রেগিও ক্যালাব্রিয়ার কাছে সান ফার্দিনান্দোর অস্থায়ী বসতিতে অভিবাসী দিনমজুররা থাকেন৷ তারা বসতির কাছাকাছি মাঠে কাজ করেন ৷ছবি: আলেসান্দ্রো সেঘেরি/আর্কাইভ/এএনএসএ
রেগিও ক্যালাব্রিয়ার কাছে সান ফার্দিনান্দোর অস্থায়ী বসতিতে অভিবাসী দিনমজুররা থাকেন৷ তারা বসতির কাছাকাছি মাঠে কাজ করেন ৷ছবি: আলেসান্দ্রো সেঘেরি/আর্কাইভ/এএনএসএ

সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১০ হাজার অভিবাসী কৃষক ইটালির অস্থায়ী বসতিতে বসবাস করছেন। তারা সেখানে শোষণের শিকার, মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

ইটালির শ্রম মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইটালিয়ান মিউনিসিপালিটি (এএনসিআই) মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) একটি নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কমপক্ষে ১০ হাজার অভিবাসী কৃষিকর্মী ইটালিতে অস্থায়ী বসতিতে বসবাস করছেন। তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত, সংহতিকরণের সুবিধাসহ একাধিক পরিষেবার অভাব রয়েছে।

কৃষিখাতে শ্রমশোষণের বিরুদ্ধে তিন বার্ষিকী (২০২০ থেকে ২০২২) পরিকল্পনার অংশ হিসাবে ‘খাদ্য ও কৃষিখাতে কর্মরত অভিবাসীদের আবাসনের পরিস্থিতি’ শিরোনামে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এখানে বসবাসকারী অভিবাসীদের ‘ঘেটোতে’ থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে স্বল্প বেতনের কাজ করে দিন কাটান তারা। এদের বেশিরভাগই দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছেন। অনেকে টিনের চাদর দিয়ে তৈরি খুপড়িতে বাস করেন। তবে এমন ‘ঘেটো’ সারা দেশে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অভিবাসীরা "ইটালির অস্থায়ী বসতিতে থাকেন। এগুলি শোষণের জায়গা হিসেবে চিহ্নিত। অভিবাসীরা এখানে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অনেক ক্ষেত্রে, মৌলিক পরিষেবা বা সংহতিকরণের সুবিধা ছাড়াই কয়েক বছর বসবাস করছেন অভিবাসীরা।"

এই প্রতিবেদনে অ্যাক্টিভিস্ট এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতা আবুবকর সৌমাহোরোর বক্তব্য রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, "ক্ষেতের মধ্যেই আমাদের অধিকারে পচন ধরেছে, পাশাপাশি খাদ্য ও কৃষিখাতেও।"

৩৮টি মিউনিসিপালিটিতে ১৫০টি বসতি

অভিবাসীদের পরিস্থিতির উন্নতির জন্য জাতীয় পুনরুদ্ধার পরিকল্পনাসহ দুটি প্রকল্প থেকে মোট ২০ কোটি ইউরো বরাদ্দ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩৮টি মিউনিসিপালিটিতে ১৫০টি অস্থায়ী বা অনুমোদনহীন বসতি রয়েছে যার মধ্যে বেআইনিভাবে দখল করা কটেজ এবং বিল্ডিং রয়েছে। এছাড়াও ঝুপড়ি টাউন, তাঁবু এবং খুপড়ি ঘর রয়েছে৷

এই বসতিগুলির মাত্র কয়েকটিতে অল্পসংখ্যক বাসিন্দা থাকেন। বাকিগুলিতে রয়েছেন হাজারো অভিবাসী। দক্ষিণ ইটালির কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি এলাকার র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথমদিকে রয়েছে। এই ‘ঘেটো’ গোটা ইটালিজুড়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখানে বসবাসের ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। ৩০ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে জনবসতির কাছাকাছি গণপরিবহণ ব্যবস্থা রয়েছে। শ্রমিক শোষণ এবং অপর্যাপ্ত পরিবহণের ফলে ঝুঁকি আরো বেশি বলে প্রমাণিত হয়েছে।

শোষিত অভিবাসীদের আহ্বান

শ্রমমন্ত্রী আন্দ্রেয়া অরল্যান্ডো এবং এএনসিআই প্রধান আন্তোনিও ডেকারো প্রতিবেদনের ভূমিকায় লিখেছেন, "অভিবাসীরা কীভাবে বাস করেন এবং ক্যাম্পে কাজ করেন, এই প্রতিবেদনে শুধু তার মাপজোক দেয়া হয়েছে এমন নয়।" তারা বলেছেন, "বিস্তারিতভাবে এটিতে দেখানো হয়েছে, কাজের মর্যাদাকে কীভাবে অস্বীকার করা হচ্ছে।"

তারা বলেছেন, "এই জায়গাগুলি আমাদের মৌলিক নীতির বিরোধী। এই বোঝা আমরা আর বহন করতে চাই না।"

সৌমাহারে বলেন, "আমরা 'বাড়ি' এবং 'কাজ' শব্দের প্রকৃত অর্থ আবারো ফিরিয়ে আনতে চাই।" তার কথায়, "দিনমজুরদের জনশুমারি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। তবে রাষ্ট্রের চোখে অস্তিত্ব নেই এমন লোকের সংখ্যা গণনা করা খুবই কঠিন। প্রথমে অস্তিত্ব ফিরিয়ে দেয়া প্রয়োজন, নইলে আনুমানিক সংখ্যা বলার ঝুঁকি রয়েছে যা বাস্তব থেকে অনেক দূরে।"

সৌমাহোরোর কথায়, ‘‘ 'অভিবাসী দিনমজুর' শব্দটি, মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে। এটি বিভ্রান্তিকর কারণ এর ফলে দিনমজুরদের পরিস্থিতি যে গুরুতর তা বোঝা যায় না। সাধারণ শ্রমিক এবং দিনমজুরদের ফারাক বোঝা যায় না। এর ফলে মনে হয়, শুধুমাত্র অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।"


আরকেসি/এসিবি

 

অন্যান্য প্রতিবেদন