ব্যবহার করা হয়েছে৷ যেগুলি পরে চোরাপথে বিক্রিও করা হয়৷ মিলানের বিচারক ফ্যাব্রিজিও ফিলিসে অন্য দুই অভিযুক্তকে বিচারের জন্য রিমান্ডে পাঠিয়েছেন৷ দুই অভিযুক্তর মধ্যে একজন সংস্থার সাবেক প্রধান নির্বাহী এবং অন্যজন বর্তমান প্রধান নির্বাহী৷

অপর একটি কৃষি সংস্থা ক্যাসিনা পিরোলা ৭০ হাজার ইউরো জরিমানা দিতে রাজি হয়েছে৷ সেই সংস্থায় দিনমজুরদের সাবেক রক্ষী দেড় বছরের সাজার আবেদনে সম্মত হন৷ইটালির কৃষক সংগঠন কোল্ডরেট্টি এবং ৩৪ জন কৃষিশ্রমিক শোষণের অভিযোগ এনেছিলেন৷এরপর ইটালির পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে৷

দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ, মজুরি কম

এই শ্রমিকদের বেশিরভাগ আফ্রিকার নানা দেশের নাগরিক৷ তাদের কম টাকার বিনিময়ে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে বাধ্য করা হয়, যা বেআইনি৷ কোভিড মহামারির সংক্রান্ত কোনো সুরক্ষা কিংবা স্নানেরও ব্যবস্থা নেই তাদের জন্য৷ এই স্টার্ট আপ ২০২০ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়৷

তদন্তে প্রকাশ, অভিযুক্তের মাকেও বিচারের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল৷ শ্রমিকদের উপর নজরদারির দায়িত্ব ছিল, এমন দুজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছিল৷ ৭৩ জন শ্রমিককে শোষণের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে৷ শ্রমিকদের থেকে মুনাফা তোলা এবং হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে৷ অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় কাজের জন্য তাদের ৪ ইউরো অর্থাৎ ৩৬৮ টাকা দেয়া হত৷ 

কোনো ধরনের স্নানঘরের ব্যবস্থা ছিল না৷ শ্রমিকরা পরস্পরের সঙ্গে কথা বললে, ফোনে চার্জ দিলে কিংবা জল খেতে গেলেও তাদের প্রতি বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ করা হত৷ সংস্থার প্রধানকে ‘বিগ বস’ বলে ডাকতে বাধ্য করা হত শ্রমিকদের৷ শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের বলা হত যে, তাদের ‘উপজাতি’ হিসেবে কাজ করতে হবে৷

আরকেসি/আরআর (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন