ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার অভিসনপ্রত্যাশী প্রতিবছর দক্ষিণ ইউরোপের এই পাঁচটি দেশে আশ্রয়ের আশায় হাজির হন৷ ফাইল ফটো: ইউয়ান মেডিনা/রয়টার্স
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার অভিসনপ্রত্যাশী প্রতিবছর দক্ষিণ ইউরোপের এই পাঁচটি দেশে আশ্রয়ের আশায় হাজির হন৷ ফাইল ফটো: ইউয়ান মেডিনা/রয়টার্স

দক্ষিণ ইউরোপের ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোতে চলতি বছর আরো দেড় লাখ শরাণার্থী আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ ভূমধ্যসাগর তীরে অবস্থিত ইউরোপের দেশুলোর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে এ কথা বলা হয়৷

বিভিন্ন দেশ থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন৷ এসকল অভিবাসনপ্রত্যাশীরা মূলত ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী ইউরোপের দেশ গ্রিস, ইটালি, স্পেন, মাল্টা ও সাইপ্রাসে আশ্রয় নিয়ে থাকেন৷ 

চলতি বছরের শুরু থেকেই এই পথে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন গত বছরের তুলনায় বাড়ছে৷ জাতিসংঘের তথ্য মতে, এ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে ৩৬ হাজার চারশ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ভূমধ্যসাগরীয় এ দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন৷ গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৩ হাজার তিনশ ১৮ জন৷ 

এদিকে যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন থেকে খাদ্য সরবারহ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ায় অনেক দেশেই খাদ্যের অভাব দেখা দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে৷  

আর এর ফলে আশ্রয়ের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা৷ 

সাইপ্রাসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোস নোরিস বলেন, ভূমধ্যসাগরীয় এই পাঁচটি দেশে চলতি বছরের বাকি সময়ে আরো দেড় লাখ অভিবাসনপ্রত্যাশী আসতে পারে৷  

পড়ুন: শরণার্থীদের প্রতি ‘সহমর্মিতার’ সমালোচনা

গত শুক্রবার জাতিসংঘের সংকট সমন্বয়কারী আমিন আওয়াদ বলেন, যুদ্ধের কারণে গম ও অন্যান্য শস্যজাতীয় খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে প্রায় দেড় বিলিয়ন মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন৷ এর ফলে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে৷ আর দুর্ভিক্ষ এড়াতে মানুষ আশ্রয়ের আশায় শরণার্থী হতে পরে৷ 

পরিস্থিতি সামলাতে তিনি ইউক্রেনের বন্দরগুলোকে সচল রাখতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান৷ 

ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুসিয়ানা লামোরগেসে বলেন, ‘‘কৃষ্ণসাগরে যদি গমের চালান আটকে থাকে তাহলে শরণার্থীর সংখ্যা বাড়বে৷ আর আমরা- ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো- এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন৷’’

আরআর/কেএম (রয়টার্স)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন