সমুদ্র অতিক্রম করতে গিয়ে মারা যাওয়া অভিবাসীদের জন্য বিশেষ সমাধিস্থল চালু হয়েছে দক্ষিণ ইটালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলে। ছবি: আনসা
সমুদ্র অতিক্রম করতে গিয়ে মারা যাওয়া অভিবাসীদের জন্য বিশেষ সমাধিস্থল চালু হয়েছে দক্ষিণ ইটালির ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলে। ছবি: আনসা

সমুদ্রে মারা যাওয়া অভিবাসীদের সমাহিত করতে একটি আনুষ্ঠানিক কবরস্থান চালু হয়েছে দক্ষিণ ইটালির ক্যালাব্রিয়া শহরে। ‘আরমো’ নামক কবরস্থানটি অভিবাসন সংস্থা কারিতাস পরিচালনা করছে।

ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলের ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম আরমোর বিভিন্ন জায়গায় সমাহিত আছেন মোহাম্মদ, মেরিয়ান, সাইদা বা মামাদোর মতো নিহত অভিবাসীরা। তারা নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, ইরিত্রিয়া, গিনি বা মালি থেকে এসেছিলেন। এবার তাদের দেহাবশেষ স্থান পাবে ক্যালাব্রিয়া পৌরসভার ছোট্ট গ্রাম আরমোতে চালু হওয়া নতুন একটি কবরস্থানে।

অভিবাসন সংস্থা কারিতাসের সহায়তায় শুক্রবার আরমো কবরস্থানটি চালু করা হয়েছে। ২০১৬ সালে সাগরে মারা যাওয়া ৪৫ অভিবাসীর দেহাবশেষ স্থানান্তর করে কবর দিতে নতুন কবরস্থানটির বেশ কিছু অংশ সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।

পড়ুন>>ইটালিতে রেকর্ড সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীর প্রবেশ

সে সময় ৪৫ জন অভিবাসী নিয়ে ক্যালাব্রিয়ান উপকূলে ডুবে গিয়েছিল একটি অভিবাসী নৌকা। তাদের মরদেহ সেখানকার সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছিল। সেই দুঃখজনক ঘটনা শহরের বাসিন্দাদের মনে এখনও দাগ কেটে আছে। 

“নিহতদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা”

শুক্রবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রেজিও ক্যালাব্রিয়ার ভারপ্রাপ্ত মেয়র পাওলো ব্রুনেত্তি বলেন, “ছয় বছর আগে যা ঘটেছিল তা খুব ভালোভাবে মনে রেখেছে আমাদের শহর। এটি এমন একটি ঘটনা যা আমরা কখনও ভুলব না।”

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে তাৎক্ষণিক শহর কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগীদের মৃতদেহ দাফনের জন্য শহরের কিছু জায়গা বরাদ্দ করে দিয়েছিল। কিন্তু কবরগুলোতে কোন নাম দেওয়া হয়নি এবং মৃতদেহগুলি একে অপরের আড়াআড়িভাবে সারিবদ্ধ ছিল।

আরও পড়ুন>>'ত্রিপলিতে আমাকে অপহরণ করা হয়'

শুক্রবার অনুষ্ঠানে পুরোহিত মার্কো প্যাগনিয়েলো জোর দিয়ে বলেন, “এখন থেকে নিহত অভিবাসীদের সমাধিগুলো যার যার ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পাথর দিয়ে শোভিত করা হবে এবং মৃতের পরিচয় সংযুক্ত করে টাঙ্গিয়ে দেয়া হবে। এটি নিহত লোকদের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার একটি প্রচেষ্টা। এই উদ্যোগটি অবশ্যই জাতীয় এবং ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে। কারণ প্রত্যেকের তার দেশত্যাগ করার অধিকার রয়েছে এবং তাদের স্বাগত জানানোর দায়িত্ব আমাদের সকলের।”

কারিতাসের ইটালীয় শাখা নিজস্ব অর্থ দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। স্থানীয় ক্যাথলিক চার্চও সহায়তা করেছে।

দক্ষিণ ক্যালাব্রিয়া অঞ্চলে নিয়মিতভাবে অভিবাসী নৌকার আগমন লক্ষ্য করা যায়। 

গত বছর ৯,৭০০ মানুষ এই অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন। যা ২০২০ সালে ছিল ২,৫০০। 

সংবাদ সংস্থার এপির হিসেবে, ক্যালাব্রিয়ায় অভিবাসীদের আগমন ২০২১ সালে চারগুণ এবং সমুদ্রপথে ইটালিতে আগমন ১৬ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোপ এবং আফ্রিকার অন্যান্য কবরস্থান

ইউরোপ অভিমুখে যাত্রা করা বেশিরভাগ ডিঙ্গি, পালতোলা এবং বড় নৌকা সাধারণত তুরস্ক, লিবিয়া এবং টিউনিশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে। 

আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, চলতি বছর ইতোমধ্যে ইটালিতে ২১,৮০০-র বেশি লোক এসেছেন। ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টায় মধ্য ভূমধ্যসাগরে প্রায় ৭০০ জন মারা গিয়েছেন।

আরও পড়ুন>>চলতি বছর ইটালিতে ৭৫ হাজার নতুন বিদেশি কর্মী

ইউরোপ এবং আফ্রিকাতেও অভিবাসীদের জন্য কবরস্থান রয়েছে। বিশেষ করে স্পেন এবং টিউনিসিয়ার উপকুলীয় অঞ্চলে। গ্রিসের উত্তরে একটি কবরস্থানে শত শত অভিবাসীর দেহাবশেষ রয়েছে যারা প্রতিবেশী তুরস্ক থেকে গ্রিসে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।


এমএইউ/এআই 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন