(ফাইল ছবি) সার্বিয়া হাঙ্গেরি সীমান্তে পুলিশের একটি টহল গাড়ি। ছবি: ইপিএ
(ফাইল ছবি) সার্বিয়া হাঙ্গেরি সীমান্তে পুলিশের একটি টহল গাড়ি। ছবি: ইপিএ

উত্তর সার্বিয়ার সুবোটিকা শহরে অভিবাসীদের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনার দুই সপ্তাহ পরে বড় ধরনের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়েছে। মানব পাচারকারীদের দমনে এই অভিযান চালানো হচ্ছে৷ ইতিমধ্যে ৮৫ জন ব্যক্তিকে আটক ও বিপুল সংখ্যক অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাঙ্গেরির সীমান্তের কাছে মানবপাচার চক্র এবং অভিবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের দুই সপ্তাহ পর ৮৫ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

২ জুলাই শনিবারের সংঘর্ষে এক অভিবাসী নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষে আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আগত অভিবাসী পাচারকারীরা জড়িত বলে সার্বিয়ার গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল৷

পুলিশ বিবৃতিতে বলেছে, উত্তর সার্বিয়া জুড়ে চলা গ্রেপ্তার অভিযানে উত্তরাঞ্চলীয় শহর সুবোটিকা থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র অস্ত্র, ছুরি এবং গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে।

আরও পড়ুন>>সিলেট থেকে সার্বিয়া: দালালচক্রের খপ্পরে সর্বস্ব হারানোর গল্প

এই অভিযানকে অপরাধমূলক কাজ এবং অভিবাসীদের মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধ দমনে বড় পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে সার্বিয়া কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে তোলা পুলিশের ছবিতে দেখা গিয়েছে, বর্ম এবং হেলমেট পরা পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনে একদল অভিবাসী মাথায় হাত রেখে মাঠে হাঁটু গেঁড়ে বসে আছে।


স্থানীয় পুলিশের বিবৃতি অনুসারে, দুই অভিবাসীকে অপরাধে মূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত আনা হয়েছে। এছাড়া অন্য ছয়জনকে হাজতে পাঠানো হয়েছে৷ বাকিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ছোট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ভুলিন বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী সেলের সহায়তায় উত্তর সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। সেখানে মানবপাচারচক্র বিশেষভাবে সক্রিয় বলে তথ্য রয়েছে।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “মানবপাচার চক্রকে ধরার পর সদস্যদের আইন অনুযায়ী শাস্তি দিলে কোনো অপরাধী চক্রের অস্তিত্ব থাকবে না। সার্বিয়াতে কেউ অস্ত্র বহন করতে পারে না এবং কেউ মানবপাচারে জড়িত হতে পারবে না। মানবিক দুঃখ ও কষ্টকে পুঁজি করে বেড়ে উঠা অপরাধীদের জন্য মানুষের জীবনযাত্রা কোনোভাবেই বিপন্ন হতে দেবে না সার্বিয়া।

পড়ুন>> বলকানে নতুন পথের সন্ধানে অভিবাসীরা

বলকান দেশ সার্বিয়া অতিক্রম করে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার আশায় হাজারো অভিবাসী হাঙ্গেরির সীমান্তের কাছে জড়ো হন।

অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মোতায়েন করা কাঁটাতারের কারণে সার্বিয়ার উত্তর সীমান্তে পাড়ি দিতে গড়ে কয়েক মাস সময় লাগে অভিবাসীদের। 

অভিবাসীরা এ কারণে প্রায়ই ইইউ-এর সমৃদ্ধ দেশগুলোর দিকে তাদের যাত্রা চালিয়ে যেতে মানবপাচারকারীদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এছাড়া সীমান্তে নিয়মিত পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে। 

পড়ুন>>রোমানিয়া সীমান্তেও অভিবাসীদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ

মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে চলা যুদ্ধ, সহিংসতা বা দারিদ্র থেকে পালিয়ে আসা অভিবাসীরা উন্নত জীবনের আশায় যাত্রাপথে নিয়মিত বিপদের সম্মুখীন হয়। সার্বিয়া থেকে অভিবাসীরা ক্রোয়েশিয়া, বসনিয়া অথবা রোমানিয়া অতিক্রম করে।


এমএইউ/আরকেসি 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন