৩ মে, লম্বার্ডির ব্রেসিয়াতে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বাসে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গিয়েছে৷  ছবি: আনসা/ফিলিপ্পো ভেনেজিয়া
৩ মে, লম্বার্ডির ব্রেসিয়াতে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বাসে করে বাড়ি ফিরতে দেখা গিয়েছে৷ ছবি: আনসা/ফিলিপ্পো ভেনেজিয়া

ইউরোপের বহিঃসীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহে দেশে ফেরা ইউক্রেনীয়দের সংখ্যা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া মানুষদের থেকে বেশি৷

ফ্রন্টেক্স গত ২ জুন ঘোষণা করেছে যুদ্ধ না থামলেও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া ইউক্রেনীয়রা আবার ফিরতে শুরু করেছেন ৷ তারা জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ২৫ লাখ ইউক্রেনীয় দেশে ফিরেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। শুধুমাত্র মে মাসের শেষ সপ্তাহে, এক চতুর্থাংশেরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ ছেড়েছেন৷ এদের মধ্যে বলে অনেকেই ইউক্রেনে ফিরে যাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে৷

যুদ্ধ সত্ত্বেও স্থিতিশীল হওয়ার চেষ্টা ইউক্রেনীয়দের

ফ্রন্টেক্স একটি প্রতিবেদনে বলেছে যে গত কয়েক সপ্তাহে ইউক্রেন সীমান্তের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে৷ তারা বলেছে, সীমান্ত আগের চেয়ে স্থিতিশীল রয়েছে এবং কোনও বড়সড় যানজট নেই৷ রুশ হামলার প্রথম কয়েক সপ্তাহে দেশ ছাড়ার জন্য সীমান্তে মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে গাড়ির লাইন দেখা গিয়েছিল৷ তবে এখন সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে৷

ফ্রন্টেক্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেনে রোজ মানবিক সাহায্যের জন্য সবমিলিয়ে মোট ১৪৪টি ট্রাক প্রবেশ করছে। সীমান্ত এলাকায় শরণার্থীদের ঢলের দিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে৷

এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী ইউক্রেনের অভ্যন্তরেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে৷ যদিও সে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম-এর মত, সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবার নিজের দেশে বাস্তুচ্যুত হওয়া ইউক্রেনীয়দের সংখ্যাও কমেছে৷ ইউক্রেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের মোট সংখ্যা ৭০ লাখের কিছু বেশি৷ মে মাসের তুলনায় এই সংখ্যাটা ১১ শতাংশ কম৷

রুশ হামলার পর লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী জার্মানি-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক সদস্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন৷ ছবি: রোজটেক রাদওয়ানস্কি
রুশ হামলার পর লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী জার্মানি-সহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক সদস্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন৷ ছবি: রোজটেক রাদওয়ানস্কি


লাখ লাখ ইউক্রেনীয় এখনও ইইউ-র অন্য দেশে

ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুসারে, ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৫৩ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিক ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন৷ বিভিন্ন দেশ যুদ্ধবিধ্বস্ত শরণার্থীদের গ্রহণ করেছে। পোল্যান্ড এবং রোমানিয়ায় সর্বাধিক শরণার্থী প্রবেশ করেছেন৷ রোমানিয়ায় ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৩২ হাজার ৮০০ শরণার্থী প্রবেশ করেছেন৷ ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ ইউক্রেন থেকে পোল্যান্ডে পাড়ি দেন৷

জার্মানি এবং স্লোভাকিয়ায় ইউক্রেন থেকে সাত লাখেরও বেশি শরণার্থী প্রবেশ করেছেন৷ ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেইন সম্প্রতি ব্রাতিস্লাভা সফরের সময় জানান, "ইউক্রেনের জনগণের জন্য এই সংহতি ইতিহাস কখনো ভুলতে পারবে না৷" 

ইটালিতে আসা ইউক্রেনীয় শরণার্থীর মোট সংখ্যা প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার৷ এদের মধ্যে ৬৫ হাজার ৪৮১ জন মহিলা, ১৮ হাজার ৬৩১ জন পুরুষ এবং ৪১ হাজার ৮৮ জন নাবালক রয়েছেন৷

ইউরোপের বর্তমান নীতি অনুযায়ী, জোটের দেশগুলোকে শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের কথা বলা হয়৷ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে জোটের রাষ্ট্রগুলো মূলত এই সহমর্মিতা দেখাচ্ছে৷ লাখ লাখ ইউক্রেনীয়দের আশ্রয় দিয়েছে ইউরোপের একাধিক দেশ৷


আরকেসি/কেএম (আনসা)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন