১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুটি ভাগে বিভক্ত: উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে রয়েছে। দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। ছবি: ফ্লিকার
১৯৭৪ সাল থেকে সাইপ্রাস দুটি ভাগে বিভক্ত: উত্তরের অংশ (টিআরএনসি) যেটি তুরস্কের অধীনে রয়েছে। দক্ষিণ অংশ বা সাইপ্রাস প্রজাতন্ত্র একটি স্বাধীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ। ছবি: ফ্লিকার

সাইপ্রাস উপকূলে রোববার আলাদা তিনটি অভিবাসী নৌকা প্রবেশ করেছে। এসব অভিবাসীদের সাথে থাকা সন্দেহভাজন পাঁচ মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে আট দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

৬২ জন আশ্রয়প্রার্থী বহনকারী একটি নৌকা রোববার সাইপ্রাসের কেপ গ্রিকো উপকূলে পৌঁছালে তাদের ‘পুরনারা’ অভ্যর্থনা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। একই নৌকায় থাকা পাঁচ ব্যক্তিকে পাচারকারী বলে শনাক্ত করেন সেটির অন্য যাত্রীরা। তাদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ১৯ থেকে ৩৮ বছর বয়সি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। 

মূলত, রোববার দুপুর ৩টার দিকে দেশটির ফামাগুস্তা জেলার কেপ গ্রেকো থেকে ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে প্রথম নৌকাটিকে দেখতে পেয়েছিল সাইপ্রাস কোস্টগার্ড। তারা নৌকার অবস্থান শনাক্ত করার সাথে সাথেই দ্রুত একটি উদ্ধার জাহাজ পাঠিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের তীরে নিয়ে আসে। 

পড়ুন>>সাইপ্রাসে আশ্রয় আবেদনের খুঁটিনাটি

নৌকায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যে ১৯ জন পুরুষ, তিনজন নারী এবং চারজন নাবালক ছিলেন।

দ্বিতীয় নৌকাটিকে প্রথম নৌকার ঠিক দুই ঘণ্টা পরেই উপকূলে দেখতে পায় কোস্টগার্ড। এটিতে ৩৬ জন যাত্রী ছিলেন, যার মধ্যে ২৬ জন পুরুষ, তিনজন নারী এবং সাতজন নাবালক।

প্রথম নৌকা থেকে আটক হওয়া পাঁচ সন্দেহভাজনকে দেশটির আইয়া নাপা মেরিনায় নিয়ে যায় কোস্টগার্ড। সেখানে তাদেরকে পাচারকারী বলে নিশ্চিত করে সাক্ষ্য দেয় অনেক অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থী। 

আরও পড়ুন>>সাইপ্রাস: “নিয়োগকর্তারা সবসময় বলেন আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কোনো চাকরি নেই”

সোমবার, অভিযুক্তদের সাইপ্রাসের ফামাগুস্তা জেলা আদালতে হাজির করা হলে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আট দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দেয় সংশ্লিষ্ট আদালত। 

তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার এবং মুনাফার জন্য সংঘবদ্ধ পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া,আরও ৩০ জন যাত্রী নিয়ে তৃতীয় আরেকটি নৌকা পাফোস উপকূলে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সোমবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে পেইয়ার নামক এলাকার কাছে হেঁটে যাওয়ার সময় ৩০ জন ব্যক্তিকে দেখতে পান।

তাত্ক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ টহল পাঠানো হলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, এই ৩০ জন অনথিভুক্ত সিরিয়ান নাগরিক সমুদ্রপথে সাইপ্রাসে প্রবেশ করেছে।

পড়ুন>>গত বছর ৯৯ শতাংশ বাংলাদেশির আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করেছে সাইপ্রাস

পাফোস পুলিশের মুখপাত্র মিচালিস নিকোলাউ বলেন, ‘‘অভিবাসীদের সবাইকে নিকটতম থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।’’ 

তিনি আরও বলেন, ‘‘তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মানবপাচারকারী সন্দেহে তদন্ত চলছে।’’


এমএইউ/এআই (সাইপ্রাস মেইল)


 

অন্যান্য প্রতিবেদন