এজিয়ান সাগরের পূর্বে অবস্থিত গ্রিক দ্বীপ সামোসে এক অভিবাসী। ছবি:  এপি ফটো।
এজিয়ান সাগরের পূর্বে অবস্থিত গ্রিক দ্বীপ সামোসে এক অভিবাসী। ছবি: এপি ফটো।

এজিয়ান সাগরে্র দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি অভিবাসী নৌকা ডুবির ঘটনায় প্রায় ৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৮০ অভিবাসী নিয়ে তুরস্ক উপকূল থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা নৌকাটি ডুবে যাওয়ার পর ৩০ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় গ্রিক কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ-পূর্ব এজিয়ান সাগরে একটি অভিবাসী নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় এখনও ৫০ জনেরও বেশি লোককে খুঁজছে গ্রিক বন্দর কর্তৃপক্ষ।

গ্রিক কোস্ট গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এজিয়ানের কার্পাথোস উপকূল এবং রোডস দ্বীপে ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসী নৌকাটি ডুবে যাওয়ার খবর পেয়ে বুধবার ভোরে সমুদ্র পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রী ইয়ানিস প্লাকিওটাকিস দ্রত উদ্ধার অভিযানের নির্দেশ দেন।

গ্রিক কোস্টগার্ডের প্রেস অফিসের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বুধবার সকালে জানিয়েছেন, নৌকাটিতে ৮০ জন অভিবাসী থাকলেও তাদের মধ্যে থেকে মাত্র ৩০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি ৫০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা আফগানিস্তান, ইরান ও ইরাকের নাগরিক বলে জানা গেছে। 

পড়ুন>> গ্রিস থেকে ১৫০ অভিবাসীকে পুশব্যাকের অভিযোগ, মৃত তিন

উপকূলরক্ষী বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুসারে, নৌকাটি গ্রিসের প্রতিবেশী দেশ তুরস্কের উপকূলবর্তী শহর আনাতালিয়া থেকে যাত্রা করেছিল, যার মূল গন্তব্য ছিল ইটালি।

ডুবে যাওয়া এলাকায় চারটি সাধারণ বোট, গ্রিস কোস্টগার্ডের দুটি টহল বোট এবং গ্রিক বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

উপকূলরক্ষী বাহিনীর মুখপাত্র নিকোস কোকালাস স্থানীয় রেডিও স্কাইকে এক সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছেন, ডুবে যাওয়া অনেক অভিবাসীর কাছে লাইফ জ্যাকেট ছিল না। সমুদ্রে বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার থাকায় তীব্র বাতাসে বারবার উদ্ধার অভিযান বাধাগ্রস্ত হয়েছে।  

আরও পড়ুন>>গ্রিসে প্রবেশে ব্যর্থ নারীর নৌকায় সন্তান প্রসব

এই নৌকাডুবির ঘটনাটি এজিয়ান সাগরে সাম্প্রতিককালে সবচেয়ে বড় অভিবাসী নৌকাডুবির ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

জানুয়ারি থেকে মৃত ৬০ এর অধিক

মধ্য ভূমধ্যসাগরের তুলনায় এজিয়ান সাগরকে অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলেও তুরস্ক ও গ্রিসের সাথে সংযোগকারী সমুদ্রপথটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। 

আন্তজার্তিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) অনুসারে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ৬৪ জন মারা গেছেন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ১১১ জন। 

আইওএম আরও জানায়, ১৯ জুন গ্রিসের মিকোনোস দ্বীপের কাছে এজিয়ান সাগরে আটজন মারা গিয়েছিলেন এবং ১০৮ জনকে গ্রিক কোস্টগার্ড উদ্ধার করেছিল।

সমুদ্র পথের বাইরে তুরস্কে অপেক্ষমান অনেক অভিবাসী স্থল সীমান্ত দিয়ে গ্রিসে ঢোকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই পথটিও অত্যন্ত বিপজ্জনক।

পড়ুন>>গ্রিসে পাকিস্তানি অভিবাসীকে পিটিয়ে হত্যা

গ্রিক সীমান্তরক্ষীরা প্রতিনিয়ত অভিবাসীদের বেআইনি পুশব্যাকের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেয়ায় অনেক অভিবাসী এভ্রোস নদীর মধ্যে অবস্থিত দ্বীপগুলিতে আটকা পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পুশব্যাকের বেআইনি চর্চার কথা অসংখ্য এনজিও এবং গণমাধ্যমে উঠে এলেও রক্ষণশীল গ্রিক সরকার সবসময় এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। 

পড়ুন>>যেসব শর্তে বৈধতা পাবেন গ্রিসের অনিয়মিত বাংলাদেশিরা

চলতি বছরের জুনের শেষ দিকে স্বরাষ্ট্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনার ইলভা জোহানসন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ‘হিংসাত্মক এবং অবৈধ বহিষ্কার’ বন্ধ করার জন্য এথেন্সকে আহ্বান জানান।


এমএইউ/এআই 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন