সেউটা উপকূলে এক অভিবাসী। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
সেউটা উপকূলে এক অভিবাসী। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

স্প্যানিশ ছিটমহল সেউটা থেকে মানবপাচারের সাথে জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে আটক করেছে স্থানিয় পুলিশ৷ পুলিশের দাবি, মরক্কোর তরুণদের ঝুঁকিপূর্ণ জেট-স্কি যোগে দক্ষিণ স্পেনের কাডিজে পাচারে যুক্ত ছিল তারা৷ অভিযানে, মানবপাচারের এই চক্রটিকে ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ৷

সেউটা দ্বীপের বেনজু গ্রামের একটি বাড়িতে থাকতেন মরক্কো থেকে আসা ৩৬ বছর বয়সি আম (ছদ্মনাম)। এই অভিবাসী গত সপ্তাহে স্প্যানিশ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন। 

তিনি একটি মানবপাচার নেটওয়ার্কের প্রধান ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। নেটওয়ার্কটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা মরোক্কোর নাগরিকদের ভূমধ্যসাগর হয়ে স্প্যানিশ ছিটমহল সেউটা থেকে স্পেনের মূল ভূখন্ড আন্দালুসিয়ার কাদিজ শহরে পাচার করত।

পড়ুন>>স্পেন থেকে মরক্কোর অনিয়মিত অভিবাসী ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ

‘‘আমসহ আরও ১০ জনের সমন্বয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্কটি জেট-স্কি বা ছোট নৌকায় মোট ১৬০ জন মরক্কোর নাগরিককে স্পেনের মূল ভূখন্ডে নিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে। যাদের মধ্যে ৬০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ককে অভিবাসীকে গত বছরের ১৭ এবং ১৮ মে সেউটাতে নিয়ে আসা হয়েছিল।’’ 

সেই ঘটনার দুই দিন পর প্রায় ১২ হাজার লোক একসাথে অবৈধভাবে সেউটাতে প্রবেশ করেছিল। 

২০২১ সালে আরেকটি ঘটনায় মরক্কো থেকে স্পেনীয় শহর আলজেসিরাসে জেট-স্কি দিয়ে প্রবেশ করা চার জন মরক্কোর নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। মূলত সেই ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে এক বছর আগে শুরু হয় তদন্ত কাজে এই মানবপাচার নেটওয়ার্কের তথ্য পায় পুলিশ। 


সেউটা ছিটমহল থেকে আন্দালুসিয়ার কাদিজ শহরের দূরত্ব। ছবি: গুগল ম্যাপ
সেউটা ছিটমহল থেকে আন্দালুসিয়ার কাদিজ শহরের দূরত্ব। ছবি: গুগল ম্যাপ


স্থানীয় পুলিশের উদ্বৃতি দিয়ে স্প্যানিশ পত্রিকা এল পাইস জানায়, “সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারের ফলে একটি বড় অপরাধমূলক চক্রকে ভেঙে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে স্প্যানিশ পুলিশ। তাদের মতে, এই নেটওয়ার্কটি অনেক বছর ধরে জিব্রাল্টার প্রণালী ও ভূমধ্যসাগরে মাদক পাচারে জড়িত ছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে মাদক পাচারে সমস্যা তৈরী হওয়ায় তারা মানব পাচারের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল।” 

পড়ুন>>দুই বছর পর খুলল স্পেন-মরক্কোর সীমান্ত

এল পাইস আরও জানায়, “পাচারকারীরা অভিবাসীদের উপর মাদকপাচারের মতো একই কাঠামো প্রয়োগ করেছিল। পাচারের জন্য অভিবাসীদের প্রথমে বেনজু গ্রামের একটি পরিত্যক্ত সামরিক স্থাপনায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। স্থাপনাটির যেসব পরিত্যক্ত গুহা এবং সুড়ঙ্গের সাথে সরাসরি সমুদ্রে চলে যাওয়ার রাস্তা ছিল সেসব পথগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল। যাতে করে পাচার কাজ কারও চোখে না পড়ে এবং সনাক্ত করা সম্ভব না হয়। পরবর্তীতে অভিবাসীদের সমুদ্রে নিয়ে এসে খুব ভোরে জেট স্কি যোগে মাত্র ৩০ মিনিটে আন্দালুসিয়ার কাডিজে পাচার করা হয়েছিল। যেসব অভিবাসীরা জেটস্কির বদলে নৌকাতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাদেরকে রাতে পাচার করার ব্যবস্থা করে পাচার চক্রটি।” 

পুলিশের মতে, এই পাচারচক্রের এক বছরে লাভ হয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ ইউরো বা পাঁচ কোটি টাকা সমমাণ অর্থ। একজন অভিবাসীর কাছ থেকে জেট-স্কি যোগে পাচারের জন্য ছয় হাজার ইউরো বা ছয় লাখ টাকা এবং নৌকায় গেলে তিন হাজার ইউরো বা তিন লাখ টাকা করে নেয়া হয়েছে। যারা এই অর্থ প্রদান করতে অক্ষম তাদেরকে একটি নৌকার "অধিনায়ক" হিসাবে পারাপারে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। পাচারের শিকার এসব অভিবাসীরা প্রায়শই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং ম্যাপ সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখে না।



এমএইউ/আরআর









 

অন্যান্য প্রতিবেদন