সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে জার্মানি ইউক্রেন থেকে প্রায়  তিন লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে গ্রহণ করেছে | ছবি: হ্যানিবাল হ্যান্সকে/গেটি ইমেজ
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুসারে জার্মানি ইউক্রেন থেকে প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার শরণার্থীকে গ্রহণ করেছে | ছবি: হ্যানিবাল হ্যান্সকে/গেটি ইমেজ

জার্মানিতে শরণার্থীদের থাকার জায়গা পাওয়া রীতিমতো কঠিন একটি কাজ৷ বেশ কিছু মিউনিসিপালিটি স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের এলাকায় কোনো আবাসন নেই৷

সেন্ট্রাল জার্মানির টুরিঙ্গিয়া মিউনিসিপালিটির মোট জনসংখ্যা ২০ লাখের একটু বেশি৷ তারা জানিয়েছে, ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের জন্য আবাসন সেখানে খুবই কম৷ এই ইস্যুতে খ্রিস্টীয় ডেমোক্রেটিক পার্টি (সিডিইউ) টুরিঙ্গিয়ার সরকারের সমালোচনা করেছে৷ টুরিঙ্গিয়া আবার পাল্টা ফেডারেল সরকারকে এই বিষয়ে দায়ী করেছে। শরণার্থীদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ এনেছে৷

বাসস্থান বড় চ্যালেঞ্জ

স্থানীয় মিউনিসিপালিটিকে সমর্থন করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে সিডিইউর সংসদীয় গোষ্ঠী। পাশাপাশি, টুরিঙ্গিয়া প্রশাসন এখন নতুন আবাসনের ব্যবস্থার জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে বড়সড় বাজেট দাবি করছে৷

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু পৌরসভা এখন আর শরণার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারছে না। গত সপ্তাহে টুরিঙ্গিয়ার পার্লামেন্টে সিডিইউ দল অভিবাসন কমিটির একটি বৈঠকে আবাসনের সমস্যা, কীভাবে সরকার আরো সাহায্য করতে পারে ইত্য়াদি বিষয়ে আলোচনার জন্য অনুরোধ করেছিল।

এভরিবেডহেল্পস ডট কম নামের একটি উদ্যোগে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বাসস্থান দেয়া হয়৷ ছবি: ফ্লোরিয়ান উইচেলসমান
এভরিবেডহেল্পস ডট কম নামের একটি উদ্যোগে ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের বাসস্থান দেয়া হয়৷ ছবি: ফ্লোরিয়ান উইচেলসমান


এমপি স্টেফান শারার্ড অভিযোগ করেন টুরিঙ্গিয়া কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু পর্যবেক্ষণ করে চলেছে৷ ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের খরচ বহনের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন তিনি।

শরণার্থীদের আবাসনের জন্য ফেডারেল সরকারের কাছে অর্থ দাবি করেছে রাজ্যগুলি৷ এর ফলে সরকারের উপর আর্থিক চাপ বাড়ছে৷ অবকাঠামো মন্ত্রক এবং রাজ্যের চ্যান্সেলারি অর্থাৎ মূল কার্যালয় যৌথভাবে ঘোষণা করেছে ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে আবাসনের জন্য বিপুল পরিমাণে অর্থ দেয়া হয়েছিল৷ সেইসময় সিরিয়া থেকে বিশেষ করে প্রচুর মানুষ জার্মানিতে এসেছিলেন।

বামপন্থী দল ডি লিঙ্কের নেত্রী টুরিঙ্গিয়ার অবকাঠামো মন্ত্রী সুজানা কারাওয়ানস্কিয়ার মতে, ফেডারেল সরকার ২০১৬ সালে সামাজিক আবাসনের জন্য নির্ধারিত বাজেট ৫০ কোটি থেকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি ইউরো করেছে। যদিও বাজেট ২০০ কোটি ইউরো করার কথা ছিল, কিন্তু মন্ত্রী জানান তা করা হয়নি।

এখন একদিকে মিউনিসিপালিটি এবং আবাসন শিল্পের নিরাপত্তার জন্য দ্রুত কাজের চাপ রয়েছে, অন্যদিকে শরণার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন তৈরি করার বিষয়টিও রয়েছে।

জুলাই মাসে সবুজ দলের অভিবাসন মন্ত্রী ডির্ক অ্যাডামস ইউক্রেনীয় শরণার্থীদের আশ্রয়ের জন্য টুরিঙ্গিয়ার ব্যবস্থাগুলিকে "যোগ্য" বলে উল্লেখ করেন। সিরিয়া থেকে প্রচুর মানুষ যখন ২০১৫ সালে এসেছিল, সেইসময় বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও তারা অত্যন্ত ভালোভাবে সবকিছু সামলে নিয়েছিল৷

ফাঁকা অ্যাপার্টমেন্টগুলিকে ফের আধুনিকীকরণ করা এবং সেগুলি বসবাসযোগ্য করে তোলা অপরিহার্য বলে জানিয়েছে মন্ত্রক৷ তবে ফেডারেল সরকারকেও এই খাতে অর্থায়ন করতে হবে। মনে করা হচ্ছে, পর্যাপ্ত অর্থ দিয়ে, খুব অল্প সময়ে টুরিঙ্গিয়ায় তিন হাজারটি নতুন সামাজিক এবং শরণার্থী আবাসন ইউনিট তৈরি করা যেতে পারে।

নতুন আবাসনের প্রয়োজন

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেন থেকে আসা প্রায় ২৩ হাজার জন টুরিঙ্গিয়ায় আশ্রয় পেয়েছেন। দুই মাস আগে, জেলা পরিষদ (ল্যান্ডক্রাইস্ট্যাগ) টুরিঙ্গিয়ার ক্ষমতায় থাকা সরকারকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছিল৷ জরুরি বিষয়গুলি তাতে উল্লেখ করা হয়। এরপর বেশ কয়েকটি এলাকা জানিয়েছে, আর কোনো শরণার্থীকে জায়গা দেয়া সম্ভব নয়।

শরণার্থীদের জন্য বাসস্থানের অভাবে শুধু জার্মানি ভুগছে এমন নয়। অনেক ইউরোপীয় শহরে বর্তমানে আবাসনের ঘাটতি রয়েছে৷ শরণার্থীরা অস্থায়ী বাসস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন৷ তবে এই বাসস্থানগুলিতে দীর্ঘসময় থাকার ব্যবস্থা নেই৷

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাড়ির দাম বেড়েছে৷ ইউরোজোনে চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায়) ৯.৮ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি অংশে ১০.৫ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পেয়েছে৷

আরকেসি/ কেএম

 

অন্যান্য প্রতিবেদন