জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী তুরস্কে বর্তমানে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ৷ ফটো: এএফপি/ওজান কেওএসএ
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী তুরস্কে বর্তমানে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ৷ ফটো: এএফপি/ওজান কেওএসএ

বিদেশিদের রেসিডেন্স পারমিট প্রদানের বিষয়ে আরো কঠোর হচ্ছে তুরস্ক সরকার৷ এ লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে দেশটি৷

শনিবার তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্যুলেমান সোলু সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানান৷

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশটির যেসকল অঞ্চলে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা স্থানীয়দের এক পঞ্চমাংশ হয়েছে, সেসব এলাকায় নতুন করে আর কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে না৷ 

নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে তুরস্কের প্রায় ১২শ এলাকায় নতুন করে কোনো অভিবাসনপ্রত্যাশীকে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না৷  

ইউরোপের সীমান্তে অবস্থিত এশিয়ার দেশ তুরস্কে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শরণার্থী রয়েছেন৷ জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ৷ এর মধ্যে প্রায় ৩৭ লাখই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থী৷     

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের এমন উপস্থিতি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে গুরুত্বপুর্ণ প্রভাব ফেলছে৷ স্থানীয় জনগণের মাঝেও এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে৷ কয়েকমাস আগে এক সিরীয় শরণার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কলা খাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করলে অভিবাসনবিরোধীরা এ বিষয়ে বিরূপ মন্তব্য করছিল৷     

পড়ুন: জার্মানিতে সিরীয়দের নাগরিকত্ব পাওয়া তিনগুণ বেড়েছে

 এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সরকার অভিবাসনের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায়৷ 

এদিকে আসছে ঈদ-উল-আযহার সময়ে তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া সিরিয়ানদেরকে দেশে অবস্থানরত তাদের পরিবারের কাছে যেতে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে সরকার৷ তার আগে ঈদ-উল-ফিতরের সময়েও সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ 

উল্লেখ্য, সিরিয়া থেকে আসা শরণার্থীদের দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বার বার বলেছে তুরস্কের রাজনৈতিক দলগুলো৷ এমন চাপের মুখে বর্তমান প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যেপ এর্দোয়ান উত্তর সিরিয়ায় সামরিক অভিযানের হুমকি দেন৷ 

তার বক্তব্য, সামরিক অভাযান চালিয়ে উত্তর সিরিয়ার কিছু অংশে একটি ‘সেফ জোন’ গড়ে তোলা হবে৷ আর দশ লাখ সিরীয়কে সেই ‘সেফ জোনে’ পাঠানো হবে৷  

আরআর/এসিবি (ডিপিএ)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন