উত্তর ফ্রান্সের 'ভিমুরু' সৈকতে টহলরত ফরাসি পুলিশের একটি দল। ছবি: রয়টার্স
উত্তর ফ্রান্সের 'ভিমুরু' সৈকতে টহলরত ফরাসি পুলিশের একটি দল। ছবি: রয়টার্স

রোববার, উত্তর ফ্রান্সের লুন সৈকতের নিকটে অবস্থিত একটি ক্যাম্পের কাছে গুলি বিনিময়ের পর দুই অভিবাসী আহত হয়েছেন। অভিবাসন সংস্থাগুলো বলছে, এই ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুলি করা যায় এমন অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এলাকায় ফরাসি বিশেষ পুলিশ ‘সিআরএস’ মোতায়েন করা হয়েছে।

কালে এলাকার লুন সৈকতের কাছে অবস্থিত একটি অস্থায়ী শিবিরে প্রায় ৫০০ জন অভিবাসী অত্যন্ত খারাব পরিস্থিতিতে বসবাস করছিল। একে মানবেতরই বলা যেতে পারে৷

রোববার, ২২ মে এই অস্থায়ী শিবিরটির কাছাকাছি দুটি তাঁবুতে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। গুলিতে দুই অভিবাসী আহত হয়েছেন। শিবিরে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকরা খাবার বিতরণ করার সময় ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে।

বেশ কয়েকটি অভিবাসন সংস্থার মত, আহত একজন অভিবাসীর হাতে দুটি গুলি করা এবং অন্য অভিবাসীর পেটে আঘাত করা হয়েছিল।

স্বয়ংক্রিয় গুলি করতে সক্ষম অস্ত্র

লুন সৈকতে সক্রিয় অভিবাসন সংস্থা আদ্রার স্বেচ্ছাসেবক ক্লাউদেত বলেন, “কালাশনিকভ স্টাইলে হওয়া গুলি বিনিময়ের ঘটনাটি বেশ শক্তিশালী ছিল।” 

তিনি আরও যোগ করেন, “কমপক্ষে চারটি গুলি বিনিময়ের ঘটনার পর সবাই আমাদের গাড়ির পিছনে আশ্রয় নিয়েছিল। সাধারণত কালে এলাকায় গুলি বিনিময়ের ঘটনাগুলো প্রায়ই রাতের দিকে ঘটে। কিন্তু এই প্রথমবারের মতো দিনের বেলা এরকম গোলাগুলি চলল।”

একই অঞ্চলে কাজ করা আরেক অভিবাসন সংস্থা সালামের মতে গুলি বিনিময়ের ঘটনায়, “ক্যালিবারের ন্যায় বেশ বড় আকারের স্বয়ংক্রিয় গুলি করতে সক্ষম এমন অস্ত্র" ব্যবহার করা হয়েছে।

এলাকায় উত্তেজনা

ঘটনায় আহত দুই অভিবাসীকে স্থানীয় ডাঙ্কের্ক হাসপাতাল নিয়ে যাওয়া হয়। আদ্রা অ্যাসোসিয়েশনের মত, “সম্প্রতি শিবিরগুলোতে বেশ উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

স্বেচ্ছাসেবক ক্লাউদেত স্বীকার করেছেন যে তিনি লুন সৈকতের কাছের দুটি শিবিরে আর যেতে পারবেন না। সেখানে তিনি আর "স্বাগত" নন।

তবে এই অঞ্চলে উত্তেজনার মূল কারণ মানবপাচারকারীদের দল৷ এই পাচারকারীরা এলাকায় নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে চায়, ব্যবসা করতে চায়। তাদের বিরক্ত করলেই মুশকিল৷"

সালাম সংস্থার ক্লেয়ার মিলো মনে করেন, “এসব ঘটনায় সংস্থা ও এনজিওগুলো লক্ষ্যবস্তু নয়।”

এর আগে গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবারও এই শিবিরে গুলির আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। শিবিরটিতে এখনো পর্যন্ত কুর্দিশ অভিবাসীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

অভিবাসন সংস্থা সালামের মতে, সম্প্রতি এই শিবিরে বাংলাদেশ, মিশর এমনকি কুয়েত থেকেও অভিবাসী এসেছে।

সর্বশেষ গুলি বিনিময়ের ঘটনায় একটি তদন্ত শুরু হয়েছে। সৈকত ও শিবির এলাকায় ফরাসি পুলিশের বিশেষ শাখা সিআরএস সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। 


এমএইউ/ আরকেসি    ( ফ্রান্স ব্লূ)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন