(ফাইল ছবি) পোল্যান্ড বেলারুশ সীমান্তের কুজনিকা ব্রুজস্কি পয়েন্টে কাঁটাতারের সামনে টহলরত পোলিশ সৈন্যদের একটি দল। ছবি: রয়টার্স
(ফাইল ছবি) পোল্যান্ড বেলারুশ সীমান্তের কুজনিকা ব্রুজস্কি পয়েন্টে কাঁটাতারের সামনে টহলরত পোলিশ সৈন্যদের একটি দল। ছবি: রয়টার্স

আগামী ১ জুলাই থেকে বেলারুশ সীমান্তে জারি খাকা জরুরি অবস্থা তুলে নেবে বলে জানিয়েছে পোলিশ সরকার। অভিবাসীদের অবৈধ পারাপার বন্ধ করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন প্রাচীর নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত নিল পোলিশ কর্তৃপক্ষ।

২০২১ সালে বেলারুশ থেকে বিপুল সংখ্যক অভিবাসী পোল্যান্ডে প্রবেশ করা শুরু করলে সীমান্তে একটি বিতর্কিত প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু করে পোল্যান্ড। 

সেসময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ পোল্যান্ড, লিথুয়ানিয়া এবং লাটভিয়ায় পৌঁছানোর আশায় বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে এসে ভিড় করেছিল আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজারো অভিবাসী৷ 

এরপর ২০২১ সারে গ্রীষ্মের পর থেকে বেলারুশ সীমান্তে জরুরি অবস্থার জারি করে পোল্যান্ড৷ সেসময় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীদের সেখানে প্রবেশের অধিকার সীমিত করে দেশটি৷ 

তবে এমনকি জুলাই মাস থেকে জরুরি অবস্থা তুলে নেওয়া হলেও সীমান্তের ২০০ মিটারের মধ্যে প্রবেশ বন্ধ করে দেবে পোল্যান্ড৷ কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় সাড়ে পাঁচ মিটার উচ্চতার দেয়ালের উপর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপনে ব্যস্ত থাকবে শ্রমিকরা৷  

নির্মিতব্য সীমানা প্রাচীরটি ইতিপূর্বে থাকা কাঁটাতারের সাথে লাগানো থাকবে এবং বেলারুশের সীমান্ত বরাবর ১৮০ কিলোমিটারের পর্যন্ত দীর্ঘ হবে৷ পাশাপাশি এটি সীমান্তবর্তী বাগ নদীর অববাহিকাকেও বেষ্টন করবে৷ কারণ এখানে পোল্যান্ড ও বেলারুশের মধ্যে প্রাকৃতিক সীমান্তের বড় অংশ জুড়ে একটি হ্রদ রয়েছে৷

ইউরোপে গ্রীষ্মকাল আসার সাথে সাথে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে বেলারুশ থেকে পোল্যান্ডে সীমান্ত অতিক্রম করার চেষ্টারও বৃদ্ধি পেয়েছে৷ গত গ্রীষ্মে বেলারুশ থেকে যখন হাজার হাজার অভিবাসী ইইউতে প্রবেশের চেষ্টা করলে ইইউ বেলারুশকে এই কৃত্রিম অভিবাসন সংকটের সাথে জড়িত থাকার জন্য অভিযুক্ত করেছিল৷ 

ইইউ’র দাবি, বেলারুশের স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতি আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কো দেশটির ২০২১ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরে তার সরকারের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ নিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন৷ 

বেলারুশ থেকে অভিবাসীদের পোল্যান্ডে ঠেলে দিতে সহিংসতার ঘটনাও উঠে এসেছিল গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে৷ 

২০২১ সালে ইরাক, ইয়েমেন, আফগানিস্তান এবং সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার মানুষ পোল্যান্ড সীমান্তে ভিড় করেছিল৷ সেখানে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এমনকি কিউবা থেকে আসা অভিবাসীরাও ছিলেন, যাদের সবাই বেলারুশ থেকে ইইউতে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন৷

বেলারুশের পাশাপাশি পোলিশ সীমান্তরক্ষীরাও হিংস্রভাবে অভিবাসীদের বেলারুশের দিকে ঠেলে দেওয়ার অসংখ্য খবর উঠে এসেছে৷ সীমান্তে সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, অভিবাসী ও অধিকারকর্মীরা বিশ্বাস করেন প্রকৃত মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি৷

আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইইউ সীমান্তে যেকোন ধরনের পুশব্যাক বেআইনি, তবে পোলিশ সরকার নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুশব্যাকের অনুমতি দিতে সংসদে আইন পরিবর্তন করেছে৷


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন