(ফাইল ফটো) ভূমধ্যসাগরের মধ্যে অবস্থিত ইটালির লাম্পেদুসা দ্বীপে একটি অভিবাসী নৌকার প্রবেশের দৃশ্য। ছবি: এপি ফটো/সী ওয়াচ
(ফাইল ফটো) ভূমধ্যসাগরের মধ্যে অবস্থিত ইটালির লাম্পেদুসা দ্বীপে একটি অভিবাসী নৌকার প্রবেশের দৃশ্য। ছবি: এপি ফটো/সী ওয়াচ

গ্রীষ্মে নিয়মিত অভিবাসী নৌকার আগমন ঘটছে ইটালীর দ্বীপ লাম্পে্দুসায়। বৃহস্পতিবার দ্বীপটিতে ১২টি অভিবাসী বোঝাই নৌকা প্রবেশ করেছে। নৌকাগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০ জন আশ্রয়প্রার্থী ছিল বলে জানা গেছে। অভিবাসীদের চাপে দ্বীপের প্রধান অভ্যর্থনা কেন্দ্রটি রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে। ৩৫০ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন কেন্দ্রটিতে বর্তমানে হাজারেরও বেশি লোক অবস্থান করছে।

ভূমধ্যসাগরে অনুকূল আবহাওয়া ইটালির ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে অভিবাসী নৌকার আগমন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইটালীয় সংবাদ সংস্থা আনসা জানিয়েছে, ১৬ জুন বৃহস্পতিবার, ১২ টি নৌকা মোট ৪৮১ জন যাত্রী নিয়ে লাম্পেদুসা দ্বীপে প্রবেশ করেছে। আগের দিন, ১৭ টি নৌকা যোগে মোট ৬৯৮ জন অভিবাসী দ্বীপটিতে এসে পৌঁছেছিলেন।

পাশপাশি ১৪ জুন সন্ধ্যা থেকে ১৫ জুন রাতের মধ্যে চারশ জনেরও বেশি লোক বেশ কয়েকটি নৌকায় দ্বীপে এসেছিলেন। এমনকি ১৪ জুন দিনের বেলায় কয়েকটি নৌকায় আরও ৫৯ অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন। 

গত কয়েকদিন থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অসংখ্য আগমন দ্বীপের হটস্পট হিসেবে পরিচিত একমাত্র অভ্যর্থনা কেন্দ্রে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১,৬২৩তে নিয়ে এসেছে। যার বিপরীতে কেন্দ্রটিতে মাত্র ৩৫০ জন অভিবাসী রাখার মতো ধারণক্ষমতা রয়েছে। 

পড়ুন>>চলতি বছর ইটালিতে ৭৫ হাজার নতুন বিদেশি কর্মী

কাঠামোটিতে উপচে পড়া ভিড় কমিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইটালির কোস্টগার্ড জাহাজে করে ৬০২ জনকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ আজ শুক্রবারও সেখানে হাজারেরও বেশি মানুষ অবস্থান করছে। 

লাম্পেদুসায় আসা বেশীরভাগ নৌকাগুলির যাত্রা শুরু হয় লিবিয়া এবং টিউনিসিয়ার উপকূল থেকে। দ্বীপে আগত বেশিরভাগ মানুষই টিউনিশিয়ান হলেও ইটালীয় কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে নৌকাগুলোতে মিশরীয়, সিরীয় এবং সুদান থেকে আসা ব্যক্তিরাও রয়েছে। 

ইটালীয় গণমাধ্যম এগ্রিজেন্টো নোটিজি জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় আসা ৩৫ অভিবাসীদের সবাই পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, বুর্কিনা ফাসো, গাম্বিয়া, গিনি, মালি এবং ক্যামেরুনের নাগরিক।

১৪ জুন নির্বাচিত ল্যাম্পেদুসা দ্বীপের নতুন মেয়র ফিলিপ্পো মান্নিনো রেড়িও কুসানো কাম্পুসকে বলেন, “ল্যাম্পেদুসা ভূমধ্যসাগরের কেন্দ্রে অবস্থিত এটি একটি জীবন ভেলা। আমরা মানুষকে প্রত্যাখ্যান করতে পারি না। আমাদের কাজ হল মানুষকে বাঁচানো এবং তাদেরকে প্রথমে স্বাগত জানানো। আমরা চাই অভ্যর্থনার পর যেন অভিবাসীদের দ্রুত ইটালির অন্যান্য অংশে স্থানান্তর করা হয়। অভিবাসীদের জন্য এই প্রক্রিয়া কখনই অবরুদ্ধ করা উচিত নয়। অন্যথায় আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও পরিচালনা করতে পারব না।”

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে মধ্য ভূমধ্যসাগরে সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে এক হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

আরও পড়ুন>>এক লাখ মৌসুমি কর্মীর ঘাটতি ইটালিতে

অভিবাসন ও এনজিও কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, “মধ্য ভূমধ্যসাগরে মানবিক সংকট গ্রীষ্মে আরও খারাপ হয়ে উঠবে। সাগরে আবহাওয়ার পরিস্থিতি যত ভালো হবে ইউরোপের দিকে বিপজ্জনক পারাপারের প্রচেষ্টা আরও বাড়বে।”


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন