ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে  অবৈধভাবে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্য থেকে রুয়ান্ডা পাঠিয়ে দিতে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্য থেকে রুয়ান্ডা পাঠিয়ে দিতে স্বাক্ষরিত চুক্তির প্রতিবাদে লন্ডনে বিক্ষোভ। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

আগামাী মঙ্গলবার অনিয়মিত পথে যুক্তরাজ্য প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডা পাঠানোর প্রথম ফ্লাইট হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ব্রিটিশ অভিবাসন ও অধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো এবং ইউনিয়নগুলো আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডা পাঠানোর প্রক্রিয়াটি ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে৷ চেষ্টার সর্বশেষ অংশ হিসেবে এই সংস্থাগুলো আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যে অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় পাঠিয়ে দেয়াকে কেন্দ্র করে বেশ সর গরম যুক্তরাজ্যের রাজনীতি। 

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করা আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডা পাঠিয়ে দেয়া ঠেকাতে ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের আদালতে মামলা দায়ের করে অভিবাসন ও অধিকার সংস্থাগুলো।

কিন্তু সেই মামলায় চার দিনের মাথায় সরকারের পক্ষে রায় দেয় আদালত। 

প্রথম ফ্লাইটে মঙ্গলবার প্রায় ৩০ জন আশ্রয়প্রার্থীকে রুয়ান্ডা পাঠানোর ঠিক আগ মুহুর্তে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছে কেয়ার ফর কালে ও ডিটেনশন অ্যাকশন অ্যাসোসিয়েশনসহ অভিযোগকারী সংস্থাগুলো।

পিটিশনকারীদের মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী সিভিল সার্ভিস ইউনিয়ন পিসিএস, যাদের সদস্যদের মধ্যে কাস্টমস কর্মকর্তারাও রয়েছেন যারা বিমানবন্দরে আশ্রয়প্রার্থীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে থাকেন।

আরও পড়ুন>>রুয়ান্ডায় কেমন থাকবেন ব্রিটেন থেকে যাওয়া আশ্রয়প্রার্থীরা

আজ সোমবার আপিল আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এটিকে সরকারের সাথে একটি উস্মুত্ত আইনি লড়াই হিসেবে দেখছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা। 

কেয়ার ফর কালে সংস্থার আইনজীবী এবং অন্যতম পরিচালক জেমস নিকোল যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ থেকে আসা এবং ইতিমধ্যেই নানাভাবে আঘাতপ্রাপ্ত লোকেদের লক্ষ্য করে নেয়া সরকারের এই পদক্ষেপকে একটি ‘নিষ্ঠুর নীতি’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা করেছেন।

কেয়ার ফর কালে সোমবার সকালে টুইটারে জানায়, “এগারো জন আশ্রয়প্রার্থীর কাছে এখনও আগামীকালের ফ্লাইটের টিকিট আছে। তাদের মধ্যে চারজন ইরানি, দুজন ইরাকি, দুজন আলবেনীয় এবং একজন সিরীয় রয়েছেন।”


কেয়ার ফর কালের দায়ের করা মামলাটি ছাড়াও জুলাই মাসে আশ্রয়প্রার্থীদের পাঠিয়ে দেয়ার সরকারি পরিকল্পনার বৈধতার ব্যাপারে যুক্তরাজ্য হাইকোর্টে অভিবাসন সংস্থা এসাইলাম এইডের দায়ের করা মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

সিভিল সার্ভিস ইউনিয়ন পিসিএস এর সাধারণ সম্পাদক মার্ক সেরোটকা স্কাই নিউজকে বলেন, “আপনি কল্পনা করুন মঙ্গলবার যদি ফ্লাইটটি যাত্রা করে এবং পরবর্তীতে জুলাইয়ে এই পদক্ষেপ বেআইনি বলে গণ্য করা হয় তাহলে পরিস্থিতি কি ঘটবে। এটি একটি ভয়ানক পরিস্থিতি হবে।”

পড়ুন>>যুক্তরাজ্যের কঠিন ও অস্পষ্ট আশ্রয়পদ্ধতি নিয়ে শঙ্কায় আশ্রয়প্রার্থীরা

উল্লেখ্য, ১৪ এপ্রিল ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাজ্য থেকে রুয়ান্ডা পাঠিয়ে দিতে একটি চুক্তি সাক্ষর করে লন্ডন এবং কিগালি। এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন আফ্রিকার দেশ রুয়ান্ডায় যাচাই-বাছাই করা হবে এবং শরণার্থী মর্যাদা পেলে সেখানেই স্থায়ী হতে হবে। আশ্রয় আবেদন গৃহীত হলেও তারা আর ইংল্যান্ডে ফিরতে পারবেন না।


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন