২০২১ সালেও শীর্ষ দশ রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশের তালিকায় বাংলাদেশ।  ছবি: এএফপি
২০২১ সালেও শীর্ষ দশ রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশের তালিকায় বাংলাদেশ। ছবি: এএফপি

২০২১ সালে বাংলাদেশে সার্বিক রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির হার ২.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে । গেল বছর বাংলাদেশে মোট ২২ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ এসেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। হিসেব অনুযায়ী, রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশগুলোর তালিকায় বালাদেশের অবস্থান সাত নম্বরে।

মঙ্গলবার ১০ মে, ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্রিফ ৩৬’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাক। প্রতিবছর স্বল্প উন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহ পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। 

এবারের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শীর্ষ ছয়টি রেমিট্যান্স গ্রহীতা দেশ ভারত, মেক্সিকো, চীন, ফিলিপাইন, মিশর এবং পাকিস্তানের পরেই বাংলাদেশ সপ্তম দেশ হিসেবে অবস্তান করছে। এছাড়া, দক্ষিণ এশিয়ার আট দেশের মধ্যে ভারত ও পাকিস্তানের পরে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসা দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। 

যদিও ২০২১ সালে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে মাত্র ২.২ শতাংশ। বিশ্বব্যাক আশা করছে চলতি বছরও একই হার বজায় থাকবে। অর্থ্যাৎ গেল বছরের চেয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার বড় কোন সম্ভাবনা নেই। 


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি প্রধানত সরকারি প্রণোদনা এবং অভিবাসীদের তাদের পরিবারের জন্য পাঠানো অর্থের কারণেই বেড়েছে। 

২০২২ সালের মার্চ মাসে রমজান মাসের শুরুতে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি হলেও, গত আট মাসে মাসিক রেমিট্যান্স বৃদ্ধির হার হ্রাস পাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্যেখ করা হয়েছে।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসন দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রেমিট্যান্সে বিশাল ভূমিকা রাখে কিন্তু ২০২০ সালের করোনা মহামারির পর থেকেই অনেকটা শ্লথ এই অঞ্চল থেকে আসা প্রবাসী আয়। 

অপরদিকে মধ্যাপ্রাচ্য থেকে আসা প্রবাসী আয়ে গতি না পেলেও বেড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ থেকে আসা রেমিট্যান্সে প্রবাহ। ২০২১ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর প্রবাসী আয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ থেকে আসা অর্থ। 

বিশ্বব্যাক পূর্বাভাস দিয়েছে, উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও ২০২২ সালেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি অর্থ প্রেরণের সম্ভাবনা রয়েছে। 

প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, ২০২২ সালে পাকিস্তানে রেমিট্যান্স প্রবাহ 8 শতাংশ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলার হতে পারে। 

তবে, ২০২৩ সালে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রেমিট্যান্স প্রবাহের হার অত্যন্ত অনিশ্চিত বলে ধারণা করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাকের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হলে এবং তেলের দাম বাড়তে থাকলে মূল্যস্ফীতি অনিবার্য হয়ে উঠবে। যার ফলে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের অর্থ প্রেরণের হার কমে আসতে পারে।

দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্য সব অঞ্চলগুলো মধ্যে রেমিট্যান্স প্রেরণে খরচ সবচেয়ে কম হলেও এই হার এখনও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার ৫০ শতাংশ থেকে প্রায় ৩ শতাংশ বেশি।


এমএইউ/আরআর  (বিশ্বব্যাক প্রতিবেদন ও দ্যা ডেইলি স্টার)



 

অন্যান্য প্রতিবেদন