ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার অভিসনপ্রত্যাশী প্রতিবছর দক্ষিণ ইউরোপের এই পাঁচটি দেশে আশ্রয়ের আশায় হাজির হন৷ ফাইল ফটো: এসওএস মেডিট্রেনি/ওশান ভাইকিং
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার অভিসনপ্রত্যাশী প্রতিবছর দক্ষিণ ইউরোপের এই পাঁচটি দেশে আশ্রয়ের আশায় হাজির হন৷ ফাইল ফটো: এসওএস মেডিট্রেনি/ওশান ভাইকিং

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের পাঁচটি দেশ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউনিয়নের ‘সহমর্মিতা নীতির’ সমালোচনা করেছে৷

এমন নীতির সংস্কার চেয়ে এই রাষ্ট্রগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সমানভাবে জায়গা দেওয়ার আহ্বান জানায়৷ 

দেশগুলো হলো ইটালি, সাইপ্রাস, গ্রিস, মালটা এবং স্পেন৷ ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত হওয়ায় এ দেশগুলোকে মেডিট্রেনিয়ান কান্ট্রি বলা হয়৷

শনিবার ভূমধ্যসাগর তীরে অবস্থিত ইউরোপের এই দেশুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এমন আহ্বান জানানো হয়৷   

ইউরোপের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, জোটের দেশগুলোকে শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের কথা বলা হয়৷ মূলত এই সহমর্মিতা স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে দেখাচ্ছে জোটের রাষ্ট্রগুলো৷ 

এদিকে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন থেকে খাদ্য সরবারহ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় অনেক দেশেই খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে৷ আর এর ফলে আশ্রয়ের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা এই দেশগুলোর৷ 

পড়ুন: গ্রিসে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও মানবপাচারকারী নিহত

এ কারণে সহমর্মিতার স্বতঃপ্রবৃত্ত যে নীতি তার সংস্কার চেয়ে এসকল অভিবাসনপ্র্যত্যাশীদের যেন ইউরোপের সব দেশে সমানভাবে জায়গা দেওয়া যায় সেই আহ্বান এই নেতাদের৷                

দুদিনের বৈঠক শেষে সাইপ্রাসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নোরিস সাংবাদিকদের বলেন, শরণার্থীদের বিষয়ে একটি একক ও শক্তিশালী নীতির প্রয়োজন৷  

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার অভিসনপ্রত্যাশী প্রতি বছর এই পাঁচটি দেশে আশ্রয়ের আশায় হাজির হন৷ সমালোচনা আছে যে, ইউরোপের অন্য দেশগুলো খুব অল্প সংখ্যক অভিবাসনপ্রত্যাশীকেই নিজ দেশে আশ্রয় দেয়৷ কোনো কোনো দেশ আবার আশ্রয় দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা সবসময় রক্ষা করে না৷ আর এ কারণে সাগরতীরের ওই পাঁচটি দেশে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে৷

নিকোস নোরিস বলেন, ‘‘শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর বিষয়টি স্বতঃপ্রবৃত্ত হতে পারে না৷’’ 

নিজ দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, এমনভাবে আশ্রয় দেওয়ার ফলে সাইপ্রাসে মোট জনসংখ্যার শতকরা পাঁচ ভাগই এখন শরণার্থী৷   

পড়ুন: চলতি বছর দক্ষিণ ইউরোপে আরও দেড় লাখ শরণার্থী   

এদিকে ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুসিয়ানা লামোরগেসে বলেন, এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, কীভাবে আশ্রয়প্রার্থীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে জায়গা দেওয়া যায় সে বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে একটি পরিকল্পনা তৈরি করা দরকার৷ 

তিনি অবশ্য আশ্রয় আবেদন বাতিল হয়ে গেলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে চুক্তি সাক্ষরের বিষয়ে জোরারোপ করেন৷     

আর গ্রিসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সমস্যার একটি সমাধান হিসেবে বৈধ উপায়ে অভিবাসন প্রক্রিয়া জোরদার করার কথা বলেন৷

আরআর/কেএম (এপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন