পর্যটকরা প্রায়ই  গ্রিসের দ্বীপপুঞ্জগুলিতে অভিবাসীদের দেহ উদ্ধার করেন ৷ লেসবোসে এই পরিত্যক্ত নৌকাটিও তারা দেখতে পেয়েছিলেন৷ ছবি: গিলাউমে পিনন/পিকচার অ্যালায়েন্স
পর্যটকরা প্রায়ই গ্রিসের দ্বীপপুঞ্জগুলিতে অভিবাসীদের দেহ উদ্ধার করেন ৷ লেসবোসে এই পরিত্যক্ত নৌকাটিও তারা দেখতে পেয়েছিলেন৷ ছবি: গিলাউমে পিনন/পিকচার অ্যালায়েন্স

গ্রিসের লেসবোস দ্বীপের একটি সমুদ্রসৈকতে দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন পর্যটকেরা। তুরস্ক থেকে গ্রিসে পৌঁছাতে গিয়ে ওই দুই অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে বলে অনুমান কর্তৃপক্ষের৷ পাশাপাশি, গ্রিক উপকূলরক্ষী বলছে, সপ্তাহান্তে এক হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে সে দেশে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে৷

গ্রিসের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, লেসবোসের সমুদ্রসৈকতের ওই দুটি দেহ দুই জন পুরুষ অভিবাসীর৷ গ্রিক উপকূলরক্ষীবাহিনী ঘটনাটি নিশ্চিত করেছে৷

 তুরস্কের পশ্চিম উপকূল এবং লেসবোস দ্বীপের মধ্যে এজিয়ান সাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করার সময় সম্ভবত এই দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে৷জার্মান সংবাদ সংস্থা ডিপিএ গ্রিক নিউজ পোর্টাল ইন ডট জিআরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদন করেছে যে মৃত্যুর কারণ জানতে দেহগুলি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে৷

 এক সপ্তাহ আগে (২০ জুন) তুরস্ক থেকে গ্রিকে আসার চেষ্টা করেছেন এমন ১৬৪ জনেরও বেশি অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ৷ সেই দলের আটজন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ৷ কর্তৃপক্ষের অনুমান, সমুদ্রে ডুবে গিয়েছেন ওই অভিবাসীরা৷

 গত কয়েক সপ্তাহ, তুরস্ক থেকে গ্রিস এবং তুরস্ক থেকে গ্রিক আঞ্চলিক জলসীমা পেরিয়ে সরাসরি ইটালিতে যাওয়ার চেষ্টা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷ সেই সংখ্যাও তারা নিবন্ধিত করেছে৷


 জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম-এর মতে, চলতি বছরের ২০ জুন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ৯০০ জন অভিবাসী গ্রিসে এসেছেন৷ এদের মধ্যে অর্ধেকেই সমুদ্রপথে প্রবেশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে৷ গত বছর নয় হাজারের এর বেশি অভিবাসন প্রত্যাশীর নাম নিবন্ধিত হয়েছিল৷

 অবৈধ পুশব্যাক নিয়ে সমালোচনা

গ্রিস উপকূলরক্ষী পুশব্যাকের মাধ্যমে ‘ক্রসিং’ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ৷ জাতিসংঘের সংস্থাগুলি দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার সমালোচনা করছে৷ অন্যদিকে, এথেন্স কর্তৃপক্ষ অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে৷ তাদের দাবি, তুরস্ক কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রিসের দিকে অভিবাসী নৌকা পাঠিয়ে দিচ্ছে৷

 ২০১৬ সালের ইইউ-তুরস্ক চুক্তি অনুসারে, আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে অভিবাসী এবং শরণার্থীদের দেশ ছাড়তে বাধা দেওয়ার কথা তুরস্ক কর্তৃপক্ষের৷ চুক্তির শর্ত অনুসারে, শরণার্থী এবং অভিবাসীদের জন্য তৃতীয় নিরাপদ দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় তুরস্ককে৷

 স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা (ইএফই) ২৭ জুন জানিয়েছে যে গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনীর ইউনিট সপ্তাহান্তে কমপক্ষে এক হাজার ১৩০ জন অভিবাসীকে গ্রিক আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছে৷ ৭৪৫ জন অভিবাসী ১৬টি নৌকায় চেপে লেসবসে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তাদের বাধা দেয়া হয় বলে জানা গিয়েছে৷ 

 গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শনাক্তকরণের পরে, উল্লিখিত জাহাজগুলির একটিও গ্রিক আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি৷ তুরস্কের জাহাজে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷

 শুক্রবার, অভিবাসীদের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ পরিদর্শক, ফেলিপে গঞ্জালেজ মোরালেস গ্রিক কর্তৃপক্ষের ‘পুশব্যাক’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন৷

 তিনি একটি প্রতিবেদনে বলেছেন, ২০২০-২০২১ সময়কালে অন্তত ১৭ হাজার ব্যক্তিকে জোর করে তুরস্কে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ অভিযোগ উঠেছে, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে নভেম্বরে এক লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রিসে প্রবেশে বাধা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ৷

 

আরকেসি/কেএম (ডিপিএ, ইএফই)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন