(ফাইল ছবি ) স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অবতরণ করা দুই অনিয়মিত অভিবাসী তরুণ। ছবি: রয়টার্স
(ফাইল ছবি ) স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে অবতরণ করা দুই অনিয়মিত অভিবাসী তরুণ। ছবি: রয়টার্স

অনিয়মিত পরিস্থিতিতে স্পেনে আসা অভিবাসীদের বৈধতা পেতে গড়ে সাড়ে সাত বছর সময় লাগে বলে জানিয়েছে দেশটির অভিবাসন মন্ত্রণালয়। বৈধতা পেতে অভিবাসীদের ন্যূনতম তিন বছরের উপস্থিতি এবং এক বছর ধরে প্রতি সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা চুক্তিতে একটি বৈধ কাজের প্রমাণ দিতে হয়।

অনিয়মিত উপায়ে স্পেনে আসা এবং সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হাজার হাজার অভিবাসীকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় বৈধ বসবাসের অনুমতি বা রেসিডেন্স পারমিট পেতে। 

চলতি মাসের শুরুতে স্পেনের অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী খোসে লুই এসক্রিবা এক বক্তব্যে জানান, “অনিয়মিত পরিস্থিতিতে স্পেনে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের বৈধতা পেতে গড়ে সাড়ে সাত বছর সময় লাগে।”

পড়ুন>> মেলিলায় সেই অভিবাসীরা ‘শ্বাসরোধ’ হওয়ায় মারা গেছেন: মরক্কো

বিশেষজ্ঞদের মত, স্পেনের কঠোর আইনের ফলে অভিবাসীদের এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক আশ্রয় বা সুরক্ষা পেতে ব্যর্থ হওয়া অভিবাসীদের ‘Arraigo social’ নামে বিশেষ নিয়মের মাধ্যমে বৈধতা পেতে টানা কয়েক বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য করা হয়।

তিন বছরের অস্থায়ী বাসস্থান এবং কাজের অনুমতির দৌলতে বৈধতা পাওয়ার নিয়মটি বিদেশিদের জন্য নির্ধারণ করে হলেও বাস্তবে এগুলো অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।

আইন অনুযায়ী, বৈধতা পেতে ইচ্ছুক অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রথমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা কমপক্ষে তিন বছর স্পেনে রয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে জারি করা একটি আবাসনের কাগজ বা শংসাপত্রের মাধ্যমে এটি প্রমাণ করতে হয়। 

আরও পড়ুন>>স্পেনে পাঁচ বছর পর নাগরিকত্ব পেল নৌকায় জন্ম নেওয়া শিশু

পাশাপাশি, প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ৪০ ঘণ্টা কাজের এক বছরের বৈধ কর্মসংস্থান চুক্তির প্রমাণ দিতে হয়। মূল সমস্যা হলো, অনিয়মিত অভিবাসীদের পক্ষে সব সময় আবাসনের কাগজ এবং ঘোষিত কর্মসংস্থান খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। কেউ যদি বৈধ কাজের চুক্তিও পান, সেক্ষেত্রে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজের চুক্তি স্পেনের শ্রমবাজারে বিরল।

নিয়োগকর্তা এবং বিদেশি কর্মচারীর মধ্যে কাজের চুক্তির বৈধতা নির্ভর করে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের উপর। কর্তৃপক্ষ সব তথ্য যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কাজের চুক্তিটি বৈধ বা অবৈধ কি না তা জানায়। 

এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে কমপক্ষে ছয় মাস এবং কিছু ক্ষেত্রে এক বছরের বেশি সময় লাগতে পারে। এই জটিল প্রসাশনিক প্রক্রিয়া নিয়োগকর্তাদের অনিয়মিত অভিবাসীদের নিয়োগে নিরুৎসাহিত করে।

অভিবাসন সংস্থা এক্সট্রাঞ্জেরিস্তাস এন রেডের মুখপাত্র পাকো সোলান স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসকে বলেন, “কোনো কোম্পানি এই ধরনের সময়সাপেক্ষ নিয়মে অনিয়মিত অভিবাসীদের সঙ্গে কাজের চুক্তি করতে চায় না।” 

অধিক বার্ধক্য

অভিবাসীদের ইন্টিগ্রেশন নিয়ে কাজ করা একটি অভিবাসন সংস্থার সদস্য আহমেদ খলিফা ইনফোমাইগ্রেন্টসকে বলেন, “সরকারের এই কঠিন নিয়মের ফলে আমরা একটি সমান্তরাল কালো বাজারের উত্থান লক্ষ্য করছি। এই ধীরগতির সুযোগ নিয়ে অভিবাসীদের কাছে তিন থেকে চার হাজার ইউরো বা তিন থেকে চার লাখ টাকার বিনিময়ে ভুয়া কাজের চুক্তি বিক্রি করা হচ্ছে।”

তার কথায়, “বৈধতা পেতে একটি সহজ আইন দ্রুত আনা উচিত। অনিয়মিত পরিস্থিতিতে থাকা বিদেশিদের দুই বছরের বসবাসের প্রমাণ এবং একটি সাধারণ প্রশিক্ষণ অথবা শিক্ষানবিশ চুক্তির বিনিময়ে দ্রুত বৈধতার অনুমতি দেয়া জরুরি।”

অবশ্য এই প্রস্তাবনাটি স্পেনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কর্তৃপক্ষ এই আইনটি নিয়ে দ্রুত এগোতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। স্পেনকে পেনশন ব্যবস্থা বাঁচাতে চাইলে আগামী কয়েক বছরে অর্থনীতি ও অভিবাসনে আমূল পরিবর্তন করতে হবে।

পড়ুন>> সাগরে প্রাণ হারানো অভিবাসীদের জন্য কবরস্থান

জার্মানি, ইটালিসহ ইউরোপের অন্য অনেক দেশের ন্যায় স্পেনের মোট জনসংখ্যাও অধিক বার্ধক্য এবং কম জন্মহার সমস্যায় ভুগছে। এই সমস্যার ফলে আগামী দিনে বিরাট জনসংখ্যার জন্য পেনশনের অর্থায়নে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

স্পেনের বর্তমান ক্ষমতাসীন পেদ্রো সানচেজের সরকার অনুমান করেছে যে, জনসংখ্যার ভারসাম্য অর্জনের জন্য দেশটিকে প্রতি বছর কমপক্ষে দুই লাখ অভিবাসীকে স্বাগত জানাতে হবে। 

স্প্যানিশ ইনস্টিটিউট অফ স্ট্যাটিস্টিকস (আইএনই) এর তথ্য অনুসারে, গত ২০ বছরে দেশটিতে কর্মরত বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ১৪ লাখ থেকে বেড়ে ২৮ লাখে দাঁড়িয়েছে। বার্ষিক গড়বৃদ্ধি ৭০ হাজার। এটি স্পেনের বর্তমান পেনশন সিস্টেম রক্ষার জন্য প্রত্যাশিত সংখ্যা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।


এমএইউ/আরকেসি


 

অন্যান্য প্রতিবেদন