তুর্কি উপকূলরক্ষীরা  এজিয়ান সাগর থেকে আফগান অভিবাসীদের উদ্ধার করতে চলেছে৷ এজিয়ান বোট রিপোর্ট ব্লগ থেকে নেওয়া একটি স্ক্রিনশট | সূত্র: এজিয়ান বোট রিপোর্ট ব্লগ
তুর্কি উপকূলরক্ষীরা এজিয়ান সাগর থেকে আফগান অভিবাসীদের উদ্ধার করতে চলেছে৷ এজিয়ান বোট রিপোর্ট ব্লগ থেকে নেওয়া একটি স্ক্রিনশট | সূত্র: এজিয়ান বোট রিপোর্ট ব্লগ

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার ঘোষণা করেছে যে তারা গ্রিসের পুশব্যাকের ফুটেজের ভিডিও করেছে৷ তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে৷

১৭ জুলাই, তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতি প্রকাশ করেছে৷ বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, তুরস্কের উপকূল এবং গ্রিক এজিয়ান দ্বীপ সামোসের মধ্যবর্তী ডিলেক প্রণালিতে গ্রিসের তরফে পুশব্যাক এবং আঞ্চলিক জলসীমা লঙ্ঘন করার ভিডিও করা হয়েছে৷

তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে মিডল ইস্ট মনিটর এ খবর জানিয়েছে৷ সংবাদ সূত্রগুলি বলেছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে ফুটেজ রয়েছে যে দুটি জীবনদায়ী নৌকায় ভেসে আসা অভিবাসীদের তুরস্কের জলসীমার দিকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে৷

তুরস্কের উপকূল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের উপরে ড্রোনটি উড়ছিল বলে জানা গিয়েছে৷ সেই ভিডিও দেখে বলা হয়েছে, গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনীর নৌকা ‘পুশব্যাক’ করেছে৷ তুরস্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, রক্ষীবাহিনীর নৌকার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল এলএস-৯৩০৷

তুরস্ককে সতর্ক করে গ্রিস

মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, এই ঘটনা তুরস্কের উপকূলরক্ষীকে জানানো হয়েছিল৷ বাহিনী অভিবাসীদের উদ্ধার করতে একটি নৌকা পাঠিয়েছিল৷এর আগেও একাধিকবার তুরস্ক কর্তৃপক্ষ এবং ওই এলাকার একাধিক এনজিও গ্রিসের বিরুদ্ধে পুশব্যাকের অভিযোগ এনেছিল৷ গ্রিস যদিও অস্বীকার করে বলেছে ইউরোপীয় আইন এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলে তারা৷

১৫ জুলাই, অনুসন্ধানী ওয়েবসাইট ফরেনসিক আর্কিটেকচার একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে৷ অভিবাসীরা দুই বছর ধরে যে অভিযোগ এনেছেন গ্রিস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে, তার বিবরণ রয়েছে ওই ওয়েবসাইটে৷ ২০২০ থেকে ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে, ফরেনসিক আর্কিটেকচার এই ধরনের হাজারেরও বেশি ঘটনার বিবরণ দিয়েছে৷

তুরস্কের এই সর্বশেষ অভিযোগের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি গ্রিস৷ ১৫ জুলাই, গ্রিসের অভিবাসন মন্ত্রী, নোটিস মিতারাকিস টুইট করেন, তুরস্ককে কিছুতেই ‘অভিবাসনকৌশলী’ হতে দেবেন না তারা৷ চ্যানেল মেগা টিভিকে দেওয়া একটি সাক্ষাত্কারে তুরস্কের সঙ্গে চাপানউতোরের কথা উল্লেখ করেছেন মিতারাকিস৷

২০১৪ সাল থেকে এজিয়ান সাগর-সহ সব সীমান্তে অভিবাসনে নজর রাখতে ড্রোন ব্যবহার করছে গ্রিস৷

তুরস্কের উপকূলরক্ষী জাহাজ এজিয়ান সাগরে অভিবাসীদের উদ্ধার করছে৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স
তুরস্কের উপকূলরক্ষী জাহাজ এজিয়ান সাগরে অভিবাসীদের উদ্ধার করছে৷ ছবি: পিকচার অ্যালায়েন্স

গ্রিসের বিরুদ্ধে রায় ইউরোপীয় আদালতের

দুই সপ্তাহ আগে ( ৭ জুলাই), ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত, ইসিএইচআর, অভিবাসী নৌকা ডুবির ঘটনায় গ্রিস ইউরোপীয় কনভেনশন (মানবাধিকার) লঙ্ঘন করেছে বলে রায় দেয়৷

আদালতের পর্যবেক্ষণ ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারির ঘটনায়, ২৭ জন বিদেশি নাগরিককে ফার্মাকনিসি দ্বীপের কাছে একটি মাছ ধরার নৌকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল৷ এই ঘটনায় ১১ জন অভিবাসী প্রাণ হারান৷

অভিবাসীরা গ্রিস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘পুশব্যাক’ করার অভিযোগ এনেছে৷ গ্রিসের দাবি, তারা অভিবাসীদের উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিল৷গ্রিক উপকূল রক্ষীবাহিনীর জাহাজ মাছ ধরার নৌকায় ভেসে আসা অভিবাসীদের টেনে নিয়ে যাচ্ছিল, এটা নিয়ে যদিও বিতর্ক হয়নি৷

জীবনের অধিকারসহ তিনটি আইন লঙ্ঘন পর্যবেক্ষণ করেছে আদালত৷১৬ জন আবেদনকারী রয়েছেন এই মামলায়৷আবেদনকারীরা আদালতে বলেছেন উপকূলরক্ষী জাহাজ তাদের নৌকাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল৷শরণার্থীদের তুরস্কের জলসীমার দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য খুব দ্রুত গতিতে যাচ্ছিল,ফলে মাছ ধরার নৌকাটি ডুবে গিয়েছিল৷

গ্রিস কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে , শরণার্থীদের উদ্ধার করার জন্য ফার্মাকোনিসি দ্বীপের দিকে নৌকাটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল৷ নৌকায় থাকা অভিবাসীদের আতঙ্ক এবং অতিরিক্ত নড়াচড়ার ফলে সেটি ডুবে যায়৷

তুরস্কের কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অভিবাসীদের নিয়ে যাচ্ছেন৷ অভিযোগ, অভিবাসী নৌকাটি পুশব্যাক করেছিল গ্রিস কর্তৃপক্ষ ৷ তুরস্কের বালিকেসিরের আইভালিক জেলার উপকূলে অভিবাসীদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য টহল চলছিল। ছবি: আর্কাইভ/ইপিএ/এরডেম সাহিন
তুরস্কের কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অভিবাসীদের নিয়ে যাচ্ছেন৷ অভিযোগ, অভিবাসী নৌকাটি পুশব্যাক করেছিল গ্রিস কর্তৃপক্ষ ৷ তুরস্কের বালিকেসিরের আইভালিক জেলার উপকূলে অভিবাসীদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য টহল চলছিল। ছবি: আর্কাইভ/ইপিএ/এরডেম সাহিন

 ‘বিপদের মুখে জীবন’

আদালত দেখেছে যে উপকূলরক্ষী বাহিনীর আচরণে মাছ ধরার নৌকা করে আসা অভিবাসীদের জীবন বিপন্ন হয়েছিল৷আবেদনকারীরা পরবর্তীতে অভিযোগ করেছেন যে ফার্মাকনিসি দ্বীপে আনার সময় তাদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করা হয়েছিল৷আদালত জানিয়েছে, গ্রিস কর্তৃপক্ষ এ নিয়ে নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি, দেরিও করেছে উত্তর দিতে৷ কীভাবে উদ্ধার অভিযান চলেছিল, সে বিষয়ে বিশদ জানায়নি আদালত৷

‘অপমানজনক আচরণ’

আদালত বলেছে, আইন অনুযায়ী যা করার কথা তা করেনি গ্রিস কর্তৃপক্ষ৷ সুরক্ষাও দেয়া হয়নি৷আদালত দেখেছে যে পোশাক খুলে তল্লাশি করার ফলে রীতিমতো অপমানিত হয়েছেন অভিবাসীরা৷ রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন৷ মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়েছিল৷

আদালত গ্রিসকে মোট তিন লাখ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা করেছে৷ একাধিক অভিবাসী এই মামলার আবেদনকারী৷এক আবেদনকারীকে এক লাখ ইউরো, তিনজন আবেদনকারীকে যৌথভাবে ৮০ হাজার ইউরো এবং অন্য আবেদনকারীদের ৪০ হাজার ইউরো দেয়া হবে৷ বাকি ১১ জন আবেদনকারীকে ১০ হাজার ইউরো দেয়া হবে৷


আরকেসি/কেএম

 

অন্যান্য প্রতিবেদন