ইটালির লাম্পেদুসা দ্বীপের বন্দর। ইটালি উপকূলের এই দ্বীপ অভিবাসীদের কাছে বেশ পরিচিত। ছবি: আনসা
ইটালির লাম্পেদুসা দ্বীপের বন্দর। ইটালি উপকূলের এই দ্বীপ অভিবাসীদের কাছে বেশ পরিচিত। ছবি: আনসা

গত এক সপ্তাহে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসী ইটালির লাম্পেদুসা দ্বীপে এসেছেন। দ্বীপটির প্রথম অভ্যর্থনা কেন্দ্রটি ইতিমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। দ্বীপের মেয়রের মতে, অত্যধিক অভিবাসী নৌকা স্থানীয় জেলেদের কাছে একটি বড় সমস্যা ও সম্ভাব্য বিপদের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ইটালির ফেডারেশন অফ ইভানজেলিক্যাল চার্চের মেডিটেরেনিয়ান হোপ প্রোগ্রামের দেয়া তথ্য অনুসারে, ১০ মে থেকে ১৫ মে সময়ে এগারশরও বেশি অভিবাসী ইটালীয় দ্বীপ লাম্পেদুসায় অবতরণ করেছে।

রবিবার ১৫ মে, লিবিয়া থেকে ২৫০ জনেরও বেশি অভিবাসন প্রত্যাশী ইটালীয় উপকূলে এসেছে। তার আগে ১০ থেকে ১৪ মে এর মধ্যে লিবিয়া এবং টিউনিসিয়া থেকে দ্বীপে আগত মানুষের সংখ্যা ৯৩৭ জনে পৌঁছেছিল।


লাম্পেদুসা দ্বীপের মেয়র টোটো মার্টেলো স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম জিরিওনাল দি সিসিলিয়াকে বলেন, “সমুদ্রে উদ্ধারকৃত অভিবাসী নৌকার সংখ্যা এবং পরে পরিত্যক্ত হওয়া নৌকার সংখ্যা এমন যে এটি স্থানীয় জেলেদের নৌচলাচলে সমস্যা সৃষ্টি করছে। সাগরে অভিবাসীদের উদ্ধার অভিযানের পর অভিবাসীদের ব্যবহৃত নৌকাগুলি সাগরে ভেসে গিয়েছিল বলে জেলেরা আমাকে জানিয়েছিলেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “এই নৌকাগুলি মাছ ধরার নৌকা এবং জেলেদের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি একটি সমস্যার সৃষ্টি করবে। সমুদ্রে বিপাদপন্ন অভিবাসীদের উদ্ধারে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”

লাম্পেদুসায় অভিবাসীদের আগমনের পর তাদেরকে দ্বীপের ইমব্রিয়াকোলা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। যেখানে সর্বোচ্চ ২৫০ জনকে রাখার সুযোগ রয়েছে। 

ইটালির সংবাদমাধ্যম অ্যাগ্রিজেন্তো নোটিজির মতে, রোববার পর্যন্ত ইমব্রিয়াকোলা কেন্দ্রে ৮৬৭ জন অভিবাসী অবস্থান করছিলেন।  

সাম্প্রতিক দিনগুলিতে যারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইটালিতে এসেছেন তাদের মধ্যে টিউনিসিয়া, বুরকিনা ফাসো, সুদান, বাংলাদেশ, আলজেরিয়া, ক্যামেরুন, ইরিত্রিয়া, মিশর, ইথিওপিয়া, ঘানা, নাইজেরিয়া, আইভরি কোস্ট এবং মালির নাগরিকরা রয়েছেন। 

এপ্রিল থেকে ভূমধ্যসাগর ও ইউরোপের আবহাওয়া ভালো হতে শুরু করলে উত্তর আফ্রিকা উপকূল থেকে অভিবাসীদের যাত্রাও সমান্তরালে বেড়েছে।  

ভূমধ্যসাগরে শক্তিশালী অভিবাসন কার্যক্রম সাগরে থাকা মানবিক উদ্ধার জাহাজগুলোকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ১২ মে ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানায়, তিন দিনে তাদের উদ্ধার জাহাজ জিও ব্যারেন্টস ৪৭০ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে।

অপরদিকে আরেক উদ্ধার জাহজ ‘সী ওয়াচ - ৪’ ১৪৫ জন অভিবাসী নিয়ে গত ১৩ মে থেকে এখনও নিরাপদে নোঙর করার জন্য একটি বন্দরে অনুমতির অপেক্ষায় আছে।  


সী-আই ৪ এর আগে উদ্ধার করা ৫৮ জন অভিবাসীকে অবশ্য গত রোববার ইটালির সিসিলিতে অবতরণের জন্য অনুমতি পেয়েছিল।

আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা (আইএএম)’র পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২ সালের শুরু থেকে ১১,৮৮২ জন অভিবাস প্রত্যাশী ইটালিতে প্রবেশ করেছে।


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন