ওশান ভাইকিংয়ে উদ্ধার হওয়ার অভিবাসীরা৷ ২৭ এপ্রিলের ছবি৷ ছবি: এসওএস-মেড-আইএনটি-এর টুইটার থেকে
ওশান ভাইকিংয়ে উদ্ধার হওয়ার অভিবাসীরা৷ ২৭ এপ্রিলের ছবি৷ ছবি: এসওএস-মেড-আইএনটি-এর টুইটার থেকে

দশ দিন সমুদ্রে থাকার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং ইটালির সিসিলিতে নোঙর করেছে৷ জাহাজে থাকা অভিবাসীদের নিরাপদে সেখানে  আশ্রয় নেয়৷ তবে উদ্ধারকাজের সময় ইইউর ব্যর্থতায় হতাশা প্রকাশ করেছেন উদ্ধারকারীরা৷

প্রথম দলটিকে উদ্ধার করার দশ দিন পর ওশান ভাইকিংয়ের ২৯৪ জন অভিবাসী ইটালির উপকূলে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিল৷ পরিচালনা সংস্থা এসওএস মেডিটেরানি জানিয়েছে, উদ্ধারকারীদের সিসিলির পোজালো বন্দরে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিল জাহাজটি৷ এনজিও ওশান ভাইকিং জানিয়েছে, ‘অভিবাসীদের নিরাপদে নিয়ে আসার সময় আমরা আবারো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ব্যর্থতার সাক্ষী রইলাম৷’

ওশান ভাইকিংয়ের এক কর্মী বলেন, ‘‘নারী এবং শিশুসহ সব অভিবাসীরা মারাত্মক ক্লান্ত ছিলেন৷ অভিবাসীদের জরুরি সহায়তার প্রয়োজন ছিল অথচ তারা তা পাননি৷ অনেক শরণার্থী এবং অভিবাসী আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন৷ তাদের চিকিৎসারও প্রয়োজন ছিল৷’’

শেষের কদিন সমুদ্রে

সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল, নিরাপদে নোঙর ফেলার জন্য একটি বন্দর পেতে তারা ১২ বার অনুরোধ করেন৷ কিন্তু অনুমতি মেলেনি৷ সেই সময়ে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির অবস্থা সংকটজনক ছিল বলে তাকে বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়৷

লিবিয়া উপকূল থেকে ২৪ মার্চ ৩০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে ওশান ভাইকিং | ছবি:এসওএস মেডিটেরানি
লিবিয়া উপকূল থেকে ২৪ মার্চ ৩০ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে ওশান ভাইকিং | ছবি:এসওএস মেডিটেরানি

এসওএস মেডিটেরানি টুইটারে জানায়, ‘সমুদ্রে আসার পথে মৃত্যুর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়৷ এদিকে অনেক সময় কর্তৃপক্ষের থেকে তখনও অবতরণের অনুমতি মেলে না৷ এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত পীড়াদায়ক৷ অভিবাসীরা কোথায় নামতে পারেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত তাদের ব্যক্তিগত উদ্ধারকারী নৌকায় বসে থাকতে হয়৷’ 

ওশান ভাইকিং গত সপ্তাহে সোমবার থেকে বেশ কয়েকটি অভিযানে অভিভাবকহীন নাবালকসহ ১২৭ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে৷ ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের ইউরোপে আসার পথটি সবচেয়ে বিপজ্জনক রুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়৷ অনেক সময়ই নৌকা উল্টে অভিবাসীদের মৃত্যু ঘটে৷

আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (আইওএম) -এর মত, এই বছরের শুরু থেকে কমপক্ষে ৬৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বা নিখোঁজ হয়েছেন৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আসল সংখ্যাটা এর থেকে আরো অনেক বেশি৷

আরকেসি/আরআর

 

অন্যান্য প্রতিবেদন