সাইপ্রাসে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি নারী অভিবাসীর সাথে কথা বলছেন ডয়চে ভেলের সাংবাদিক আরাফাতুল ইসলাম৷
সাইপ্রাসে বসবাসরত কয়েকজন বাংলাদেশি নারী অভিবাসীর সাথে কথা বলছেন ডয়চে ভেলের সাংবাদিক আরাফাতুল ইসলাম৷

চাকরি কিংবা পড়াশোনার উদ্দেশ্যে অনেক বাংলাদেশি নারী পাড়ি জমিয়েছেন সাইপ্রাসে৷ তাদের কেউ বলছেন, অভিবাসী হিসেবে তারা দেশটিতে ভাল আছেন৷ কেউ আবার শোনালেন হতাশার কথাও৷ ডয়চে ভেলের কাছে তেমন অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন বেশ কয়েকজন প্রবাসী নারী৷

সাইপ্রাসের বাফোস শহরে থাকেন সোহানা৷ ছয় বছর আগে স্বামীর সাথে পড়াশোনার জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন এই দেশটিতে৷ পড়াশোনা শেষে তিনি বর্তমানে একটি রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে খণ্ডকালীন চাকরি করছেন৷ 

শিক্ষার্থী হিসেবে এখানে কেমন জীবন যাপন করছেন জানতে চাইলে সোহানা জানান, এখানে ছাত্রছাত্রীদের কাজের সুযোগ তেমন নেই৷ যারা এখানে পর্যটন খাত নিয়ে পড়াশোনা করছেন তারা গ্রীষ্মকালে ছুটির সময়ে কাজের অনুমতি পান৷ 

তাছাড়া ছাত্রছাত্রীরা আর কোনো ধরনের কাজের অনুমতি পান না বলে জানান তিনি৷ আর এ কারণে ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো সাইপ্রাসে নিজে টাকা রোজগার করে জীবন যাপন অনেক কঠিন বলে মনে করেন সোহানা৷ 

সোহানার সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখানকার জীবনযাত্রার খরচ তুলনামূলক অনেক কম৷

সোহানা জানান, তিনি তার স্বামীকে নিয়ে এক রুমের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন৷ আর এর জন্য সাড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ ইউরো পর্যন্ত খরচ হয় তাদের৷  

শুধু সোহানা নয়, দেশটিতে থাকা এমন আরো অনেক বাংলাদেশি নারী অভিবাসীর সাখে দেখা হয় ডয়চে ভেলের সাংবাদিক আরাফাতুল ইসলাম ও অনুপম দেব কানুনজ্ঞের৷ 

এক সপ্তাহ আগে সাইপ্রাসে এসেছেন বাংলাদেশি অভিবাসী জান্নাত৷ পড়াশোনার জন্য নয়, জান্নাত বাংলাদেশ থেকে সরাসরি চাকরি নিয়ে সাইপ্রাসে এসেছেন৷  


ডয়চে ভেলেকে তিনি চানান, সাইপ্রাসের একটি শিপিং কোম্পানিতে চাকরির নিয়ে এনেছেন তিনি৷ সাইপ্রাসে বৈধভাবে থেকে চাকরি চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার৷

জান্নাতের মতোই চাকরি নিয়ে এসেছেন আরেক বাংলাদেশি নারী নাহিদা৷ বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে বাফোসে বাস করছেন এক সন্তানের মা নাহিদা৷ 

চাকরি নিয়ে এদেশে আসলেও আপাতত আর চাকরিটি করছেন না তিনি৷ নাহিদা জানান, সন্তানকে দেখাশোনার জন্য সময় দিতে হচ্ছে তাকে৷ তাই আপতত তিনি চাকরি করছেন না৷ সন্তান বড় হলে আবার চাকরিতে যোগদানের ইচ্ছা রয়েছে তার৷

এখানকার জীবনযাপন বিষয়ে নহিদা জানান, পরিবার নিয়ে থাকার জন্য এটি বেশ ভাল একটি দেশ৷ তবে সন্তানের জন্য সরকারের কাছ থেকে বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায় না বলে জানান তিনি৷

সেই সাথে আরো একটি আক্ষেপের কথা জানালেন নাহিদা৷ তিনি তার সন্তানকে বাংলা ভাষা শেখাতে চান কিন্তু এখানকার কিন্ডারগার্টেনে বাংলা শেখানোর বা অন্য কোনো স্কুল থেকেও বাংলা শেখানোর কোনো সুযোগ নেই বলে জানালেন তিনি৷

 পড়ুন: সাইপ্রাসে যেভাবে দালালদের হাতে প্রতারিত হন বাংলাদেশিরা 

এদিকে নারীদের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথাও জানালেন বাংলাদেশি এই অভিবাসীরা৷

বাংলাদেশি অভিবাসী জারা জানান তিনি সাত বছর আগে পড়াশোনার জন্য এখানে এসেছিলেন৷ এখানকার মানুষেরা সব ধর্মকেই সমানভাবে দেখে অর্থাৎ এখানে সবাই নিজের মতো করে ধর্ম পালন করার পূর্ণ স্বাধীনতা রযেছে৷ স্থানীয় বাংলাদেশিদের সহায়তায় কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থাও আছে বলে জানান তিনি৷

আর সোহানা জানান, এই দেশটিতে নারীরা পুরোপুরি নিরাপদ, এখানে অনেক রাত পর্যন্ত একজন নারী নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন৷ 

আরআর/কেএম     


 

অন্যান্য প্রতিবেদন