গ্রিসের সামোসে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য শিবিরটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷  ২০২২ সালের ১৬ জুনের ছবি: নাবিলা করিমি আলেকজাই/ইনফোমাইগ্রেন্টস
গ্রিসের সামোসে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য শিবিরটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ ২০২২ সালের ১৬ জুনের ছবি: নাবিলা করিমি আলেকজাই/ইনফোমাইগ্রেন্টস

অভিবাসী এবং শরণার্থীদের নিয়ে যে মানবাধিকার কর্মীরা কাজ করেন, তাদের অপরাধী হিসেবে দেখে গ্রিস কর্তৃপক্ষ, জাতিসংঘের বিশেষ পরিদর্শক মেরি লওলর বুধবার একথা জানিয়েছেন৷

১০ ​​দিনের গ্রিস সফরে গিয়েছিলেন লওলর৷ এথেন্সে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন তিনি৷ এছাড়াও লেসবস, শিওস এবং সামোস দ্বীপপুঞ্জ সফর করেন তিনি৷ ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে ইউরোপের অভিবাসন সংকটের প্রথম সারিতে ছিল এই জায়গাগুলি 

লওলর বলেন, ‘‘গ্রিসে মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলিকে অপরাধী হিসেবে দেখানোর বিষয়টি বেড়ে চলেছে৷ আমি উদ্বিগ্ন৷ এমন কখনো হওয়া উচিত নয়৷ পাশে থাকার জন্য শাস্তি দেয়া এবং কারো প্রতি সহানুভূতির জন্য বিচারের আওতায় আনা সমর্থন করি না৷ 

তার কথায়, ‘‘সাহায্য করাকে অপরাধ হিসাবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে বিচারের আওতায় এনে মানবপাচারের মতো অপরাধ হিসেবে অভিযোগ করা হচ্ছে৷’ 

লওলর জানান, ‘‘২০১৯ সাল থেকে মানবাধিকার কর্মীদের পক্ষে সেখানে কাজ করাই কঠিন হয়ে উঠেছে৷ বিশেষ করে যে জায়গাগুলিকে ‘বিতর্কিত বা ভূ-রাজনৈতিকভাবে জটিল বা সংবেদনশীল’ বলে মনে করে কর্তৃপক্ষ, সেখানে কাজ করতে পারছেন না তারা৷’ 

লওলরের বক্তব্য, ‘‘মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণার ফলে একটি মিথ্যা ভাবমূর্তি স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে৷ এই নীতি ‘ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ’ তৈরি করেছে৷ সরকারের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এনজিওদের কাজ নিয়ে সরাসরি আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখছেন৷’ 

লওলরের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রণালয় বলেছে, অভিবাসন এবং আশ্রয়প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সক্রিয় অধিকার কর্মীদের কাজকে সম্মান করে তারা৷ এর আগেও একাধিক আশ্রয়-প্রার্থীকে ‘পুশব্যাক’ অর্থাৎ জোর করে ফেরত করার অভিযোগ উঠেছে গ্রিসের বিরুদ্ধে৷ কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছিল৷ সমুদ্র সীমানা রক্ষার যুক্তি দেখিয়েছিল তারা৷ 

আরকেসি/কেএম (রয়টার্স) 

 

অন্যান্য প্রতিবেদন