ফ্রান্সে আসা আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
ফ্রান্সে আসা আশ্রয়প্রার্থী এবং শরণার্থীদের মধ্যে অনেকেই উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

ফ্রান্সের তরুণ অভিবাসী শিক্ষার্থীরা তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় থাকেন। অনেকের ধারণা, উচ্চশিক্ষার জন্য তাদের বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। আবার মাসিক বিভিন্ন বৃত্তি নিয়ে শরণার্থী কিংবা অনিয়মিত অভিবাসী তরুণদের রয়েছে নানা প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা। ফ্রান্সে শরণার্থী শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে ইনফোমাইগ্রেন্টসের বিশেষ প্রতিবেদন।

সম্প্রতি ফ্রান্সে স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির জন্য নির্ধারিত একক প্লাটফর্ম ‘পারকুরসুপ’ (Parcoursup) এর ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর আলোচনায় এসেছেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (ডিআরসি) থেকে আসা শরণার্থী শিক্ষার্থী জোনাথন। 

২৫ টি ফরাসি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়ে রীতিমত সাড়া ফেলেছেন এই তরুণ অভিবাসী শিক্ষার্থী। ফ্রান্সের ব্রোতাইন অঞ্চলের একটি লিসে (ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পড়ালেখা ‘লিসে’ তে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে) থেকে ২০২২ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (ফরাসি শিক্ষা ব্যবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিককে বাকোলরেয়া বা বাক পরীক্ষা বলা হয় ) পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে মেধার পরিচয় দেন জোনাথন। 

তবে ২০১৯ সালে ফ্রান্সে আসা জোনাথনের তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পেলেও এখনও ফ্রান্সে বসবাসের অনুমতি পাননি এই মেধাবী শিক্ষার্থী। বৈধ বসবাসের অনুমতি ছাড়া লিওঁ শহরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস ইনসা) তে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অর্থায়নের সহায়তা পাওয়া বেশ কঠিন। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ক্লাস শুরুর আগেই স্থানীয় ‘প্রেফেকচুর’ থেকে বৈধতা পাওয়ার অপেক্ষায় জোনাথন। 

প্রতি বছর জোনাথনের মতো একইরকম উদ্বেগে থাকেন হাজারো শরণার্থী, অভিবাসী , অনিয়মিত অভিবাসী কিংবা নাবালক অবস্থায় আসা অনিয়মিত শিক্ষার্থীরা। ফ্রান্সে সরকারি অর্থায়নে পড়াশোনা এবং মাসিক ভাতা থেকে সুবিধাভোগী হওয়ার শর্তগুলো কী। সেগুলো তুলে ধরা হলো: 

সামাজিক মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে দেয়া বৃত্তি (CROUS)

পরিচিতি: এটি ফ্রান্স সরকারের প্রধান শিক্ষাবৃত্তি বা ক্রুস বৃত্তি হিসেবে পরিচিত। যা প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১০ মাসের জন্য প্রতি মাসে মাসিক ভাতা হিসেবে প্রদান করা হয়। এটির জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়। কেউ যদি তিন বছরের স্নাতক কোর্সের প্রথম বর্ষে ভর্তি হন সেক্ষেত্রে প্রথম বছরের মতো পরবর্তী দুই বছরও একইভাবে আবেদন করতে হবে। 

মাস্টার্স ও অন্যান্য প্রোগ্রামেও ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। 

যারা এই বৃত্তি পাবেন:

  • এটি সাধারণ ফরাসি নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও ফ্রান্সে শরণার্থী মর্যাদা বা রিফিউজি স্ট্যাটাস, সাবসিডিয়ারি প্রোটেকশন বা সাময়িক সুরক্ষা, বৈধ বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত অভিবাসী এবং ইউক্রেনীয় শরণার্থীরাও এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
  • বাবা বা মায়ের শরণার্থী মর্যাদা প্রাপ্তির পরে পারিবারিক পুনর্মিলন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফ্রান্সে আসা শরণার্থীদের শিশুরা এই বৃত্তির জন্য জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত নয়।
  • আবেদনকারীকে অবশ্যই সম্ভাব্য শিক্ষাবর্ষে কোনো ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয় অথবা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্নাতক, মাস্টার্স অথবা পূর্ণকালীন ফরাসি ভাষা কোর্সে ভর্তির প্রমাণ দিতে হবে। 
  • আগ্রহী ব্যক্তিকে অবশ্যই ফ্রান্সে কমপক্ষে দুই বছর বসবাস করতে হবে৷ ২৮ বছরের কম বয়সি হতে হবে। 

আবেদন জন্য প্রতি বছর সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ১৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ মে এর মধ্যে ফরাসি সরকারের এই ওয়েবসাইটে www.messervices.etudiant.gouv.fr গিয়ে আবেদন করতে হবে। 

যেসব সুবিধা দেয়া হয়: 

  • এই বৃত্তির সুবিধাভোগীরা প্রতি মাসে ১৭২ ইউরো বা ১৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫৭৩ ইউরো বা ৫৭ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। একজন শিক্ষার্থী এই বৃত্তি থেকে মাসিক কত টাকা পাবেন সেটি নির্ভর করবে বাবা মায়ের বার্ষিক আয়ের উপর।
  • বৃত্তির জন্য মনোনীতরা সরকার নির্ধারিত ছাত্রাবাসগুলোতে অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে বাসস্থান পেতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচিত হয়। 
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন ফি থেকে অব্যাহতি। 
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন বা রেস্তোরাঁয় প্রতিবেলায় মাত্র ১ ইউরো বা ১০০ টাকার বিনিময়ে দুপুর এবং রাতে খাবার খাওয়ার সুবিধা। 

বৃত্তি জারি রাখার শর্তসমূহ:  

একজন শিক্ষার্থী এই বৃত্তির জন্য মনোনীত হলেই যে আর কোনো নতুন যাচাই বাছাই ছাড়াই টানা ১০ মাস বৃত্তির অর্থ পেতে থাকবেন তা নয়। বিনিময়ে একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই ক্লাসে নিয়মিত হতে হবে। পাশাশি স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহারিক বা নির্দেশিত কাজ, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ এবং সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। 

প্রতি সেমিস্টারশেষে বৃত্তির আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক উপস্থিতি এবং ফলাফলের তথ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্রুসকে প্রেরণ করে থাকে।

এই বৃত্তির সুবিধাভোগীরা আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য পড়াশোনার সমান্তরালে বা ছুটির সময় চাকরি কর‍তে পারবেন। তবে একজন পূর্ণকালীন ছাত্র ফরাসি সরকারের কাজ বিষয়ক দপ্তর ‘পোল অমপ্লোয়া’তে নিবন্ধিত হতে পারবেন না। কারণ এটি সাধারণত বেকার, পড়াশোনার বাইরে থাকা এবং পুরোদমে চাকরি খুঁজছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য। 

তিন বছরের লিসন্স বা স্নাতক প্রোগ্রাম কেউ যদি যথাসময়ে শেষ করতে না পারেন সেক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ক্রুসের বৃত্তির সুবিধা নিতে পারবেন। 

বিশেষ দ্রষ্টব্য: একজন শিক্ষার্থী যদি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা বা বাকোলরেয়া তে সর্বোচ্চ ফলাফল ‘মনসিওঁ থ্রে বিয়া’ (Mention Très Bien) অর্জন করেন সেক্ষেত্রে ক্রুসের বৃত্তিতে সেই শিক্ষার্থীকে নয়টি মাসিক কিস্তিতে অতিরিক্ত ১০০ ইউরো বা ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। তবে এই মেধা বৃত্তি প্রদানের একমাত্র এখতিয়ার নির্দিষ্ট অ্যাকাডেমি বা অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা প্রধান রেক্টরের। 

বিশেষ বার্ষিক ভাতা বা Allocation annuelle

এই বৃত্তিটি অতিরিক্ত বার্ষিক ভাতা হিসেবে ইতিমধ্যে ক্রুস বৃত্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়াদের জন্য প্রযোজ্য। তবে এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীকে ৩৫ বছর বয়সের নিচে হতে হবে। তবে রাষ্ট্রীয় স্বায়ত্তশাসন কমিশন কর্তৃক স্বীকৃত প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন কোন নির্দিষ্ট বয়স সীমা নেই।

নিজের পিতা মাতা ছাড়া চাচা-চাচী, দাদা-দাদি কিংবা পরিবারের অন্য কারো কাছে বড় হওয়া তরুণেরা, ফরাসি সরকার স্বীকৃত প্রতিবন্ধী তালিকায় নাম থাকা শিক্ষার্থীরা এবং পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নদের এই ভাতায় অগ্রাধিকার দেয়া হয়। 

নিজ পরিবার থেকে বিছিন্নতার প্রমাণ হিসেবে ফরাসি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ছাড়পত্র লাগবে। বার্ষিক এই উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণ সাধারণ সামজিক বৃত্তির চেয়ে বেশি হয়। 

এই বিশেষ বার্ষিক ভাতা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে স্টুডেন্ট সোশ্যাল ফাইল (ডিএসই) এর মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। যেখানে একজন শিক্ষার্থীকে তার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে হয়। এক্ষেত্রে একটি কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে আবেদনকারী এই ভাতা পাওয়া যোগ্য কিনা। 

বিশেষ সাহায্য বা Aide ponctuelle

এটি এককালীন জরুরি সহায়তা হিসেবে পরিচিত। যেসব শিক্ষার্থী CROUS বৃত্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন অথবা যারা প্রশাসনিক কিংবা বয়স জটিলতার জন্য পাননি উভয়ই এই বিশেষ এককালীন সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন । ফ্রান্সে বসবাসরত সমস্ত বিদেশি ছাত্র, শরণার্থী, আশ্রয়প্রার্থী এবং অনিয়মিত অভিবাসীরাও এটির জন্য আবেদন করতে পারেন। 

সরকারের অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুদান থেকে উপকৃত হতে একজন শিক্ষার্থীকে অবশ্যই স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত ক্রুস বা Crous এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।  অনলাইনে এই প্রক্রিয়ার জন্য আবেদন করা যায় না। 

ফ্রান্সে শরণার্থী ও অভিবাসী ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে গঠিত সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা রুদি ওসমান ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, “এই বিশেষ ভাতাটির প্রদান পদ্ধতি সকল শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ যখন একজন শিক্ষার্থীর অর্থের বড় সমস্যা থাকে, তখন এটি সম্পর্কে খোলাখুলিভাবে এমন কারো সঙ্গে কথা বলা কঠিন যে যিনি তাকে আগে থেকে চেনেন না। এক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থীর সমস্যা প্রমাণ করাটা খুব শক্ত।”

তিনি আরো বলেন, “একজন অনথিভুক্ত অভিবাসী ছাত্রের দৈনন্দিন জীবন অত্যন্ত ক্লান্তিকর। অন্য সবার মতো তার মাসিক ভাতা থাকে না। কখনও কখনও মানসিক শক্তি এবং অনুপ্রেরণার অভাবে সে শিক্ষাপ্রতিষ্টানে বিশেষ ভাতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে পারেন না।”

এই ভাতার ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনেক সময়ে একজন ব্যক্তির খরচের প্রত্যয়িত নথি চাইতে পারে।  

রুদি ওসমান ব্যাখ্যা করেন,

এই প্রক্রিয়াটি অভিবাসী এবং অনিয়মিত অভিবাসীদের বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেক অনথিভুক্ত ছাত্র, যারা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের ভাড়া পরিশোধ করে থাকেন তাদের কাছে কোন রসিদ থাকে না। পাশপাশি তারা নিজেদের খাওয়ার জন্য বিভিন্ন এনজিও এবং সংস্থার অনুদান থেকে খাবার সংগ্রহ করেন। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত কমিশনের কাছে কীভাবে প্রমাণ করা সম্ভব যে তার আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন?

ফাইলটি পর্যালোচনা করার পর, কমিশন অনুদান বা সাহায্য প্রদানে প্রত্যাখ্যানের নোটিশ জারি করে এবং ক্রুসের পরিচালকের কাছে একটি পরিমাণ প্রস্তাব করে, যিনি চূড়ান্ত পরিমাণে সাহায্যের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন।

সব প্রক্রিয়া মেনে যেসব ভুক্তভোগী কিংবা অনিয়মিত অভিবাসী শিক্ষার্থী এই ভাতা পাওয়ার জন্য মনোনীত হন তাদেরকে এক বা একাধিক কিস্তিতে এই ভাতা দেয়া হয়। তবে সবাইকে একই পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয় না। ব্যক্তি বিশেষের অবস্থার উপর এটি নির্ভর করে। 

ফ্রান্স ফাউন্ডেশনের বৃত্তি  

এই বৃত্তিটি প্রতি বছর ফ্রান্স ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রদান করা হয়। একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সি ২০ জনকে এই বৃত্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়। 

প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর থেকে ২ ফেব্রুয়ারি এই বৃত্তির জন্য আবেদনের সুযোগ থাকে। 

ফ্রান্সে বসবাসরত সকল বিদেশি ছাত্ররা ফ্রান্স ফাউন্ডেশনের বৃত্তির জন্য আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তবে তাদেরকে অবশ্যই ফরাসি ভাষার ভালো জ্ঞান প্রদর্শন করতে হবে।

সর্বোপরি, এই সাহায্য তাদের করা হয়, যারা পড়াশোনা শেষে কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পে কাজ করতে চান এবং নিজস্ব প্রকল্পের ভিত্তি গড়তে চান। 

আগ্রহীদের অবশ্যই একটি সম্পূর্ণ আবেদন নথি পাঠাতে হবে। উল্লেখ্য, আবেদনকারীকে তার অধ্যয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে হবে এবং দুটি স্বাক্ষরিত সুপারিশের চিঠি যোগ করতে হবে।

নির্দিষ্ট তারিখের পর প্রতি বছর বৃত্তির সিদ্ধান্ত ২০ জন বিজয়ীকে, ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয়৷

অন্ত্রেদ ইউনিভার্সিতের ফ্রসেঁজ বৃত্তি

এটি নতুন আসা আশ্রয়প্রার্থী ও শরণার্থীদের জন্য নির্ধারিত যারা কোনো ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন ফরাসি ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক। 

এই বৃত্তিটি কয়েক ধাপে প্রদান করা হয়। কোন শিক্ষার্থী যদি ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য সেই বিশ্ববিদ্যালের টিউশন ফি’র টাকা এই বৃত্তি থেকে পেতে চান সেক্ষেত্রে প্রতি বছর ৮ জুলাই এর মধ্যে সকল নথিসহ Entraide universitaire française বরাবর কুরিয়ার করতে হবে। 

এছাড়া কোনো শরণার্থী অথবা আশ্রয়প্রার্থীর যদি কোর্সে পড়ার জন্য মাসিক বৃত্তি, ঘরভাড়া বাবদ সহায়তা এবং শিক্ষাসামগ্রী কিনতে সহায়তার প্রয়োজন হয় সেক্ষেত্রে সকল নথিসহ ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডাকযোগে আবেদন করতে হবে। 

যারা বৃহত্তর প্যারিসের ইল দ্য ফ্রন্সঁ বিভাগে থাকেন তারা এই ঠিকানায় 40 rue Rouelle, 75015 Paris সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন ফর্ম তুলতে পারবেন। 

কোনো অ্যাপোয়েন্টমেন্ট ছাড়া প্রতি মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫:৩০ পর্যন্ত উপরোক্ত ঠিকানায় গিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা এবং আবেদন ফর্ম পূরণে সহায়তা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। 

এছাড়া সংস্থার এই ওয়েবসাইটে https://entraide-universitaire.fr/index.php/1er-demande/ গিয়ে বৃত্তিটি সম্পর্কে অন্যান্য শর্ত জানা যাবে। 

এমএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন