গ্রিক তুর্কি সীমান্তের মধ্যবর্তী এভ্রোস নদী। কোন কাঁটাতারের বেড়া ছাড়ায় এই নদীটি দুই দেশের মাঝখানে প্রাকৃতিক সীমান্ত সৃষ্টি করেছে। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস
গ্রিক তুর্কি সীমান্তের মধ্যবর্তী এভ্রোস নদী। কোন কাঁটাতারের বেড়া ছাড়ায় এই নদীটি দুই দেশের মাঝখানে প্রাকৃতিক সীমান্ত সৃষ্টি করেছে। ছবিঃ ইনফোমাইগ্রেন্টস

গ্রিক সরকার জানিয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম চার মাসে তুরস্ক থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশ করতে চাওয়া ৪০ হাজার যাত্রা আটকে দেয়া হয়েছে। ইউরোপে প্রবেশের জন্য তুরস্ক উপকূল থেকে হাজারো অনিয়মিত অভিবাসী গ্রিক উপকূলের দিকে যাত্রা করলেও দেশটির কঠিন সীমান্ত নীতি বর্তমানে অভিবাসীদের ইউরোপের প্রবশের স্বপ্ন অসম্ভব করে তুলেছে।

২৮ মে শনিবার গ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২২ সালের শুরু থেকে দেশটির উত্তর-পূর্বে অবস্থিত এভ্রোস সীমান্ত দিয়ে ৪০ হাজার অভিবাসীকে তুরস্ক থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে প্রবেশ করতে আটকে দেয়া হয়েছে।

দেশটির নাগরিক সুরক্ষা বিষয়ক মন্ত্রী টাকিস থিওডোরিকাকোস স্কাই টেলিভিশনকে বলেন, “২০২২ সালের প্রথম চার মাসে, প্রায় ৪০ হাজার অভিবাসী অবৈধভাবে গ্রিস সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করেছে। গ্রিক সীমান্ত পুলিশ এসব প্রচেষ্টা সফল হতে বাধা দিয়েছে।”

আরও পড়ুন>>মাল্টায় অভিবাসীর সংখ্যা কমছে?

তুর্কি উপকূল থেকে প্রস্থানের হার ব্যপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ বর্তমানে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এভ্রোস নদীর পানির স্তর একেবারেই কম।

থিওডোরিকাকোসের মতে, “সীমান্ত অতিক্রম করতে ‘মরিয়া‘ লোকদের পাচারে সহায়তাকারীদের তুরস্কে আশ্রয় দেয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। তুরস্কের কাছে বারবার সাহায্য চাওয়া হলেও দেশটি তেমন সাড়া দেয় না।”

এর আগে গ্রিস সোমবার (২৩ মে) ঘোষণা করেছিল, এজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার প্রচেষ্টারত ৬০০ অভিবাসীকে আটকে দেয়া হয়েছে। যা এই বছরের বৃহত্তম সীমান্ত অতিক্রম প্রচেষ্টা।

আরও পড়ুন>>গ্রিসে ‘বর্ণবাদী’ আক্রমণের শিকার অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীরা

অভিবাসীরা পাঁচটি পালতোলা নৌকা এবং চারটি রাবারের ডিঙি নৌকায় প্রায় একসঙ্গে তুর্কি উপকূল ছেড়েছিল। গ্রিসের চিওস এবং সামোস দ্বীপপুঞ্জের কাছে যাওয়ার সময় গ্রিক কর্তৃপক্ষ তাদের দেখতে পেয়েছিল।

গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রনালয়ের সূত্র অনুসারে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে অভিবাসন প্রবাহ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি।

একই সূত্র অনুসারে, গত মাসে ১,১০০সহ এই বছর ৩০০০ এরও বেশি আশ্রয়প্রার্থী গ্রিসে প্রবেশ করেছেন। 

পড়ুন>>শরণার্থী ইস্যুতে দ্বৈতনীতি, গ্রিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ

আঙ্কারা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এর মধ্যে হওয়া ২০১৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী, তুরস্ক থেকে অস্থায়ী নৌকায় অবৈধ যাত্রা থামাতে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আঙ্কারা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয় না বলে নিয়মিত অভিযোগ করে আসছে এথেন্স।

অন্যদিকে, গ্রিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এনজিওগুলো নিয়মিতভাবে বেআইনি পুশব্যাকের অভিযোগ করে আসছে। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অসংখ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও এথেন্স সবসময় এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


এমএইউ/আরআর (রেডিও ফ্রান্স ইন্টারন্যাশনাল)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন