পাউনারাতে এভাবে লাইন দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করে অভিবাসীরা | ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস
পাউনারাতে এভাবে লাইন দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করে অভিবাসীরা | ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস

সাইপ্রাসের পউনারাতে একটি অভিবাসী অভ্যর্থনা কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ছয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন৷ তাদেরকে দেশটির রাজধানী নিকোশিয়াতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷

পাউনারা অভ্যর্থনাকেন্দ্রে বুধবার খুব সকালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে৷ সাইপ্রাস পুলিশ জার্মান বার্তাসংস্থা ডিপিএকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে৷ 

অগ্নিকাণ্ডে আহত যে ছয়জন অভিবাসীকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তারা সবাই নাইজেরীয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে৷ শিবিরটিতে আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত করছে অগ্নিনর্বাপক কর্তৃপক্ষ৷ 

সাইপ্রাসের একটি গণমাধ্যম লিখেছে যে বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়৷ তবে তা নেভাতে সক্ষম হন শিবিরটির নিরাপত্তারক্ষীরা৷ অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে ঘটনার তদন্ত করতে সেখানে যান৷ 

অগ্নিকাণ্ডে আহতদের শারিরীক অবস্থা ‘স্থিতিশীল’ রয়েছে বলেও জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম৷  

পউনারা শিবিরের পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ

পউনারা অভিবাসী শিবিরের অবস্থা নিয়ে সেখানকার বাসিন্দারা ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়নসংস্থা এবং মানবাধিকার সংগঠন নানা সময় অভিযোগ করেছে৷  

রিপাবলিক অব সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদিস মার্চের মাঝামাঝি সময় শিবিরটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার পরিস্থিতি ‘দুঃখজনক’ বলে বর্ণনা করেন৷ শিবিরটির ধারণক্ষমতা একহাজার হলেও বর্তমানে সেখানে দুইহাজারের মতো অভিবাসী অবস্থান করছেন৷ 

দেশটির শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনার ডেসপো মিকালিডোও মার্চে শিবিরটি পরিদর্শন করেন৷ তিনি সেখানকার পরিস্থিতি দেখে ‘আতঙ্কিত’ হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন৷ 

মিকালিডো বলেন, ‘‘শিশুদের রাস্তায় রাখলে তারা নানারকম বিপদে পড়ার শঙ্কায় থাকে যা মানবাধিকার লঙ্ঘন৷ আবার তাদের শিবিরে রাখা হলেও তাতে তাদের কোনো উপকার হয় না৷ ফলে এটা কোনো বিকল্প নয়৷’’

সকালের নাস্তায় ‘দুধ ছাড়া শুধু একটু টুকরো রুটি’

শিশু অধিকার বিষয়ক কমিশনার জানান শিবিরে থাকা অভিভাবকহীন শিশুদের সকালের নাস্তা হিসেবে প্রতিজনকে দুধ ছাড়া শুধু এক টুকরো রুটি দেয়া হয়৷ আর দুপুরে শুধু তাদের ছোট এক বোতল পানি দেয়া হয় যা সারাদিনের জন্য৷

মিকালিডো আরো জানান যে শিবিরটির স্বাস্থ সুরক্ষা ব্যবস্থাও বেশ নাজুক৷ তিনি বলেন, ‘‘বেড শেয়ার করতে হয় বলে অনেক শিশু ফ্লোরেই ঘুমায়৷ আর সেখানে তিনশোর মতো শিশু মাত্র দুটো টয়লেট এবং একটি গোসলখানা ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছে৷’’ 

দ্বীপরাষ্ট্রটির সংবাদপত্র সাইপ্রাস মেলকে মিকালিডো আরো জানান যে অভিবাসী শিবিরটিতে শিশুদের জন্য খেলোধুলার বা শিক্ষার কোনো কার্যক্রম নেই৷ ফলে তারা একধরনের উদ্বেগ নিয়ে অনিশ্চিত জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে৷ 

মার্চের শেষ নাগাদ পউনারা থেকে ৫০ শিশুকে পাফোসের অন্য একটি শিবিরে স্থানান্তর করা হয়েছে যেখানকার পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত ভালো৷ আরো শিশুকে এভাবে সরিয়ে নেয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে৷   

এক বিভক্ত দ্বীপ

অভিবাসী শিবিরটিতে থাকা বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে মাঝেমাঝে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে৷ সাইপ্রাসে আসা অধিকাংশ অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী মূলত তুরস্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটির উত্তরাঞ্চল হয়ে আসে যেটি ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) নয়৷ তারা তুরস্ক থেকে উত্তর সাইপ্রাসে বিমানে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে পায়ে হেঁটে বা গাড়িতে করে ‘গ্রিন জোন’ পেরিয়ে সাইপ্রাসের ইইউভুক্ত অঞ্চলে প্রবেশ করে৷  

১৯৭৪ সালে দ্বীপটি দুইভাবে বিভিক্ত হয়েছিল৷ তবে ২০০৪ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে দ্বীপবাসী এই সিদ্ধান্তে আসে যে শুধু গ্রিকভাষী দক্ষিণাঞ্চল ইইউতে যোগ দেবে৷ তুরস্ক অবশ্য তার দখলে থাকা দেশটির উত্তরাঞ্চলকেও একটি আলাদা রাষ্ট্র মনে করে৷  

অনিয়মিত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের ঢল সামলাতে রিপাবলিক অব সাইপ্রাস বারংবার ইইউর সহায়তা চেয়েছে৷ দেশটিতে একজন ব্যক্তি আশ্রয়ের আবেদন করার পর সেটির যাচাইবাছাই সম্পন্ন হতে কয়েকমাস থেকে কয়েকবছর পর্যন্ত সময় লেগে যায়৷  

এআই/কেএম (ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন