মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালায় মরক্কো পুলিশ। ছবি: উইকিমিড়িয়া
মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চালায় মরক্কো পুলিশ। ছবি: উইকিমিড়িয়া

৪২ বছর বয়সি এক নাইজেরীয় অভিবাসীকে মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা শহর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অবৈধভাবে মরোক্কোতে বসবাস করছিলেন এবং মরোক্কো থেকে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ইউরোপে পাচার করছিলেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অভিবাসী মহিলাদের যৌন নির্যাতনেরও অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগ, মরোক্কো থেকে দীর্ঘদিন মানব পাচার কার্যক্রম ও অভিবাসী নারীদের যৌন পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য করে আসছিলেন এই নাইজেরীয় অভিবাসী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্পেন কর্তৃপক্ষের গ্রেপ্তার তালিকার শীর্ষে ছিলেন। 

অবশেষে ১৯ জুন, রোববার মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কা শহর থেকে এই ৪২ বছর বয়সি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নাইজেরিয়া থেকে পরিচালিত একটি শীর্ষ মানবপাচার নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। 

পড়ুন>>"‘গত তিন মাসে আমার ১২ কেজি ওজন কমেছে”

মানবপাচারের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে যৌনপেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হওয়া অভিবাসীরা নারীরা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানিয়েছে।

মরোক্কোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওজদা শহর কর্তৃপক্ষ অনেকদিন ধরেই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে চেয়ে অভিযান পরিচালনা করছিল। মরোক্কো কর্তৃপক্ষের কাছে এই অভিবাসীর বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযোগ এসেছিল। সেটি হল অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে একটি ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কে হ্যাক করে তা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নিয়েছেন। 

স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

আরও পড়ুন>>মরক্কোর দক্ষিণে সমুদ্রে পাড়ি দিতে চাওয়া অভিবাসীদের গ্রেপ্তার জোরদার

মরোক্কোর অনেক অভিবাসীদের জন্য ট্রানজিট দেশ। আটলান্টিক বা ভূমধ্যসাগরীয় উপকূল থেকে ইউরোপ পৌঁছানোর চেষ্টা করা অনেক পুরুষ ও নারী অভিবাসীরা মরক্কোয় ট্রানজিট করে থাকেন।

স্পেনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২১ সালে ৪০ হাজারেরও বেশি অভিবাসী মরোক্কো থেকে সমুদ্রপথে স্পেনের বালিয়েরিক এবং ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে এসেছিল।

মরোক্কোয় অবস্থানরত আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসীদের জীবনযাত্রা খুবই কঠিন। একটি বাসস্থান জোগাড় করা ও কাজ করা অভিবাসীদের জন্য প্রধান বাধা। 

আরও পড়ুন>>মরক্কোর উন্মুক্ত অভিবাসন নীতির প্রশংসায় জাতিসংঘ

এছাড়া করোনা মহামারির পরে বিভিন্ন অস্থায়ী ও অনানুষ্ঠানিক কাজের সেক্টর বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারো অভিবাসী বেকার হয়ে পড়েছেন। অনেক নারী অভিবাসী দারিদ্র্যের শিকার হয়ে যৌন পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছেন। 

রাবাতের একজন গির্জার পুরোহিত এবং মরক্কোতে ১৭ বছর ধরে অভিবাসীদের জন্য কাজ করা ড্যানিয়েল নুরিসাত ইনফোমাইগ্রেন্টসকে জুন মাসের শুরুর দিকে বলেছিলেন, “এখানে যৌন পেশায় জড়িয়ে পড়া অভিবাসী নারীদের বেশিরভাগই একক নারী। কিন্তু এটি সংবেদনশীল হিসেবে সবাই গোপন করে যায়। কেউই এটি নিয়ে কথা বলে না।”


এমএইউ/আরকেসি









 এমএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন