শুক্রবার ২৪ জুন, মরক্কো থেকে সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে স্পেনের মেলিলা ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা করছে অভিবাসীরা। ছবি:এপি ফটো/জাবিয়ের বেরনার্ডো
শুক্রবার ২৪ জুন, মরক্কো থেকে সীমান্ত বেড়া অতিক্রম করে স্পেনের মেলিলা ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা করছে অভিবাসীরা। ছবি:এপি ফটো/জাবিয়ের বেরনার্ডো

মরোক্কো স্পেন সীমান্তে অবস্থিত স্প্যানিশ ছিটমহল মেলিয়ার কাছে অন্তত ২৩ জন অভিবাসী নিহত হওয়ার ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ভয়াবহ এই সংঘর্ষের কারণ জানতে দ্রুত তদন্ত শুরুর নিশ্চয়তা দিয়েছে স্পেন কর্তৃপক্ষ।

ইউরোপের কোনো দেশের সীমান্তে অভিবাসীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই নজিরবিহীন সংঘর্ষ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত। সীমান্তে সহিংসতার ঠিক চার দিন পর জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এ ঘটনাকে "অগ্রহণযোগ্য" হিসেবে দাবি করেছেন।

২৮ জুন মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরো বলেন, “আমরা দ্রুত বিশদে এই ঘটনার তদন্তের আহবান জানাচ্ছি। সীমান্তের উভয় দিক থেকে অত্যধিক শক্তির ব্যবহার দেখতে পেয়েছে জাতিসংঘ।” 

পড়ুন>>স্পেনে পাঁচ বছর পর নাগরিকত্ব পেল নৌকায় জন্ম নেওয়া শিশু

এর আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানিও সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সীমান্তে সহিংসতার ঘটনায় একটি একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

স্টিফেন ডুজারিক বলেন, “এই সপ্তাহান্তে উত্তর আফ্রিকার মরোক্কো এবং স্পেন সীমান্তে ঘটা সহিংসতায় মৃত্যুর ঘটনায় আমরা মর্মাহত । নিহতদের সবাই আশ্রয়প্রার্থী ও অভিবাসন প্রত্যাশী। অভিবাসন প্রত্যাশীদের মানবাধিকার আছে এবং তাদের অবশ্যই সম্মান করা উচিত। কিন্তু প্রায়ই অভিবাসীদের প্রতারিত হতে দেখি।”

শুক্রবার ২৪ জুন বিকেলের শেষে দিকে, অন্তত ২৩ জন অভিবাসী মরোক্কোর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে মারা যায়। সে সময় প্রায় দুই হাজার অভিবাসী এক যোগে মেলিলা সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল।

এদিকে কেনিয়ার অনুরোধে মেলিলা সহিংসতার ঘটনায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বুধবার ২৯ জুন একটি জরুরি বৈঠকে বসে।

কেনিয়ার কূটনীতিক মার্টিন কিমানি বলেন, মরোক্কোর ভূখণ্ড থেকে স্প্যানিশ ছিটমহল মেলিলায় আফ্রিকান অভিবাসীরা মারাত্মক সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, “অভিবাসীরা সবাই অভিবাসী। তারা আফ্রিকা বা ইউরোপ যেখান থেকেই আসুক না কেন, তাদের উপর এমন নিষ্ঠুর আচরণ কাম্য নয়।”

আরও পড়ুন>>স্পেন: বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে তিন অভিবাসীর মৃত্যু

জাতিসংঘের অনুরোধ শুনেছে স্পেন। সীমান্তে সহিংসতার প্রকৃত কারণ বের করতে একটি তদন্ত শুরু করার ঘোষণা করেছেন পাবলিক প্রসিকিউটর।

এছাড়া স্প্যানিশ পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয় আরো জানায়, “যে ঘটনা ঘটেছে তার ভয়াবতা মানবাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকারকে প্রভাবিত করতে পারে।”

এর আগে স্পেনের বামপন্থী প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই ঘটনাকে মানবপাচারে জড়িত মাফিয়াদের একটি ধ্বংসাত্মক এবং সংগঠিত আক্রমণ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। 

রাজধানী মাদ্রিদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, “এটি আমাদের দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতার উপর আক্রমণ।”

পড়ুন>>ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের আদ্যোপান্ত

মরোক্কান অ্যাসোসিয়েশন ফর হিউম্যান রাইটসের (এএমডিএইচ) এর নাদোর অঞ্চল এবং মেলিলা জোনের আশ্রয়প্রার্থীদের দায়িত্বে থাকা পরিচালক ওমর নাজি জানিয়েছিলেন, “আমরা এই ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে বিস্তারিত তদন্ত শুরুর উপর জোর দিচ্ছি। এই প্রথমবার আমরা অভিবাসীদের সঙ্গে পুলিশের এমন সংঘর্ষ লক্ষ্য করলাম৷”


এমএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন