ইংলিশ চ্যানেল হয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন ঠেকাতে ও চাপ সামলাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ব্রিটেন৷ ছবি: হেনরি নিকলস/রয়টার্স
ইংলিশ চ্যানেল হয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন ঠেকাতে ও চাপ সামলাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ব্রিটেন৷ ছবি: হেনরি নিকলস/রয়টার্স

স্থানীয়দের বাধার কারণে উত্তর ইংল্যান্ডের একটি পরিত্যক্ত বিমান ঘাঁটিতে আশ্রয়প্রার্থীদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা থেকে পিছু হটল যুক্তরাজ্য সরকার৷ বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষমন্ত্রী বেন ওয়ালেস এই তথ্য নিশ্চিত করেন৷ তবে গ্রিক মডেলের আদলে বিচ্ছিন্ন এলাকাতে আশ্রয়কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে না দেশটির সরকার৷

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক হাজার ৫০০ আশ্রয়প্রার্থীকে ইয়র্কশায়ারের লিনটন-অন-উসে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিল৷ কিন্তু সেখানকার কয়কশো বাসিন্দা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন৷ এত সংখ্যক বিদেশি পুরুষের আগমনে স্থানীয়রা সেখানে কোনঠাসা হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন৷ পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন গ্রামটি এই তরুণদের জন্য যথাযথ নয় বলেও যুক্তি দেখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার৷ 

ফ্রান্স থেকে ইংলিশ চ্যানেল হয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন ঠেকাতে ও চাপ সামলাতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে ব্রিটেন৷ তার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেয় সরকার৷ মূলত ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য গ্রিসের আদলে এই পরিকল্পনা করা হয়৷ এর আগে আশ্রয়প্রার্থীদের রুয়ান্ডা পাঠানোরও ঘোষণা দিয়েছিল জনসন সরকার৷ এ বিষয়ে রুয়ান্ডার সঙ্গে চুক্তিও হয়েছে৷ কিন্তু আইনি জটিলতায় সেটি এখনও বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার৷ 

পড়ুন: অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর ব্রিটেনের দুই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী

বিকল্প জায়গার খোঁজে

মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়ালেস জানান, তার মন্ত্রণালয় রয়্যাল এয়ারফোর্সের সাবেক বিমান ঘাঁটি ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিয়েছিল সেটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে৷ উত্তর ইংল্যান্ড পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘‘জায়গাটি নিয়ে এখন তারা অন্য পরিকল্পনা করবেন৷ তবে মূল লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো জায়গায় অভিবাসীদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে না সরকার৷’’ 

এরইমধ্যে এমন বেশ কয়েকটি স্থানের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওয়ালেস৷ 

বার্তা সংস্থা এএফপিকে সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা গ্রিসের মতো করে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখার জন্য যথাযথ জায়গার খোঁজ করে যাচ্ছেন৷ 

বর্তমানে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা অনেক আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলে রাখতে বাধ্য হচ্ছে ব্রিটেন৷ এতে প্রতিদিন সরকারের খরচ হচ্ছে ৬০ লাখ ডলার৷ প্রত্যন্ত এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র খুলে এই খরচ কমাতে চায় সরকার৷ 

এফএস/কেএম (এএফপি)

 

অন্যান্য প্রতিবেদন