গ্রিসের লেসবোস উপকূলে ফ্রন্টেক্সের একটি টহল দল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স
গ্রিসের লেসবোস উপকূলে ফ্রন্টেক্সের একটি টহল দল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স

ইইউ সীমান্ত নজরদারি সংস্থা-ফ্রন্টেক্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ গ্রিস থেকে অভিবাসীদের তুরস্কে বেআইনি পুশব্যাক বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর ঘটনা জানত৷ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমনকি কিছু ঘটনায় ফ্রন্টেক্সের অর্থায়নও রয়েছে৷

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিস আসা অভিবাসীদের জোরপূর্বক তুরস্কে ফেরত পাঠানোর একের পর এক অভিযোগ উঠছে৷ গ্রিক কর্তৃপক্ষ বরাবর তা অস্বীকার করে আসছে৷ তবে এখন জানা যাচ্ছে তুরস্কে অভিবাসীদের অবৈধভাবে তুরস্কে ফেরত পাঠানোর কিছু ঘটনা এমনকি ইইউ বহিঃসীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-ফ্রন্টেক্সও জানত৷ 

২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ইউরোপীয় অ্যান্টি-ফ্রড অফিস (ওলাফ) অত্যন্ত এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছে৷ ২৮ জুলাই জার্মান গণমাধ্যম ডেয়ার স্পিগেল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘ইউরোপীয় বহিঃসীমান্ত নজরদারি করা সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সাবেক পরিচালনা পর্ষদ বেশ আগে থেকেই সীমান্তে পরিচালিত এই নির্মম আচরণ সম্পর্কে অবহিত ছিল৷’’

সেখানে আরও বলা হয়েছে, “পুশব্যাক প্রতিরোধ করার পরিবর্তে ফ্রন্টেক্সের সাবেক পরিচালক ফাব্রিস লাজেরি এবং তার সহযোগীরা তাদের দোষ আড়াল করেছিলেন৷ তারা ইউরোপীয় পার্লামেন্টে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন৷ এজেন্সিটি সত্য গোপন করে ইউরোপীয় জনগণের করের অর্থ দিয়ে বেশ কিছু পুশব্যাককে আর্থিকভাবে সহায়তা করেছিল৷’’


পদত্যাগ করা ফ্রন্টেক্সের সাবেক প্রধান ফাব্রিস লাজেরি। ছবি:  এপি
পদত্যাগ করা ফ্রন্টেক্সের সাবেক প্রধান ফাব্রিস লাজেরি। ছবি: এপি


গণমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ফলে এপ্রিলের শেষে ফ্রন্টেক্স প্রধান পদত্যাগ করেছেন৷ কিন্তু এই বিষয়ে এখনও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে তারা৷ ইউরোপীয় অ্যান্টি-ফ্রড অফিস (ওলাফ) জানিয়েছে, ২০২০ সালের ৫ আগস্ট গ্রিক কোস্ট গার্ড ৩০ জন অভিবাসীকে একটি অস্থায়ী নৌকায় তুরস্ক উপকূলে নামিয়ে দেয়৷ সে সময় ফ্রন্টেক্সের একটি টহলরত বিমান আকাশ থেকে নজরদারি করছিল৷ 

এ ঘটনা দেখতে পেয়ে ফ্রন্টেক্সের বিমানটি গ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে অবহিত না করে এজিয়ান সাগরের উপর এসে বিমান টহল বন্ধ করে অন্যত্র চলে যায়৷ 

ফাব্রিস লাজেরি জেনেশুনে এই বেআইনি কাজগুলোর প্রতি অন্ধ সমর্থন দিতেন বলে ওলাফের তদন্ত কর্মকর্তারা অভিযোগ এনেছেন৷


গ্রিসের মিতিলেন উপকূলে ফ্রন্টেক্সের একটি টহল জাহাজ। ছবি: মারিও ম্যাক গ্রেগর/ইনফোমাইগ্রেন্টস
গ্রিসের মিতিলেন উপকূলে ফ্রন্টেক্সের একটি টহল জাহাজ। ছবি: মারিও ম্যাক গ্রেগর/ইনফোমাইগ্রেন্টস


পরবর্তীতে একটি লিখিত নোটও পাওয়া যায়, সেখানে বলা হয়েছে সমুদ্রে যা ঘটছে সেসব ঘটনায় সাক্ষী না হয়ে নজরদারি বিমানগুলো যেন প্রত্যাহার করে নেয়া হয়৷ 

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসা সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই পুশব্যাকগুলো কিছু ক্ষেত্রে সহ-অর্থায়ন করেছে ফ্রন্টেক্স৷ সংস্থাটির সহ-অর্থায়নে কমপক্ষে ছয়টি গ্রিক নৌকা ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দশটিরও বেশি ‘পুশব্যাক’ এর ঘটনার সাথে জড়িত ছিল, ফ্রন্টেক্সের সাবেক পরিচালক অবশ্য সব সময় এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এসেছেন৷

এজিয়ান সাগরের গ্রিক-তুর্কি সীমান্ত বেআইনি পুশব্যাকের জন্য বেশ কয়েকবছর ধরে সমালোচিত৷ ভুক্তভোগী অভিবাসীরা নিয়মিত ইনফোমাইগ্রেন্টসের সাথে যোগাযোগ করে এই সীমান্তে নিপীড়নের অভিযোগ জানিয়ে থাকে৷



এমএইউ/এফএস 





 

অন্যান্য প্রতিবেদন