২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর কাতারের দোহাতে লুসাইল স্টেডিয়ামে নির্মাণকর্মীরা। ২০২২ সালাে কাতারে  বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে ফিফা৷ ছবি: ইপিএ/আলি হায়দার
২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর কাতারের দোহাতে লুসাইল স্টেডিয়ামে নির্মাণকর্মীরা। ২০২২ সালাে কাতারে বিশ্বকাপের আয়োজন করেছে ফিফা৷ ছবি: ইপিএ/আলি হায়দার

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কাজে গিয়ে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার’ হয়েছেন হাজার হাজার অভিবাসী শ্রমিক৷ ফিফার পক্ষ থেকে এসব শ্রমিকদের কমপক্ষে ৪৪০ মিলিয়ন ডলার অর্থ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অভিবাসী শ্রমিকদের বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত খারাপ, একথা জানিয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে অ্যামনেস্টি৷

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আগে "কাতারে মানবাধিকার লঙ্ঘন" -এর শিকার অভিবাসী শ্রমিকরা৷ এই শ্রমিকদের জন্য ফিফার কমপক্ষে তিন হাজার ৮৭২ কোটি টাকা (৪৪০ মিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ করা উচিত। বৃহস্পতিবার ১৯ মে একটি নতুন প্রতিবেদনে তারা এই আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছে৷

অ্যামনেস্টির এই আহ্বান অন্যান্য মানবাধিকার সংগঠনগুলিও সমর্থন করেছে৷ বিশ্বকাপের সঙ্গে সংযুক্ত নির্মাণ এলাকায় যে সব শ্রমিক কাজ করছেন, তাদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন পেলেও প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি করেছে ফিফা ৷ এর ফলে সমালোচনার মুখে পড়েছে ফুটবলের এই আন্তর্জাতিক অভিভাবক সংস্থাটি৷

এনজিওটি জানিয়েছে, ‘‘২০২২ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সময় কাতারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিক৷ সেই ক্ষতিপূরণে ফিফার অন্তত ৪৪০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা উচিত৷’’

‘ন্যূনতম প্রয়োজনীয়’ অংশ

অ্যামনেস্টির মতে, ভবিষ্যতে শ্রমিকদের নিগ্রহের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এটি ‘ন্যূনতম প্রয়োজনীয়’৷


সংস্থাটি বিশেষ করে "বাকি থাকা মজুরি, কয়েক হাজার শ্রমিকের দেয়া অর্থ (নিয়োগ করার জন্য) এবং আঘাত ও মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ’ উল্লেখ করেছে৷ পাশাপাশি, অ্যামনেস্টি ২০১৮ সালে কাতারের কর্তৃপক্ষের নেয়া সামাজিক সংস্কারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে৷

২০১৪ সালে বিশ্বকাপের সময় যে অফিসিয়াল সাইটগুলি খোলা হয়েছিল, সেগুলির উন্নতি করার বিষয়টিকেও স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি৷ তাদের দাবি, শ্রমিক নিগ্রহের বিষয়টি নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ অনেক সময় নিয়ম মানা হচ্ছে না৷

বিশ্বকাপ আয়োজনের অনুমতি পেতে একাধিক আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে কাতার৷ নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পাশাপাশি, বিশ্বকাপে অতিথিদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে হোটেল নির্মাণের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে৷

আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিপুল সংখ্যক শ্রমিক দেশটিতে পাড়ি দিয়েছিলেন৷ শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে উঠছে বিশ্বকাপের একাধিক অবকাঠামো৷ অথচ তাদের সুরক্ষা দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ, বারবার এমন অভিযোগ উঠেছে ফিফার বিরুদ্ধে৷ এরপরই শ্রমিকদের সুরক্ষায় আসন্ন বিশ্বকাপের মোট ‘প্রাইজমানি’-র প্রায় সমান অর্থ দাবি করেছে অ্যামনেস্টি৷

আরকেসি/ এমএ

 

অন্যান্য প্রতিবেদন