এজিয়ান সাগরে অভিবাসন সমস্যা নিয়ে নিয়মিত একে অপরকে দোষারোপ করে তুরস্ক এবং গ্রিস। ছবি: এজিয়ান বোট রিপোর্ট
এজিয়ান সাগরে অভিবাসন সমস্যা নিয়ে নিয়মিত একে অপরকে দোষারোপ করে তুরস্ক এবং গ্রিস। ছবি: এজিয়ান বোট রিপোর্ট

গ্রিক কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, প্রতিবেশী তুরস্ক গত তিন দিনে এজিয়ান সাগরের গ্রিক দ্বীপপুঞ্জে প্রায় এক হাজার ১৩০ জন অভিবাসীকে পাঠানোর চেষ্টা করেছে। যদিও অনিয়মিত অভিবাসীদের বহন করা নৌকাকে সময়মতো দেখতে পেয়ে সে দেশে প্রবেশ আটকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এথেন্স।

গ্রিসের নৌ পরিবহণ ও দ্বীপ নীতি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ানিস প্লাকিওটাকিস সোমবার ২৭ জুন রেডিও স্টেশন রিয়েল এফএম-এ দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “তুরস্কের পাচারকারীরা গত তিন দিনে প্রায় এক হাজার ১৩০ জন শরণার্থীকে গ্রিসের দ্বীপে নামানোর চেষ্টা করেছ। গ্রিক উপকূলরক্ষীরা পাচারকারীদের ২৪টি পৃথক নৌকা শনাক্ত করে উপকূল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে।”

পাশপাশি গ্রিক উপকূলরক্ষী এক বিবৃতিতে বলেছে, “পাচারকারীদের নৌকাগুলো গ্রিক জলসীমায় প্রবেশ করার চেষ্টা করেছিল। বিশেষত তারা গ্রিক দ্বীপপুঞ্জ লেসবোস, চিওস, সামোস, কোস এবং রোডসের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।”

আরও পড়ুন>>লেসবোস সৈকতে দুই অভিবাসীর দেহ উদ্ধার

পকূলরক্ষী বাহিনী আরও জানায়, “অভিবাসী বহনকারী ২৪টি নৌকার মধ্যে ১৬টি তুরস্ক থেকে ইউরোপে অভিবাসী এবং শরণার্থীদের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত লেসবস দ্বীপের দক্ষিণে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এই নৌকাগুলির একটিও গ্রিক জলসীমায় প্রবেশ করতে পারেনি৷ তুরস্কের কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের উদ্ধার করেছে।”

এনজিও এবং ইউরোপীয় গণমাধ্যমগুলো বারবার এথেন্সের বিরুদ্ধে ‘‘বেআইনি পুশব্যাক’’ এর অভিযোগ এনেছে। জবাবে গ্রিক উপকূলরক্ষী আবারও বলেছে, “অভিবাসী চাপ মোকাবেলা করতে জাতীয় স্বার্থে কাজ চলছে।”

গ্রিক উপকূলরক্ষী বাহিনীর দাবি, তারা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সমুদ্রে মানব জীবনের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার হিসাবে বিবেচনা করে গ্রিস এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামুদ্রিক সীমানার কার্যকর সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায় তারা৷

পড়ুন>>গ্রিক উপকূলরক্ষীদের বিরুদ্ধে তিন অভিবাসীকে সমুদ্রে ফেলে দেয়ার অভিযোগ

চলতি বছরের মে মাসে, গ্রিক কর্তৃপক্ষ বলেছিল তারা একদিনে প্রায় ৬০০ অভিবাসীকে তুরস্ক থেকে এজিয়ান সাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে প্রবেশ আটকে দিয়েছে।দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র অনুসারে, ২০২২ সালের বছরের প্রথম চার মাসে তুরস্ক থেকে আসা অভিবাসীর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

ইয়ানিস প্লাকিওটাকিস সোমবার আবারও আঙ্কারাকে চোরাচালান নেটওয়ার্কের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, “তুরস্ক জলদস্যু রাষ্ট্রের মতো আচরণ করে চলেছে যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং সমস্যাগ্রস্ত মানুষের জীবনকে আরো বিপন্ন করে তুলছে।

ন্যাটো, এথেন্স ও আঙ্কারার প্রতিবেশী এবং মিত্রদেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহাসিক বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের সঙ্গে গ্রিস এবং ইইউ’র দেশগুলির অভিবাসন পরিস্থিতির আরো অবনমন হয়েছে৷

আরও পড়ুন>>জঙ্গলে সাপের ভয় থেকে ‘কারাবন্দি’ অভিবাসন-প্রত্যাশীরা

দুই বছর আগে, ২০২০ সালের মার্চ মাসে আঙ্কারা শরণার্থীদের জন্য দরজা খুলে দিয়েছিল। 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়্যেপ এর্দোয়ান সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন, তিনি আর গ্রিক নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন না৷

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করে গ্রিসের বিরুদ্ধে এজিয়ান সাগরের দ্বীপগুলিতে সেনা মোতায়েনের অভিযোগ করে আসছে তুরস্ক। যা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ জিইয়ে রেখেছে।

এমএএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন