ফাইল থেকে: স্থানীয় জনসংখ্যার তুলনায় অভিবাসী এবং শরণার্থীরা অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়েন, স্বাস্থ্যসেবার হালও খুব খারাপ৷  ছবি:
ফাইল থেকে: স্থানীয় জনসংখ্যার তুলনায় অভিবাসী এবং শরণার্থীরা অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়েন, স্বাস্থ্যসেবার হালও খুব খারাপ৷ ছবি:

শরণার্থী এবং অন্যান্য অভিবাসীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের তুলনায় নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা পান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) সাম্প্রতিক রিপোর্টে এমনটাই বলা হয়েছে।

ভাষাগত, অর্থনৈতিক এবং আইনি বাধার মুখে পড়েন অভিবাসীরা। এছাড়া তথ্য এবং নানা পরিষেবার ক্ষেত্রেও বাধা পান।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে সারা বিশ্বের লক্ষাধিক শরণার্থী এবং অভিবাসীদের স্বাস্থ্য মূল জনসংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট খারাপ- বুধবার (২০ জুলাই) ডাব্লিউএইচওর একটি প্রতিবেদনে এমনটাই বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যে অভিবাসীরা সে অর্থে কর্মদক্ষ নন, তারা তুলনামূলক নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা পান। তাদের জীবনযাপন এবং কাজের পরিবেশও অনুন্নত।

ডাব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেডরস আধানম ঘেব্রেইসাস বলেছেন, "সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি অভিবাসী রয়েছেন।বর্তমানে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন মানুষই অভিবাসী।" এই পরিসংখ্যানে অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কিন্তু নিজের দেশে রয়েছেন।

তার কথায়, "অভিবাসনের অভিজ্ঞতা হলো স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার মূল নির্ধারক। শরণার্থী এবং অভিবাসীরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল এবং অবহেলিত সদস্যদের মধ্যে রয়ে যান।"

অভিবাসীরা অতিরিক্ত আর্থ-সামাজিক বাধার মুখে

বিশ্বের একাধিক গবেষণাপত্রের পর্যালোচনার উদ্ধৃতি দিয়ে, ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, অভিবাসীদের গড় স্বাস্থ্য বেশ খারাপ।বিভিন্ন ‘সাবঅপ্টিমাল হেলথ ডিটারমিন্যান্টস’, যেমন একাধিক পরিষেবা পাওয়ার সুবিধা, আর্থ-সামাজিক বাধা এসবের সঙ্গে অভিবাসীদের ভগ্নস্বাস্থ্যের সম্পর্ক রয়েছে।

অভিবাসীরা স্থানীয়দের তুলনায় অতিরিক্ত বাধার মুখে পড়েন। তারা পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত হলেও অনিশ্চিত আইনি পরিস্থিতির শিকার হন। তাদের ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক, ভাষাগত, প্রশাসনিক এবং আর্থিক বাধা রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যের অধিকার সম্পর্কে তথ্যের অভাব, থাকার জায়গার অভাব, স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব, আটক ও নির্বাসনের ভয় রয়েছে।

কর্মস্থলে চোট-আঘাতের আশঙ্কা বেশি অভিবাসীদের 

১৬টি দেশের এক কোটি ৭০ লাখের বেশি অংশগ্রহণকারীর একটি বিশ্লেষণ মূল্যায়ন করেছে ডাব্লিউএইচও। সংস্থাটি দেখেছে, অ-অভিবাসী শ্রমিকদের তুলনায়, অভিবাসী শ্রমিকদের কর্মস্থলে চোট পাওয়ার আশঙ্কা বেশি।

ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ‘উল্লেখযোগ্য সংখ্যক’ অভিবাসী শ্রমিক ‘নোংরা, বিপজ্জনক’ কাজে নিয়োজিত। অভিবাসী যারা নন, তাদের তুলনায় পেশাগত দুর্ঘটনা, চোট-আঘাত এবং কাজ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি বেশি অভিবাসীদের। " আংশিকভাবে বিপজ্জনক পদার্থ নিয়ে কাজ করার জন্য এই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অভিবাসীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে স্বাস্থ্যখাতে আরো বিনিয়োগ করার জন্য আয়োজক দেশগুলিকে আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল জুজান্না ইয়াকাব বলেন, "শরণার্থী এবং অভিবাসীদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আরো কাজ করাটা অপরিহার্য। যদি আমরা অবস্থা বদলাতে চাই, তাহলে শরণার্থী এবং অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্যের মান, তা উন্নত করা, প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখার জন্য জরুরি বিনিয়োগের প্রয়োজন।" দেশগুলির জনসংখ্যার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক পরিমাণে তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তায় জোর দিয়েছেন তিনি।


আরকেসি/এসিবি (ইনফোমাইগ্রেন্টস)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন