ত্রিপোলির অদূরে আইন জারা আটক কেন্দ্রে বন্দী অভিবাসীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স
ত্রিপোলির অদূরে আইন জারা আটক কেন্দ্রে বন্দী অভিবাসীদের একাংশ। ছবি: রয়টার্স

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির আইন জারা কারাগারে একজন ১৯ বছর বয়সি সুদানের নাগরিকের মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী ব্যক্তি কয়েক মাস ধরে লিবিয়ার এই আটক কেন্দ্রে বন্দি ছিলেন। নিহত ব্যক্তি খুন হয়েছেন, নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা এখনও অস্পষ্ট। আফ্রিকার দেশটির কারাগারগুলোতে কয়েদিদের সঙ্গে অত্যন্ত নির্মম ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

মোহাম্মদ আবদুল আজিজ নামে একজন ১৯ বছর বয়সি সুদানের নাগরিকের ঝুলন্ত মৃতদেহের ছবি টুইটারে প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে দেশটিতে থাকা অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। 

‘রিফিউজিস ইন লিবিয়া’ নামে একটি টুইটার একাউন্ট থেকে ছবিটি প্রকাশ করা হয়। তিনি ত্রিপোলির আইন জারা কারাগারে আটক থাকা একজন বন্দী। ছবিতে দেখা যায় একটি খুঁটিতে ঝুলন্ত একটি মরদেহ। 


৫ জুন রোববার সন্ধ্যায় ওই যুবকের মৃত্যু হয় বল জানা গেছে। পুলিশ মৃতদেহটি ত্রিপোলি সেন্ট্রাল হাসপাতালে স্থানান্তর করার আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে লাশটি একই জায়গায় পড়ে ছিল।

অভিবাসী আবদুল আজিজের মৃত্যুর কারণ এখনও অস্পষ্ট। ঘটনার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) এর লিবিয়া শাখা ইনফোমাইগ্রেন্টসকে নিশ্চিত করেছে যে মোহাম্মদ আবদুল আজিজ ইউএনএইচসিআরে নিবন্ধিত একজন আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন।

পড়ুন>> ভূমধ্যসাগর: অভিবাসীদের মধ্যে শিশুসহ অনেকেই নির্যাতনের শিকার

রিফিউজিস ইন লিবিয়া টুইটার একাউন্ট অনুসারে, লিবিয়ায় অবস্থানরত শত শত অভিবাসী মধ্যে লিবিয়া থেকে তৃতীয় কোনো দেশে পুনর্বাসনের দাবিতে ত্রিপোলিতে অবস্থিত ইউএনএইচসিআর চত্বরের বাইরে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে তিন মাস ধরে বিক্ষোভ করছিলেন। মোহাম্মদ আবদুল আজিজ আন্দোলনরত অভিবাসীদের মধ্যে একজন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে লিবিয়ার পুলিশ বাহিনী আন্দোলনরতদের আইন জারা কারাগারে পাঠালে আন্দোলনের অবসান ঘটেছিল।

ইউএনএইচসিআর -এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইন জারা ডিটেনশন সেন্টারের জীবনযাত্রা অন্যান্য আটককেন্দ্রগুলোর মতোই ভয়ংকর। নারী এবং শিশুসহ প্রায় এক হাজার মানুষ বিভিন্ন ছোট কক্ষে আটকে আছে। যারা সেখান থেকে বাইরে যেতে পারে না এবং আটককেন্দ্রের ভেতরে মৌলিক পরিষেবাগুলির খুব সীমিত সুবিধা আছে। 

আরও পড়ুন>>চার হাজার অভিবাসীকে লিবিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়েছে: আইওএম

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৬০০ অভিবাসী আইন জারা কারাগারে তাদের দৈনন্দিন জীবনমানের নিন্দা জানিয়ে অনশন করেছিলেন।

আইন জারা কারাগারে অবস্থানরত একজন অভিবাসী ইনফোমাইগ্রেন্টসকে জানিয়েছিলেন, “কারাগারে বন্দি অভিবাসীরা নিয়মিতভাবে হয়রানির শিকার হয়। কারারক্ষীরা অকারণে আমাদের আঘাত করে। কখনও কখনও তারা মানুষকে একটি বিচ্ছিন্ন ঘরে নিয়ে গিয়ে মারধর করে।’’

‘‘কারারক্ষীরা নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও করে অভিবাসীদের পরিবারগুলোর কাছে পাঠিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে,” যোগ করেন তিনি৷ 

২৩ বছর বয়সি সুদান থেকে আসা শরণার্থী মালিক ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেছিলেন, “মুক্তিপণ দাবি করার পর আমাদের স্বাধীনতার মূল্য তখন ৩৫০ ইউরো বা ৩৫ হাজার টাকায় আটকে থাকে।”

আরও পড়ুন>>চলতি বছর ভূমধ্যসাগরে ৫০০ জনের মৃত্যু

ইনফোমাইগ্রেন্টসের কাছে আসা তথ্য অনুযায়ী, “সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে লিবিয়ার কারাগার ও আটককেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। অভিবাসী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বেড়েছে। বাইরে থেকে আসা মিলিশিয়ারা কারাগারের বন্দিদের জোরপূর্বক শ্রম করতে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ আছে। তাদেরকে নির্মমভাবে কারাগার থেকে টেনে বের করা হয় এবং কয়েকঘণ্টা পর আবার কারাগারে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়।”

নির্যাতনের পাশাপাশি খাদ্য এবং পানীয় জল পর্যাপ্ত পরিমাণে বিতরণ করা হয় না। বন্দিদের বর্জ্যের মাঝখানে রাখা হয়। এছাড়া শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ থাকে অত্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য।


এমএইউ/এআই 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন