Dউত্তর সাইপ্রাসে বসবাসরত বাংলাদেশি নারীদের সাথে কথা বলছেন ডয়চে ভেলের আরাফাতুল ইসলাম৷ ফটো: অনুপম দেব কানুনজ্ঞ
Dউত্তর সাইপ্রাসে বসবাসরত বাংলাদেশি নারীদের সাথে কথা বলছেন ডয়চে ভেলের আরাফাতুল ইসলাম৷ ফটো: অনুপম দেব কানুনজ্ঞ

অভিবাসনের আশায় সাইপ্রাসে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেক বাংলাদেশি৷ কেউ আসছেন পড়াশোনার উদ্দেশ্যে, আবার কেউ আসছেন চাকরি নিয়ে৷ অভিবাসীদের তালিকায় আছেন বাংলাদেশি নারীরাও৷ ভূমধ্যসাগরের এই দ্বীপ রাষ্ট্রটিতে কেমন আছেন বাংলদেশি নারীরা?

সাইপ্রাসে বাংলাদেশি অভিবাসী ও অভিবাসন-প্রত্যাশীদের পরিস্থিতি জানতে সেখানে গিয়েছিলেন ডয়চে ভেলের দুই সাংবাদিক আরাফাতুল ইসলাম ওবং অনুপম দেব কানুনজ্ঞ৷ দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নারীরা এই দুই সাংবাদিককে জানালেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা৷ 

সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে উত্তর সাইপ্রাসে এসেছেন মাহমুদা আক্তার৷ বর্তমানে তিনি উত্তর সাইপ্রাসের গির্নে শহরে বাস করছেন৷ কয়েক লাখ টাকা খরচ করে হাউস কিপার হিসেবে তিনি পাড়ি জমিয়েছিলন সাইপ্রাসে৷ 

বাংলাদেশি নারীদের উদ্দেশ্যে মাহমুদা জানান, সাইপ্রাসে অভিবাসী হিসেবে থাকতে চাইলে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে৷ এখানকার সব নিয়ম-কানুন মেনে চলার মানসিকতা এবং সেই সাথে সাহস ও আত্মবিশ্বাস প্রয়োজন৷ 

তিনি বলেন, ‘‘এখানে মেয়েরা এসে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠতে চাইলে জব করতে পারে৷ নিজের বাচ্চাদের পড়াশোনা করানোর এবং দেখাশোনা করার জন্য হলেও দেশটি বেশ ভাল৷’’

শুধু চাকরির বিষয় নয়, দেশটিতে নারীদের নিরাপত্তা কেমন সে বিষয়েও কথা বলেন মাহমুদা৷ 

তিনি বলেন, ‘‘এখানে আমি বাচ্চাদের নিয়ে রাত দুইটা-তিনটায় বের হইছি৷ কিন্তু কখনো অনিরাপদ মনে হয়নি৷’’

পড়ুন: 'হাতজোড় কইরা কমু, এই টাকা দিয়া দেশে ব্যবসা করেন'

বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘সন্ধ্যার পর আমি ঘর থেকেই বের হতাম না৷ মাগরিবের পর আমি বাসা থেকে বের হতাম না৷ নিরাপদ বোধ করতাম না৷’’

কিন্তু সাইপ্রাসে নারীদের সেই সমস্যা নেই বলে জানান তিনি৷


তবে দেশটিতে পরিবারের একজনের আয়ে চলা একটু কঠিন বলে মনে করেন মাহমুদা৷ ‘‘আমার মনে হয়, যদি স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরি করেন তাহলে লাইফ (জীবনযাপন) অনেক ইজি (সহজ), কিন্তু যদি শুধু হাজবেন্ড (স্বামী) চাকরি করেন, তাহলে জীবন অনেক হার্ড (কঠিন) হয়ে যায়৷’’ 

শাহীন সুলতান ডলি দুবছর আগে সাইপ্রাসের গির্নে শহরে এসেছেন৷ গত দুবছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানান, এখানে মেয়েরা একা একা সব কিছুই করতে পারেন৷ 

‘‘বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে চলাফেরার ক্ষেত্রে, মার্কেটের ক্ষেত্রে, হসপিটালের ক্ষেত্রে স্বামী যখন বাইরে থাকেন তখন নারীরা একাই সব সামলিয়ে উঠতে পারেন৷’’

স্পাউস ভিসায় স্বামীর কাছে এসেছেন ডলি৷ তার সাথে কথা বলে জানা গেল, এখানে নারীদের কাজ করার বিভিন্ন ধরনের সুবিধা রয়েছে৷ তাছাড়া অভিবাসী নারী হিসেবে দেশটিতে তার চলাফেরায় তেমন কোনো সমস্যা হয় না৷ এমন সুযোগ-সুবিধা থাকায় এই শহরেই থাকবেন এমন আএমন আশা তার। 

পড়ুন: ছয়দিন ধরে সাইপ্রাসে শরণার্থী ক্যাম্পের গেটে তিন বাংলাদেশি 

কয়েক বছর ধরে এই দেশে থেকে এখানকার জীবনযাত্রার সাথে বেশ অভ্যস্তও হয়ে উঠেছেন এই নারীদের অনেকে৷ স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার-দাবার সব কিছুতেই তারা নিজেদের মানিয়ে নিয়েছেন৷ তাছাড়া এই শহরটিতে বাংলাদেশি অনেক খাবার-দাবারও পাওয়া যায় বলে জানা গেছে৷ 

বাংলাদেশি নারী অভিবাসী জাহিদা আক্তার দুবছর আগে এসেছেন উত্তর সাইপ্রাসের গির্নে শহরে৷ 

''এই শহরে দেখার অনেক কিছুই আছে৷ এখানকার আবহাওয়া, খাবার-দাবার সবই ভাল লাগে৷...এখানকার সামুদ্রিক মাছ তো অনেক ভাল’’

কথা বলে বুঝা গেল, ভূম্যধসাগরের মাছের বেশ সমঝদার হয়ে উঠেছেন তিনি৷ তবে এখানকার মাছ বাংলাদেশের ইলিশের চেয়েও সুস্বাদু কি না এই প্রশ্নের জবাবে অবশ্য ইলিশের স্বাদকে কোনো কিছুর সাথে তুলনা করতে আগ্রহী নন তিনি৷ 

‘‘ইলিশতো অসাধারণ..এইটাতো তুলনাহীীন।"    

 

অন্যান্য প্রতিবেদন