ইনসাফ বাগদিরি (বামে) হাজার হাজার টিউনিশীয়র একজন যারা সাব-সাহারান আফ্রিকায় কাজ খুঁজছেন | ছবি: ইনসাফ বাগদিরি
ইনসাফ বাগদিরি (বামে) হাজার হাজার টিউনিশীয়র একজন যারা সাব-সাহারান আফ্রিকায় কাজ খুঁজছেন | ছবি: ইনসাফ বাগদিরি

চাকুরি খোঁজার ভিসা দিতে ইউরোপের আগ্রহের ঘাটতি থাকায় অনেক টিউনিশীয় সাব-সাহারা অঞ্চলের দেশগুলোতে কাজ করতে যাচ্ছেন৷

রুয়ান্ডার ‘উমুগান্ডা পাবলিক হলিডেতে’ আনন্দের সঙ্গেই যোগ দেন ইনসাফ বাগদিরি৷ এই দিনে সাধারণ মানুষ সেখানকার রাস্তাঘাট এবং জনসমাগমের জন্য উন্মুক্ত স্থানগুলো পরিষ্কার করেন৷ টিউনিশিয়ার রাজধানী টিউনিশ থেকে সম্প্রতি কাজের জন্য রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে আসা বাগদিরি এসব সামাজিক কাজে অংশ নিতে ভালোবাসেন৷    

‘‘নিজেদের শহর পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং স্বেচ্ছাসেবি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একসঙ্গে কিছু করার চেষ্টা থেকে এই উদ্যোগের শুরু হয়,’’ বলেন বাগদিরি৷ 

আইন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রিধারী বাগদিরি টিউনিশিয়ার ফরাসি ভাষার গণমাধ্যমে দুই দশকের মতো কাজ করেছেন৷ সম্প্রতি তিনি কিগালিতে প্যান-আফ্রিকান ফার্মার্স সংগঠনের গণমাধ্যম বিভাগে যোগ দেন৷ তিনমাস সেখানে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করার পর এখন দুই বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি৷ 

বাগদিরি জানান, তিনি নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেয়ার লক্ষ্যে মাতৃভূমি ছেড়ে সাব-সাহারান আফ্রিকায় চলে যান৷ তার মতো হাজার হাজার টিউনিশীয় মাতৃভূমির অস্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছেন৷ তবে অনেকেই ইউরোপ বা উপসাগরীয় অঞ্চলের বদলে এখন আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন৷ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা দুই লাখ ২৬ হাজারের মতো যুবক টিউনিশিয়ায় বর্তমানে বেকার জীবনযাপন করছেন৷ 

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, স্নাতক ডিগ্রিধারী টিউনিশীয়দের মধ্যে ৭০ শতাংশ অন্য কোনো দেশে চলে যেতে আগ্রহী৷ আর তারা ঠিক কোথায় যেতে চান সেব্যাপারে ভালোভাবেই মনস্থির করে নিয়েছেন৷ 

বাগদিরি কখনোই ইউরোপে কাজের জন্য আসতে আগ্রহী ছিলেন না৷ কারণ ইউরোপে আসতে গেলে নানা ধরনের জটিল প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়৷ আর সেসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে ইউরোপে আসলে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় বলে মনে করেন তিনি৷  

সেই তুলনায় রুয়ান্ডাতে কাজের জন্য যাওয়া বাগদিরির জন্য অনেক সহজ ছিল৷ গৃহযুদ্ধ এবং গণহত্যার ভয়াবহ অতীত পেছনে ফেলে দেশটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে৷ 

‘‘রুয়ান্ডা পরিষ্কার এবং সুসংগঠিত৷ এখানকার ডিজিটাল কাঠামোও ভালো৷ সবমিলিয়ে ভালোই লাগছে,’’ বলেন তিনি৷ 

টিউনিশিয়ার সতের লাখের মতো মানুষ অন্যদেশে কাজ করছেন৷ তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি ইউরোপে রয়েছেন৷ বর্তমানে অবশ্য আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি চীন, জাপান, সিঙ্গাপুর, তাইওয়ান এবং ভারতেও কাজের খোঁজে যাচ্ছেন টিউনিশীয়রা৷ 

এআ

ই/এফএস 


 

অন্যান্য প্রতিবেদন