(২০২০ সালের ফাইল ছবি ) একটি আশ্রয় কাঠামোর সামনে গ্রিক পুলিশের পাহারা। ছবি: রয়টার্স
(২০২০ সালের ফাইল ছবি ) একটি আশ্রয় কাঠামোর সামনে গ্রিক পুলিশের পাহারা। ছবি: রয়টার্স

গ্রিক দ্বীপ থেসালোনিকির কাছে অবস্থিত পেরিয়া এলাকায় অভিভাবকহীন নাবালকদের একটি ভবনে একাধিকবার বর্ণবাদী আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ভবনের দায়িত্বে থাকা এনজিও আরসিস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে৷

গ্রিসে অবস্থানরত অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও হামলা বেড়েই চলছে। ১৯ মে বৃহস্পতিবার, থেসালোনিকি শহরের কাছে অবস্থিত পেরিয়াতে অভিভাবকহীন নাবালকদের জন্য নির্ধারিত একটি বাড়িতে পাথর ছুড়ে, লাঠি নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে৷ 

ভবনের দায়িত্বে থাকা এনজিও আরসিসের মতে, ওই বাড়ি থেকে বেশ দূরে অবস্থিত একটি চত্বরে ছয় জন নাবালককে আটজনের অন্য একটি দল আক্রমণ করেছিল। ১৬ বছর বয়সি এক পাকিস্তানি যুবককে ধাওয়া করে মাথায় ঘুষি মারা হয়। হামলাকারীরা তার মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয়। ওই কিশোর সেখানে উপস্থিত দুই জন পথচারীর হস্তক্ষেপে পালিয়ে আসতে পেরেছিল৷


আরসিস জানিয়েছে, হামলা সেখানেই থেমে থাকেনি৷ পরবর্তীতে ত্রিশ থেকে চল্লিশ জন গ্রিক যুবক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে পাথর এবং কংক্রিটের টুকরো ছুড়ে মারে।

পরবর্তীতে ভবনের পাশের প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেয়৷ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। কেন এই হামলা, এ নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে৷

এনজিও আরসিস দ্বারা পরিচালিত এই কাঠামোতে ২৫ জন অভিভাবকহীন নাবালকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ছে

গ্রিক এনজিওগুলির মতে, গ্রিসে অবস্থানরত অভিবাসী এবং আশ্রয় কাঠামোগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

উল্লেখ্য, গ্রিসে নব্য-নাৎসি রাজনৈতিক সংগঠন গোল্ডেন ডাউনের অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে আগামী ১৫ জুন থেকে আপিল বিভাগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে। যেখানে তাদের মধ্যে ৫৭ জনকে ২০২০ সালে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছিল।

পড়ুন>>সীমান্তে আটকে পড়া অভিবাসীদের ‘উদ্ধার করছে না’ গ্রিস

গত বছরের মে মাসে রমজান চলাকালীন অন্য মুসল্লিদের সঙ্গে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে ফিরছিলেন ২৬ বছর বয়সি একজন পাকিস্তানি অভিবাসী শ্রমিক। 

সে সময় এথেন্সের কেন্দ্রে একজন ট্যাক্সি চালক সেই পাকিস্তানি অভিবাসীর মাথায় গুলি করে চলে যায়। 

এছাড়া, ২০২১ সালের আগস্ট মাসে দেশটির ক্রেট দ্বীপে সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তারা ১৩ জন পাকিস্তানি শ্রমিকের একটি দলকে আক্রমণ করেছিল বলে সন্দেহ করা হয়েছিল।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, অভিযুক্তরা অভিবাসী শ্রমিকদের বাসস্থান অ্যাজিওস গারজিওস-এ প্রবেশ করে বাসার আসবাবপত্র ধ্বংস করে এবং টাকা লুট করে। পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিকদের মারধরও করা হয়। 

আরও পড়ুন>>আশ্রয়প্রার্থীদের ‘পুশব্যাকের’ প্রমাণ পাচ্ছে না গ্রিক কর্তৃপক্ষ

গ্রিসে পাকিস্তানি কমিউনিটির মুখপাত্র এবং গ্রিসের অভিবাসী শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জাভেদ আসলাম ২০২০ সালের অক্টোবরে ফরাসি সংবাদ মাধ্যম লো মোন্দকে বলেছিলেন, ২০০৯ সাল থেকে গ্রিসে অভিবাসীদের উপর হাজার হাজার বর্ণবাদী হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি দীর্ঘ সমীক্ষা করে তিনি এই তথ্য খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। 


এমএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন