(ফাইল ফটো) সেনেগাল উপকূলে বিধ্বস্ত একটি অভিবাসী নৌকা। ছবি: রয়টার্স
(ফাইল ফটো) সেনেগাল উপকূলে বিধ্বস্ত একটি অভিবাসী নৌকা। ছবি: রয়টার্স

সেনেগালের দক্ষিণ উপকূলের কাছে নৌকায় আগুন লেগে কমপক্ষে ১৪ অভিবাসী মারা গিয়েছেন। অনেকের খোঁজ মিলছে না। মূলত ইউরোপ অভিমুখে যাত্রা করা নৌকায় আগুন লেগে এই ঘটনা ঘটেছে। নৌকায় থাকা এক ব্যক্তির সিগারেট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।

সোমবার ২৭ জুন দক্ষিণ সেনেগালের একটি উপকূলে অভিবাসী নৌকায় আগুন লেগে কমপক্ষে ১৪ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

দেশটির কাফাউন্টাইন শহরের মেয়র ডেভিড দিয়াট্টা জানান, “আমরা ১৪ টি মৃতদেহ বের করতে সক্ষম হয়েছি।” 

নিখোঁজদের খুঁজে বের করার জন্য বুধবার অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কাফাউন্টাইনের মেয়র। 

পড়ুন>>মানবপাচার ঠেকাতে সেনেগাল উপকূলে সেনা মোতায়েন করতে চায় ‘ফ্রন্টেক্স’

কাফাউন্টাইন শহরটি তিন দশক ধরে সশস্ত্র সংঘর্ষে জর্জরিত অঞ্চল। নৌকাটিতে আনুমানিক ১৪০ জন অভিবাসী উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র বেঁচে থাকা ৯০ জন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। 

শহরের সরকারি হাসপাতালের প্রধান নার্স বোরামা ফাবোরে জানিয়েছেন, ২১ জন আহত হয়েছেন। যার মধ্যে চারজ্নের শরীরের এক তৃতীয়াংশ পুড়ে গেছে। আহতদের মধ্যে আফ্রিকার গিনি, নাইজেরিয়া, গাম্বিয়া এবং সেনেগালের নাগরিকরা রয়েছেন।”

আরও পড়ুন>>শ্রমিক ঘাটতি মেটাতে আরো ভিসা দেবে স্পেন

বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মতে, “নৌকায় রাখা জ্বালানির কাছে ধূমপানকারী এক ব্যক্তির সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত।”

পাশপাশি স্থানীয় পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় মেয়র ডেভিড দিয়াট্টা জোর দিয়ে বলেন, “ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ এবং নৌবাহিনী আগুনের সময় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে ছিল। গুরুতর আহতদের নিকটতম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি উপকূলীয় শহর থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে জিগুইঞ্চোরে অবস্থিত।”

তিনি জানান, “এখানে হাসপাতলে কোন ডাক্তার নেই, শুধু নার্স আছে। হাসপাতালে কোনো মর্গও নেই তাই আমাদের মৃতদেহগুলোকে দ্রুত দাফন করতে হবে। নিহতদের পরিবার আদৌ জানবে না যে তারা মারা গেছে কি না। এটি আমাদের শহরেই ঘটল। আমরা সত্যিই আতঙ্কিত।”

পড়ুন>>মাল্টায় অভিবাসীর সংখ্যা কমছে?

সেনেগালের উপকূল অভিবাসী ভর্তি নৌকা প্রায়ই ইউরোপের দিকে যাত্রা করে। সেনেগাল থেকে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত ইউরোপের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত স্প্যানিশ দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারিতে অভিবাসীরা মূলত যেতে চান। 



এমএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন