শুক্রবার ২৪ জুন, মরক্কো থেকে সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে স্পেনের মেলিলা ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা করছে অভিবাসীরা। ছবি:এপি ফটো/জাবিয়ের বেরনার্ডো
শুক্রবার ২৪ জুন, মরক্কো থেকে সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে স্পেনের মেলিলা ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা করছে অভিবাসীরা। ছবি:এপি ফটো/জাবিয়ের বেরনার্ডো

শুক্রবার সকালে সাব-সাহারা আফ্রিকা থেকে প্রায় দুই হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী উত্তর মরক্কোর নিকটে অবস্থিত স্প্যানিশ ছিটমহল মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করেছে। এ সময় অভিবাসী এবং দুই দেশের পুলিশের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

স্প্যানিশ পুলিশের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, “২৪ জুন শুক্রবার, সকাল ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে মরক্কো এবং স্পেন সীমান্তের মধ্যে অবস্থিত মেলিলা ছিটমহলের কাছে ২ হাজারেরও বেশি অভিবাসীদের একটি দল ভিড় করে।”

বিপুল সংখ্যক অভিবাসী সীমান্তে ভিড় করলে তাৎক্ষনিক স্প্যানিশ সিভিল গার্ডের অনুপ্রবেশ বিরোধী অ্যালার্ম বেজে উঠে মরক্কো এবং স্প্যানিশ পুলিশের একটি বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দুই দেশের পুলিশের পাশপাশি স্পেন সেনাবাহিনীও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়৷  

দুই হাজারেরও বেশি অভিবাসী সীমান্ত পার হয়ে মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করলেও সফল হয়েছে মাত্র ১৩০ জন অভিবাসী। ছবি: ডিআর
দুই হাজারেরও বেশি অভিবাসী সীমান্ত পার হয়ে মেলিলায় প্রবেশের চেষ্টা করলেও সফল হয়েছে মাত্র ১৩০ জন অভিবাসী। ছবি: ডিআর


স্প্যানিশ পুলিশের মুখপাত্র আরও জানান, “সাব-সাহারা আফ্রিকার ৫০০ অভিবাসীর একটি দল ঐক্যবদ্ধভাবে স্পেন এবং মরক্কোকে পৃথক করা কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে জোরপূর্বক স্পেনে করতে প্রবেশ করার চেষ্টা চালায়। তাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৩০ জন অভিবাসী আফ্রিকার মহাদেশের সবচেয়ে নিকটে অবস্থিত একমাত্র ইউরোপীয় স্থল সীমান্ত হিসেবে বিবেচিত মেলিলায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিল।”

কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল ব্যবহার

স্প্যানিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, “সংঘবদ্ধ অভিবাসীরা পাথর এবং হাতুড়ি নিয়ে সজ্জিত ছিল। পুলিশ এক প্রকার বাধ্য হয়ে এই হামলার জবাব দেয়। কর্তৃপক্ষ দলটির উপর কাঁদানে গ্যাস ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।”

অপরদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে মেলিলা ছিটমহলে অবস্থারত একজন সুদানের নাগরিক শুক্রবার ইনফোমাইগ্রেন্টসকে জানান, “আমরা বন্দুকের গুলির শব্দ শুনেছি। উভয় দেশের নিরাপত্তাবাহিনী অভিবাসীদের ব্যাপক মারধর করেছে।”

ব্যাপক সংঘর্ষের মধ্যেও স্প্যানিশ ছিটমহল মেলিলায় প্রবেশ সক্ষম হওয়া অভিবাসীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: এপি ফটো।
ব্যাপক সংঘর্ষের মধ্যেও স্প্যানিশ ছিটমহল মেলিলায় প্রবেশ সক্ষম হওয়া অভিবাসীদের উচ্ছ্বাস। ছবি: এপি ফটো।


ইনফোমাইগ্রেন্টসের কাছে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ছিটমহল প্রবেশের চেষ্টা করা অভিবাসীদের উপর পাথর নিক্ষেপ করছে স্প্যানিশ পুলিশ।

এ ঘটনায় টুইটারে অধিকার সংগঠন ইরিডিয়া জানিয়েছে, “আমরা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই টিয়ার শেল ও কাঁদানে গ্যাসের ব্যবহার অযৌক্তিক। এটির সুনির্দিষ্ট নিক্ষেপের কারণে গুরুতর জখম হতে পারে। অভিবাসদের উপর এটি মারার ফলে আঘাত বাড়তে পারে এবং শ্বাসযন্ত্রে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। যা তাদের উপর দীর্ঘমেয়াদি মানসিক -সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে।”


সীমান্তে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির সময় বেশ কয়েকজন পুলিশ ও অভিবাসী আহত হন। তবে তাদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে জানা যায় নি। 

সাম্প্রতিক দিনগুলিতে মরক্কোর পুলিশ এবং অভিবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ লক্ষ্য করা গেছে। বেশ কিছু দিন ধরে এই অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মরক্কো অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটস (এএমডিএইচ) জানায়, “বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত মরক্কোর পুলিশ কর্মকর্তা এবং নির্বাসিতদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে গত সপ্তাহান্তেও মরক্কো কর্তৃপক্ষ এবং অভিবাসীদের মধ্যে অভূতপূর্ব সহিংসতা শুরু হয়েছিল। 

মরক্কো ও স্পেনকে পৃথক করা ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ মেলিলা ছিটমহলের বাধা অতিক্রম করতে অপেক্ষায় থাকেন হাজারো অভিবাসন প্রত্যাশী। 

মেলিলা সীমান্তে সংঘর্ষে আহত একজন অভিবাসীকে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন অন্য অভিবাসীরা। ছবি: এপি ফটো
মেলিলা সীমান্তে সংঘর্ষে আহত একজন অভিবাসীকে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন অন্য অভিবাসীরা। ছবি: এপি ফটো

এএমডিএইচ -এর পরিচালক ওমর নাগি বলেন, “মাদ্রিদ এবং রাবাতের মধ্যে কূটনৈতিক ঝামেলা শেষ হওয়ার পর থেকে মরক্কোর সব শহরে অভিবাসীদের উপর দমন নিপীড়ন শুরু হয়েছে।

অভিবাসীরা জানান, “বেশ কিছু সপ্তাহ ধরে মরক্কো কর্তৃপক্ষ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার অভিযান চালাচ্ছে। বিশেষ করে মরক্কোর উত্তর এবং দক্ষিণের শহর লাইওনের দিকে অভিবাসীদের গণহারে গ্রেপ্তার চলছে। কারণ এই শহর থেকেই নৌকাগুলো ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।”


এমএইউ/আরআর


 

অন্যান্য প্রতিবেদন