গ্রিসের সামোস দ্বীপে শরণার্থীদের চন্য নির্মিত ক্লোজড কন্ট্রোল অ্যাকসেস সেন্টার৷ নাবিলা কারিমি আলেকোযাই/ইসফোমাইগ্রেন্টস
গ্রিসের সামোস দ্বীপে শরণার্থীদের চন্য নির্মিত ক্লোজড কন্ট্রোল অ্যাকসেস সেন্টার৷ নাবিলা কারিমি আলেকোযাই/ইসফোমাইগ্রেন্টস

গ্রিসের সামোস দ্বীপের এই ক্যাম্পটিতে বাস করছেন দেশটিতে আশ্রয় চাইতে আসা অনেক অভিবাসন-প্রত্যাশী৷ কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘেরা ক্যাম্পটির পাহারায় আছেন নিরাপত্তারক্ষীরা৷

দেশটির অন্যান্য ক্যাম্প থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের এখানে নিয়ে আসা হয়েছে৷ আগের ক্যাম্পগুলোতেও যে তারা খুব ভাল ছিলেন তা নয়৷ সেখানকার কষ্টও ছিল অবর্ণনীয়৷ ছিল সাপের ভয় আর ইঁদুরের উৎপাত৷ তবে এতো সব কষ্টের মাঝেও সেখানে তাদের যা ছিল তা হলো স্বাধীনতা৷ 

নয় মাস আগে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে ৪৩০ কোটি ইউরো ব্যয়ে সামোস দ্বীপে নির্মাণ করা হয় ক্লোজড কন্ট্রোল অ্যাকসেস সেন্টার নামে এই আশ্রয়কেন্দ্রটি৷ 

দেশটির আজিয়ান দ্বীপের ভ্যাথি ক্যাম্পে আশ্রয়প্রার্থীদের ভিড় কমাতেই নতুন এই কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়৷

তিন হাজার আশ্রয়প্রার্থী ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রটির সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকেন নিরাপত্তারক্ষীরা৷শুধু কি তাই, তাদেরকে নজরদারির করার জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক সব সরঞ্জাম-ম্যাগনেটিক গেইট, এক্সরে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেম ও সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি৷ 

কিছুদিন আগে সেখানকার পরিস্থিতি বুঝতে ক্যাম্প পরিদর্শন করতে চেয়েছিলেন ইনফোমাইগ্রেন্টসের সাংবাদিকেরা৷ কিন্তু তাদেরকে সেখানে ঢুকতে দেয়া হয়নি৷ শুধুমাত্র বাইরে থেকেই ছবি তুলতে পেরেছিলেন তারা৷  

চালু হওয়ার পর থেকেই সমালোচনার মুখে ক্যাম্পটি৷ অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা ডক্টরস উইদাইট বর্ডারস জানায়, অভিবাসন-প্রত্যাশীরা প্রথম থেকেই এই ক্যাম্পটিতে থাকতে চাননি৷ কারণ, এখানে বন্দি হয়ে পড়বেন এই ভয় তাদের৷ 

অভিযোগ আছে, আশ্রয়প্রার্থীদের নজরদারির জন্য সব আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবস্থা থাকলেও তাদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে নেই পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী৷ 

সন্ধ্যা আটটার পর শুরু হয় কারফিউ৷ এসময়ের পর ক্যাম্প থেকে বের হতে চাইলে বা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে চাইলে বিশেষ প্রবেশাধিকার কার্ড প্রয়োজন হয়৷ এমন কার্ড অবশ্য সবার নেই৷ বিশেষ করে যাদের আশ্রয়ের জন্য দ্বিতীয়বার আবেদন করা প্রয়োজন কিন্তু টাকার অভাবে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করতে পারছেন না তাদের এই কার্ড নেই৷

কেন্দ্রটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে গ্রিক কাউন্সিল অব রিফিউজি এবং বেসরকারি সংস্থা অক্সফামের এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে নানা তথ্য৷ এক আফগান আশ্রয়প্রার্থী জানান, ‘‘আমি বাইরে যেতে চাই৷ কিন্তু তারা আমাকে যেতে দেয় না৷ আমাকে এখানে বন্দিদের মতো আটকে রাখা হয়েছে৷ আমি আগের ক্যাম্পেই ভাল ছিলাম৷ আমি সেখানে খাঁচায় ছিলাম না৷ কোথাও যাওয়ার স্বাধীনতা ছিল আমার৷" 

ভ্যাথি কেন্দ্র

আগের ক্যাম্পটির নাম ছিল ভ্যাথি কেন্দ্র৷ ছয়শ ৫০ জন আশ্রয়পার্থীর জন্য তৈরি করা ওই ক্যাম্পটিতে কয়েক বছরের মধ্যে ৭০০ আশ্রয়প্রার্থীকে রাখা হয় সেখানে৷ অস্থায়ী তাঁবুতে মানবেতর জীবন যাপন করতেন সেখানকার বাসিন্দারা৷    

২০২০ সারে পুরো ক্যাম্পজুড়েই করোনা ছড়িয়ে পড়ে৷ আশ্রয়প্রার্থীরা জানালেন, পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছিল৷ বিদ্যুৎ নেই, সাপের ভয় আর ইঁদুরের উৎপাতে সেখানে থাকা দায়৷   

এমন পরিস্থিতিতে বেশ কিছু অভিবাসন-প্রত্যাশীকে নিয়ে যাওয়া হয় সামোস দ্বীপের আশ্রয়কেন্দ্রটিতে৷ কিন্তু আশ্রয় চাইতে আসা এসকল লোকেদের পরিস্থিতির কতোটা পরিবর্তন হলো? পরিবর্তন বলতে এটুকু হয়তো বলা যায় যে, জঙ্গল থেকে উদ্ধার করে তাদের ‘জেলে’ এনে রাখা হয়েছে৷  

মারিওন ম্যাকগ্রেগর/আরআর

 

অন্যান্য প্রতিবেদন