এজিয়ান সাগরে তুর্কি উপকূলে তুরস্ক কোর্ড গার্ডের টহল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স।
এজিয়ান সাগরে তুর্কি উপকূলে তুরস্ক কোর্ড গার্ডের টহল। ছবি: পিকচার এলায়েন্স।

এজিয়ান উপকূলে গ্রিক কর্তৃপক্ষের পুশব্যাক করা ১৫০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে উদ্ধারের তথ্য দিয়েছে তুরস্ক। এছাড়া পৃথক ঘটনায় তিন অভিবাসীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আঙ্কারা।

সোমবার তুর্কি কোস্ট গার্ডের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গ্রিক বাহিনী মোট ১৫০ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে বেআইনি পুশব্যাক করে তুরস্কের দিকে ঠেলে দিয়েছে৷ এছাড়া তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

কোস্টগার্ড জানায়, ইজমির অঞ্চলের সেসমে জেলার উপকূলবর্তী দ্বীপ কারাডায় আশ্রয়প্রার্থীদের একটি দল পৌঁছানোর সংবাদ পেয়ে কোস্টগার্ডের একটি দল দ্রুত ওই এলাকায় গিয়ে আট জন অনিয়মিত অভিবাসীকে উদ্ধার করে এবং উপকূলে ভেসে আসা একজনের মৃতদেহ দেখতে পায়।

পড়ুন>>গাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি, তুরস্কে হত আফগান শিশু

তুর্কি বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের পর নিখোঁজ আরও দুই অনিয়মিত অভিবাসীকেও সাগরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

উদ্ধার হওয়া অনিয়মিত অভিবাসীদের মধ্যে ১১ জনের একটি দল তুর্কি কোস্ট গার্ডকে জানিয়েছে, গ্রিক বাহিনী তাদেরকে হাতে হাতকড়া পরিয়ে এবং কোন প্রকার লাইফজ্যাকেট না দিয়েই চিওস দ্বীপ থেকে দূরবর্তী একটি জায়গায় ফেলে দেয়।

তুর্কি কোস্টগার্ডের ইউনিটগুলো ইজমিরের কারাবুরুন, ডিকিলি এবং সেসমের উপকূল থেকে আরও ১৩৬ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। 

তুরস্ক অভিযোগ করেছে, অনিয়মিত অভিবাসীদের বহনকারী পাঁচটি নৌকাকে অবৈধভাবে তুরস্কের আঞ্চলিক জলসীমায় ফেরত পাঠিয়েছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন>>গ্রিসের পুশব্যাকের সাম্প্রতিক ড্রোন ফুটেজ রয়েছে: তুরস্ক 

অপরদিকে, ইজমিরের ডিকিলি জেলার উপকূল থেকে গ্রিসের দিকে যাত্রার আগে ৩৮ জন অনিয়মিত অভিবাসীকে আটকে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক। আটকের পর সংশ্লিষ্টদের প্রাদেশিক অভিবাসন দপ্তরে স্থানান্তর করা হয়েছে।

এছাড়া, তুরস্কের দক্ষিণ-পশ্চিম মুগলা প্রদেশের বোডরুমে উপকূল থেকে তিন জন অনিয়মিত অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে তুর্কি কোস্টগার্ড৷ তাদেরকে গ্রিস পুশব্যাক করেছে বলে জানা গেছে।

অভিবাসীরা বলেছে, গ্রিক বাহিনী তাদের মারধর করেছে৷ বর্তমানে তাদেরকে তুরস্কের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

যুদ্ধ ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে ইউরোপে নতুন জীবন শুরু করার লক্ষ্যে আসা অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য তুরস্ক একটি মূল ট্রানজিট পয়েন্ট।

পড়ুন>> সিলেট থেকে গ্রিস: বাংলাদেশি অভিবাসীর দীর্ঘ ও দুঃসহ যাত্রা

তুর্কি সরকার এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বারবার গ্রিসের আশ্রয়প্রার্থীদের পুশব্যাকের অবৈধ চর্চার নিন্দা জানিয়ে বলে আসছে, পুশব্যাকের ফলে নারী ও শিশুসহ দুর্বল অভিবাসীদের জীবন বিপন্ন করে মানবিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়। 


এমএইউ/এআই

 

অন্যান্য প্রতিবেদন