উত্তর ফ্রান্সের বিভিন্ন মহাসড়কে মানব পাচার রোধে যুক্তরাজ্যগামী ট্রাক ও লরিগুলোতে ফরাসি পুলিশের অভিযানের একটি দৃশ্য। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
উত্তর ফ্রান্সের বিভিন্ন মহাসড়কে মানব পাচার রোধে যুক্তরাজ্যগামী ট্রাক ও লরিগুলোতে ফরাসি পুলিশের অভিযানের একটি দৃশ্য। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

উত্তর ফ্রান্সে ইউরোটানেলের কাছে একটি অভিবাসী বহনকারী ভ্যান চালানোর সময় গ্রেপ্তার হন আলী মোহাম্মদ নামে এক ইরাকি অভিবাসী। গাড়িতে ৩৯ জন অনিয়মিত অভিবাসী পরিবহনের দায়ে এই ইরাকিকে দুই বছরের কারদাণ্ড দিয়েছে ফরাসি আদালত।

২০ জুন সোমবার, উত্তর ফ্রান্সের বুলন-সুর-মের এর আদালত আলী মোহাম্মদ নামে এক ইরাকি অভিবাসীকে দুই বছরের সাজা প্রদান করেছে। এই ১৯ বছর বয়সি ইরাকিকে কয়েক দিন আগে একটি ভ্যানে ৩৯ জন অনিয়মিত অভিবাসী পরিবহনের দায়ের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

স্থানীয় দৈনিক লা ভোয়া দ্যু নর্দ জানিয়েছে, ফরাসি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর থেকে রায় ঘোষণা পর্যন্ত তিনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক রয়েছেন। রায়ে দুই বছরের সাজার পাশপাশি তাকে তিন বছরের জন্য ফরাসি ভূখণ্ডে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।”

অর্থ্যাৎ সাজা ভোগ করার পর তাকে তার দেশে ফেরত পাঠানো হবে এবং তিন বছর পর্যন্ত তিনি আর ফ্রান্সে প্রবেশ করতে পারবেন না। 

১৩ জুন সোমবার উত্তর ফ্রান্সে ইউরো টানেলের প্রবেশপথে এ১৬ নামক হাইওয়েতে গাড়ি চালিয়ে আসছিলেন এই ইরাকি অভিবাসী। সেখানে অবস্থানরত ফরাসি সীমান্ত পুলিশ (পিএএফ) এর একটি দল গাড়িটিকে থামানোর নির্দেশ দেয়। কিন্তু চালক পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে গাড়িটি চালিয়ে বাজিংঘেনের দিকে চলে যান। 

পড়ুন>>প্যারিসে বিদেশি নাবালকদের শোষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার সাত পাচারকারী

লা-ভোয়া-দ্যু-নর্দ এর মতে, “পুলিশ পরবতীতে নিজেদের টহল দলের শক্তি বৃদ্ধি করে ভ্যানটিকে ধাওয়া দিয়ে থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়। সেখান থেকে অভিযুক্ত ইরাকি অভিবাসী আলী মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। পাশপাশি সাড়ে তিন মিটার লম্বা এবং প্রায় দুই মিটার চওড়া ভ্যানটির দরজা খুলে ৩৯ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে উদ্ধার করে পুলিশ।”

সাজাপ্রাপ্ত ইরাকি অভিবাসী আলী মোহাম্মদ পুলিশের কাছে দাবি করেন, একজন মানব পাচারকারী তাকে বিনামূল্যে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার বিনিময়ে গাড়িটি চালাতে বলেছিলেন। ভ্যানের পিছনে পাচারকারী দলের সদস্যদের চাপে মুখে তিনি পুলিশের নির্দেশ অমান্য করে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। 

ফ্রান্সের উত্তর উপকূলের কালে থেকে ডানকের্ক অনিয়মিত উপায়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। এই অঞ্চলে মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তার এবং দোষী সাব্যস্ত হওয়া নিয়মিত ঘটনা। তবে মোহাম্মদ আলীর মতো লোকেরা অবৈধ অভিবাসনের পেছনে কাজ করা বিশাল নেটওয়ার্কের মূল হোতা নন।

আরও পড়ুন>>দক্ষিণ ফ্রান্সে পুলিশের গুলিতে আহত অভিবাসীর মৃত্যু

কিছু অভিবাসীকে গাড়ি চালিয়ে অথবা ইংলিশ চ্যানেলে পাড়ি দেয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা নৌকা চালানোর বিনিময়ে কোন অর্থ ছাড়ায় যুক্তরাজ্যে যাওয়ার ফাঁদে ফেলা হয়। এতে করে পাচারকারীরা কোন প্রকার সরাসরি প্রতিনিধি ছাড়াই এসব পাচার কাজ সুচারুরুপে সম্পাদন করতে সক্ষম হন। 

এভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে লাখ লাখ ইউরোর মুনাফা করেন বিশাল মানব পাচার নেটওইয়ার্কগুলো। 

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, চলতি বছরের শুরু থেকে উপকূলে যথেষ্ট পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও ২০,১৩২ জন লোক ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করার চেষ্টা করেছে। যা ২০২১ সালে একই সময়ের তুলনায় ৬৮ শতাংশ বেশি। 



এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন