উত্তর ফ্রান্সের কালের নিকটে একটি অস্থায়ী শরণার্থী শিবির। ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস
উত্তর ফ্রান্সের কালের নিকটে একটি অস্থায়ী শরণার্থী শিবির। ছবি: ইনফোমাইগ্রেন্টস

ফরাসি সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ। ফ্রান্সে আসা আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের আরও উন্নত অভ্যর্থনার দাবিতে ভবিষ্যৎ সংসদের উদ্দেশ্যে ফরাসি সংবাদ মাধ্যম ফ্রান্স ইনফোর ওয়েবসাইটে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে মেদসাঁ দ্যু মোন্দ এবং লা সিমাদসহ প্রায় বিশটি অভিবাসন ও অধিকার সংগঠন। ১৯ জুন নির্বাচিত হতে যাওয়া সংসদ সদস্যরা দ্রুত এই চিঠি আমলে নিয়ে পদক্ষেপ নেবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

আগামী ১২ ও ১৯ জুন দুই দফায় অনুষ্টিত হবে ফরাসি সংসদ নির্বাচন। ১৯ জুন দ্বিতীয় দফা নির্বাচনেই মূলত ৫৭৭ জন সংসদ সদস্য ফরাসি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বচিত হবেন।

সরকার গঠন করতে প্রয়োজনীয় ২৯৮ আসনে সংখ্যাগরিষ্টতা পেতে এবার বর্তমান রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রঁর নেতৃত্বাধীন জোটের বেশ বেগ পেতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে বাম ও পরিবেশবাদী দলগুলোর জোট ‘নুপ্স-এর সাথে এমানুয়েল ম্যাক্রঁ নেতৃত্বাধীন জোটের শক্ত লড়াই হবে বলে আভাস মিলেছে। ’

নতুন গঠিত হতে যাওয়া সংসদের সাংসদদের উদ্দেশ্যে সংবাদ মাধ্যম ফ্রান্স ইনফোর ওয়েবসাইটে বৃহস্পতিবার ২৬ মে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছে মেদসাঁ দ্যু মোন্দ, লা সিমাদ, সকুর ক্যাথলিক এবং ইতুপিয়া৫৬-সহ প্রায় ২০টি অভিবাসন সংস্থা ও সংগঠন। 

পাশাপাশি চিঠিতে প্রায় চল্লিশজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ ১৯ জুন নির্বাচিত হতে যাওয়া ফরাসি সংসদের সদস্যদের ফ্রান্সে অভিবাসীদের অভ্যর্থনা ব্যবস্থার একাধিক ত্রুটি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। 


সাক্ষরকারীরা অভিবাসীদের নিয়ে ভবিষ্যত সংসদে প্রস্তাব ও পাশ হতে যাওয়া আইনগুলো নিয়ে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য শুনতে ও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চান। 

নির্বাচিত হতে যাওয়া সাংসদরা যেহেতু সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হবেন সেক্ষেত্রে ভোটার হিসেবে এটি তাদের নৈতিক অধিকার বলে মন্তব্য করেন এসব সংস্থা ও ব্যক্তিরা। 

চিঠিতে বলা হয়, “বিলম্বে মানবিক এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফ্রান্সে আগত সকল অভিবাসীদের একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং নিঃশর্ত অভ্যর্থনাব্যবস্থার নিশ্চয়তা দিতে হবে।”

পড়ুন>>ফরাসি আশ্রয় আদালতের সুরক্ষা প্রাপ্তিতে পিছিয়ে বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীরা

তাদের মতে, “ফ্রান্সে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত “উদ্বেগজনক” এবং বর্তমান অভ্যর্থনানীতি অপর্যাপ্ত।”

চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, ‘একটি উন্নত অভ্যর্থনা পাওয়া প্রত্যেক আশ্রয়প্রার্থীর আইনি অধিকার। যার সাহায্যে আশ্রয়প্রার্থীরা তাদের আবেদন চলাকালীন অবস্থায় আবাসন এবং আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু বিভিন্ন উপায়ে "ক্রমাগত বাধার সম্মুখীন হয়ে আশ্রয়প্রার্থীরা উন্নত অভ্যর্থনা পেতে ব্যর্থ হচ্ছে।’

স্বাক্ষরকারীরা দাবি করেন, “বর্তমান আশ্রয় কাঠামো সিএমএ আশ্রয়প্রার্থীদের চাহিদা পূরণ করতে ব্যর্থ। তাদের কাছ থেকে সুবিধা পেতে ব্যর্থ হওয়া আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা অনেক। উদাহরণস্বরূপ, অনেক আশ্রয়প্রার্থী সরকারি আশ্রয় কাঠামোতে থাকতে রাজী না হওয়ায় তাদের মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।”

পড়ুন>>কান চলচ্চিত্র উৎসবে অভিবাসী শিশুদের নিয়ে ছবি

আশ্রয়প্রার্থীদের প্রতি অমানবিক ও অবমাননাকর অভ্যর্থনানীতির জন্য গত গ্রীষ্মে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর) ফ্রান্সকে নিন্দা করেছিল।

স্বাক্ষরকারীরা অভ্যর্থনার আইনগত কাঠামো পরিবর্তন করতে চায় এবং আশ্রয় কাঠামোগুলোতে থাকা সব সমস্যা পুরোপুরি দূর করতে চায়। তাদের মতে, অভ্যর্থনানীতি নিয়ে নিশ্চুপ অবস্থান ভুক্তভোগীদর চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।

চিঠিতে আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থীদের জন্য পেশাদার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি প্রশিক্ষণ কোর্সের দাবি জানানো হয়।

পড়ুন>>ফরাসি সংসদ নির্বাচন: প্রার্থীদের কাছে চিঠি দেবে অনথিভুক্ত অভিবাসীরা

এছাড়া, আশ্রয়প্রার্থীদের তাদের আবেদন প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে বৈধ কাজ করার অনুমতি দেয়ার আহ্বান করা হয়েছে। কারণ বর্তমান আইনে, একজন আশ্রয়প্রার্থী তার ফাইল জমা দেওয়ার ছয় মাস পরেই কাজের অনুমতি আনার সুযোগ থাকলেও বাস্তবে এটি প্রায় অসম্ভব। কারণ নিয়োগকর্তারা প্রায়ই এসব ব্যক্তিদের কাজের অনুমতি বিষয়ক প্রশাসনিক জটিলতার জন্য নিয়োগ করেন না। 

সর্বশেষ, চিঠিতে বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে অনানুষ্ঠানিক বা অস্থায়ী শিবির নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে জরুরি আবাসন স্থানের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ভবিষ্যৎ সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন