(ফাইল ছবি) বেলজিয়াম পুলিশের একটি গ্রেপ্তার অভিযান। ছবি-রয়টার্স
(ফাইল ছবি) বেলজিয়াম পুলিশের একটি গ্রেপ্তার অভিযান। ছবি-রয়টার্স

বেলজিয়ামে পাঁচ আফগান অভিবাসীকে মাদক ব্যবসা ও পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা অনিয়মিত অভিবাসীদের শোষণ করে অভিবাসন সম্পর্কিত ভ্রমণের খরচ বাবদ মাদক বহন করতে বাধ্য করে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) একটি আফগান চোরাকারবারী নেটওয়ার্কের বেলজিয়াম শাখাকে লক্ষ্য করে পুলিশি অভিযান চলে৷ ওই অভিযানে পাঁচ আফগান তরুণকে গ্রেপ্তার করা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বুধবার বেলজিয়ামের আন্টওয়ার্প শহরের প্রসিকিউটর অফিস বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযুক্ত চক্রটি অভিবাসীদের স্থল বা সমুদ্রপথে ইউরোপে পাচার করত। তারা আফগান ও পাকিস্তানি অভিবাসীদের কাছে মাদক পুনর্বিক্রয়সহ বেআইনি কার্যকলাপে জড়িত থাকার মাধ্যমে অভিবাসীদের ভ্রমণ সংক্রান্ত ঋণ শোধ করতে বাধ্য করত। 

পড়ুন>> বেলজিয়ামে লটারিতে জেতা আড়াই কোটি টাকা তুলতে পারছেন না এক অভিবাসী

তবে এই চক্রের বেআইনি কাজের শিকার ভুক্তভোগী অভিবাসীদের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি বিবৃতিতে।

লেনদেনের মাধ্যম ‘টিকটক’

২০২১ সালের শেষে একটি পুলিশি তদন্তের প্রাথমিক অনুমান অনুসারে, ২২ থেকে ২৯ বছর বয়সি অভিযুক্তরা মূলত নিজেদের মধ্যে এবং সম্ভাব্য গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে টিকটক ব্যবহার করে। এই প্ল্যাটফর্মে অভিযুক্তদের আদান প্রদান করা বার্তাগুলো ব্যবহার করে পাচারকারীদের এবং তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে, তদন্তের দায়িত্বে থাকা তদন্তকারী বিচারকের আদেশে, বেলজিয়ামের উত্তরে অবস্থিত ডাচ-ভাষী আন্টওয়ার্প, লিয়েরে এবং লোমেলে এলাকায় নয়টি গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। 

পড়ুন>>বেলজিয়ামে বৈধতা পেয়েছে আন্দোলনরতদের ১২ শতাংশ

অভিযানে সন্দেহভাজন ছয় জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে বিচারকের সামনে হাজির করার পর মুক্তি দেওয়া হয়, বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে জেলে পাঠানো হয়। 

ব্রিটেনসহ ইউরোপের মতো অন্যান্য দেশে পৌঁছাতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের জন্য জনপ্রিয় ট্রানজিট দেশ বেলজিয়াম। বেশ কিছু চোরাচালানকারী চক্রকে বেলজিয়ামকে অপরাধমূলক কাজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার এবং বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম মজুত রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

পড়ুন>>বেলজিয়ামে অপ্রাপ্তবয়স্ক বিদেশিরা আইনি অভিভাবকের সংকটে

চলতি বছরের মে মাসের প্রথম দিকে, যুক্তরাজ্য ও বেলজিয়ামের যৌথ তদন্তের পর লন্ডনে একজন ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। ইংলিশ চ্যানেলে মানবপাচারকারীদের নৌকা সরবরাহের সঙ্গে জড়িত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ চক্রগুলোর একজন অন্যতম প্রধান তিনি, এমনই সন্দেহ করা হচ্ছে।

ফরাসি উপকূলে থেকে যুক্তরাজ্যের দিকে যাত্রা করা অস্থায়ী নৌযানগুলো মূলত তুরস্ক থেকে আসলেও এগুলো সাধারণত জার্মানি, বেলজিয়াম এবং নেদারল্যান্ডস হয়ে ফ্রান্সে প্রবেশ করে। 


এমএইউ/আরকেসি




 

অন্যান্য প্রতিবেদন